1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Düsseldorf Pegida Demonstration Islamkritik Deutschland 8.12.
ছবি: picture-alliance/dpa/Caroline Seidel

ইসলামবিরোধী ‘পেগিডা’ আন্দোলন চমকে দিয়েছে জার্মানিকে

২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

আন্দোলনের সূচনা পূর্বের স্যাক্সনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন শহরে৷ সোমবার সেখানে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রখ্যাত সেম্পার অপেরা ভবনের সামনে বড়দিনের গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান৷ তবে ইস্যুটা এখন সারা জার্মানির৷

https://p.dw.com/p/1E95a

জার্মান আদ্যক্ষরগুলি মিলে ‘পেগিডা', যার অর্থ দাঁড়ায়: প্রতীচ্যের ইসলামিকরণের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমী ইউরোপীয়বর্গ৷ ইংরেজিতে ‘পেট্রিয়টিক ইউরোপিয়ানস এগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ অক্সিডেন্ট'৷ সোমবারই তাদের বিক্ষোভে সর্বাধিক মানুষ যোগদান করেন৷ এই পেগিডা আন্দোলনে সামিল কারা, তা ঠিক করে বলা সহজ নয়৷ বিশ্বব্যাপী ইসলামি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের পরে জার্মানির একাধিক শহরে সালাফি মতাদর্শীদের কার্যকলাপ থেকে শুরু করে জার্মানিতে ক্রমবর্ধমান শরণার্থীদের সংখ্যা; সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের সরকার ও প্রশাসন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ-অনুযোগ৷ এই সব অস্পষ্ট, আকারবিহীন ভীতি-আশঙ্কা-আকাঙ্খা ও হতাশা মিলে যে আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তা একদিকে খ্রিষ্টান ইউরোপ এবং অন্যদিকে বহিরাগত ইসলামকে খাড়া করে এক মানসিক দ্বন্দ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে৷

কিন্তু দ্বন্দ্ব যদি কোথাও প্রকট হয়ে থাকে, তবে তা দৃশ্যত জার্মান জনমানসেই: সোমবার ড্রেসডেন শহরেও চার হাজার মানুষ পাল্টা প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছেন৷ বন, কাসেল কিংবা ভুরৎসবুর্গ-এর মতো শহরে পেগিডার পক্ষে দু'শো মানুষ পথে নামলে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ পেগিডার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন: গোটা জার্মানিতে মোট ২০ হাজার, তাদের মধ্যে ১২ হাজার শুধুমাত্র মিউনিখে৷ মিউনিখ শহরে পেগিডা-বিরোধীদের শালুতে লেখা ছিল: ‘‘জায়গা দাও – উদ্বাস্তুরা স্বাগত''৷

Anti-Pegida-Kundgebung in Dresden
পেগিডা-বিরোধীদের একটি ‘প্যাকাড’ছবি: picture-alliance/dpa/Kay Nietfeld

বাভারিয়া যেমন একদিকে জার্মানির সর্বাপেক্ষা রক্ষণশীল প্রদেশগুলির মধ্যে গণ্য, অপরদিকে তা জার্মানির সমৃদ্ধতম রাজ্যগুলির মধ্যে পড়ে৷ মিউনিখ সম্ভবত জার্মানির সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী শহর৷ কাজেই এখানকার মানুষ দৃশ্যত ক'জন শরণার্থী এসে তাদের সমৃদ্ধিতে ভাগ বসাল, তা নিয়ে চিন্তিত হবার কারণ দেখেন না৷ কাজেই মিউনিখের মেয়র ডিটার রাইটার জনতাকে বলেছেন: ‘‘আমাদের এখানে সব বর্ণ, জাতি এবং ভাষার মানুষের স্থান আছে; সব ধর্ম ও ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য স্থান আছে: যাঁরা শুক্রবার মসজিদে যান, যাঁরা শনিবার সিনাগগে যান এবং যাঁরা রবিবার গির্জায় যান – অথবা যাঁরা বাড়িতে থাকতেই ভালোবাসেন৷''

নেতাদের মাথাব্যথা

জার্মানির রাজনৈতিক তথা ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ পেগিডা পথ আন্দোলনের তাৎপর্য তথা সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন না হলেও, কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত বৈকি৷ জার্মানির প্রটেস্টান্ট গির্জার প্রধান হাইনরিশ বেডফোর্ড-স্ট্রোম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ‘‘উদ্বাস্তুদের প্রতি যাতে ভালো আচরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য খ্রিষ্টানদের সব কিছু করা উচিত৷'' স্যাক্সনি রাজ্যের প্রটেস্টান্ট বিশপ ইয়োখেন বোল বলেছেন, পেগিডা সমর্থকরা ক্রিসমাস ক্যারল গেয়ে ‘‘একটি খ্রিষ্টীয় প্রতীক ও একটি খ্রিষ্টীয় প্রথার'' অপব্যবহার করেছেন৷

ফেডারাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস দেমেজিয়ের পেগিডা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অশুভ হিসেবে গণ্য করার বিপক্ষে৷ অপরদিকে সাবেক চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার, যিনি এককালে স্যাক্সনির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনি চান যে, সব সাধারণ, ভদ্র-সভ্য নাগরিক পেগিডা ব়্যালিগুলির বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ান৷ পূর্ব জার্মানির টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের সদ্যনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী, বামদলের বোডো রামেলো কিন্তু বলেছেন, ‘‘দামি জামা-কাপড় পরা নাৎসিদের প্রতি আমাদের কিছু বলার নেই''৷

অপ্রিয় জনপ্রিয়তা?

ইউগভ সংস্থার সর্বাধুনিক জরিপ অনুযায়ী জার্মানির এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পেগিডার প্রতি সহানুভূতিশীল৷ ওদিকে আগামী বছর জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থী শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে দু'লক্ষে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে – যদিও এর সঙ্গে ‘‘ইসলামিকরণের'' কোনো সম্পর্ক নেই, কেননা বর্তমানে জার্মানিতে যে সব উদ্বাস্তুরা আসছেন, তাঁদের অধিকাংশই সিরিয়া থেকে আসা খ্রিষ্টান৷

বলতে কি, পেগিডার প্রতিবাদ সাধারণভাবে উদ্বাস্তুদের আগমন নিয়েই: ‘‘জার্মানি অভিবাসনের দেশ নয়,'' এই সোমবারেও এ কথা বলেছেন পেগিডা নেতা লুট্স বাখমান৷ হয়ত আসল সত্য হলো এই যে, জার্মানি যে আজ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে ইউরোপের সেরা দেশ, এবং অভিবাসীদের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য – সেই অযাচিত সম্মানে সাধারণ জার্মানরা হয়ত কিছুটা সচকিত এবং বিড়ম্বিত৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি, এপি)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান
স্কিপ নেক্সট সেকশন সম্পর্কিত বিষয়
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

কলকাতায় সালামের বই এনেও বিক্রি করতে পারলেন না প্রকাশক

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান