ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পালটাপালটি হামলা | বিশ্ব | DW | 26.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পালটাপালটি হামলা

তেলআভিভের কাছের একটি বাড়িতে সোমবার রকেট আঘাত হানার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল৷ এদিকে মঙ্গলবার দুই দিক থেকেই নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷

মঙ্গলবার ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন দুই পক্ষই একে অপরের উপর নতুন করে রকেট হামলা শুরু করেছে৷ ইসরায়েল দাবি করেছে, শেষ রাতে গাজা থেকে ৩০টি রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের হামাস৷ জবাবে ইসরায়েলও ১৫টি রকেট ছুড়েছে, যার মধ্যে হামাসের একটি কম্পাউন্ডও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়৷ ইসরায়েল এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা প্রয়োজনমত সামরিক কার্যক্রম বাড়াবে৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রতিক্রিয়া খুব, খুবই শক্তিশালী ছিল৷'' ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় বেতারে দেয়া আরেক ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘ হামাসের জানা থাকা উচিত যে আমরা গাজায় ঢুকে পদক্ষেপ নিতে কোনো কার্পণ্য করব না৷''

যেভাবে শুরু

সোমবার সকালে ফিলিস্তিনের গাজা থেকে ইসরায়েলের তেল আভিভে দূরপাল্লার একটি রকেট হামলা চালানো হয়, যা একটি বাড়িতে আঘাত হানে৷ এতে সাতজন আহত হয়৷ জবাবে পালটা হামলা  চালায় ইসরায়েলও৷ এসময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করছিলেন৷ সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ইসরায়েল এটি সহ্য করবে না৷ আমি এটি সহ্য করব না৷'' তাঁকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষার সম্পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে৷

হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়ার কার্যালয় লক্ষ্য করেও ইসরায়েল সোমবার হামলা চালায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷ তবে এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না৷

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় মিশরের মধ্যস্থতায় এই হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় রাশ টানার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছিল হামাস৷ কিন্তু রাতে  গাজা থেকে নতুন করে আরো ৩০টি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী৷ ইসরায়েলও নতুন করে ১৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে৷ দেশটির নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো৷

গোলান মালভূমিকে ট্রাম্পের স্বীকৃতি

এদিকে বিরোধপূর্ণ গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের সার্বভৌম ভূমি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি পত্রে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালেই এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন তিনি৷ ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সিরিয়ার কাছ থেকে এই ভূমি দখল করে ইসরায়েল৷ ১৯৮১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিজেদের বলে দাবি করে আসলেও তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি৷ যুক্তরাষ্ট্রও বরাবরই এই বিষয়ে চুপ ছিল৷ সেখান থেকে সরে এসে ট্রাম্পের এই স্বীকৃতি দেশটির পররাষ্ট্রনীতির বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে৷

যে কলম দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণাপত্রটিতে স্বাক্ষর করেছেন সেটি তিনি নেতানিয়াহুর হাতে দিয়ে বলেন, ‘‘এটি ইসরায়েলের জনগণকে দিবেন৷'' জবাবে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইসরায়েল এর আগে কখনও এত ভাল বন্ধু পায়নি৷

তবে এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতার উপর ভয়ংকর এক আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে সিরিয়া৷ এই অঞ্চলকে নিজেদের হিসেবে পুনর্দাবি করার অধিকার আছে বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তারা৷

এদিকে, গোলান নিয়ে সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ৷ ১৯৮১ সালে নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের আইন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগকে অবৈধ পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল৷

ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে উপসাগরীয় রাষ্ট্র সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার এবং কুয়েতও৷ সৌদি আরব এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘এটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷'' এই ঘোষণাকে জাতিসংঘের চার্টার ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিষ্কার বরখেলাপ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে৷ কুয়েত, বাহরাইনও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে৷ অন্যদিকে কাতার গোলান মালভূমির দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মানার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহবান জানিয়েছে৷ 

এফএস/জেডএইচ (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন