ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজায় নিহত অন্তত ১০ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজায় নিহত অন্তত ১০

শনিবার সকাল গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের অন্তত ১০ জন মারা গেছেন৷ তাদের আটজনই শিশু, আর বাকি দুইজন নারী৷ এর আগে শনিবার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হামাসও৷

এদিকে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা হ্যাডি আমর উত্তেজনা নিরসনে তেল আভিভে পৌঁছান৷ শনিবার প্রথমে জেরুসালেমে ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে এবং পরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে৷ তবে, তার আগেই ইসরায়েলের এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে৷

শনিবার পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও সাত লাখ ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুত হওয়ার স্মরণে ১৫ মে দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা নাকবা দিবস বা বিপর্যয়ের দিন হিসেবে পালন করে আসছে৷

শনিবার সকাল থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল৷ এক পর্যায়ে গাজা শহরের একটি শরণার্থী ক্যাম্পের কাছের তিনতলা ভবনে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়৷ এতে আট শিশু ও দুই নারী প্রাণ হারান৷ এই হামলায় স্ত্রী ও সন্তান হারানো মোহাম্মদ হাদিদি জানান তার স্ত্রী ও পাঁচ শিশু স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে গিয়েছিলেন৷ তার স্ত্রী ও ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সি তিন শিশু মারা গেছে৷ ১১ বছর বয়সি একটি শিশুও নিখোঁজ৷ শুধু পাঁচ বছর বয়সি সন্তান ওমর বেঁচে আছে৷

জামাল আল নাজি নামে গাজার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, হামলার আগে ইসরায়েল কোন ধরনের সতর্ক বার্তা দেয়নি৷

হামাস জানিয়েছে, এই হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ ইসরায়েলে পাল্টা রকেট ছুঁড়েছে৷ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে শনিবার সকাল সাতটা পর্যন্ত ২০০ রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস৷ এর ১০০টিই দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুখে দিয়েছে৷

 

শনিবার বিমান হামলায় গাজায় ১২তলা একটি ভবনও গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল৷ ভবনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস, কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল৷ হামলার আগেই সতর্কবার্তা পেয়ে ভবনটি খালি করায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি৷

এখন পর্যন্ত চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ১৩০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন৷ অন্যদিকে হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলে মারা গেছেন আটজন৷

সংঘাত ছড়িয়েছে পশ্চিম তীরেও

এদিকে, শুক্রবার পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনতা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে৷ গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হেব্রন ও নেবলুস শহরে৷ এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হন৷

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরায়েলের হামলাকে ‘নিষ্ঠুর ও সাজানো হত্যাকাণ্ড' হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের রাজনৈতিক সহায়তাও চেয়েছেন তিনি৷

প্যালেস্টাইন রেড ক্রস গ্রুপ জানিয়েছে, পশ্চিম তীর ও জেরুসালেমে শনিবার সকালে ১৭৫৭ জন আহত হয়েছেন৷ ইসরায়েলের পুলিশ দাবি করেছে সহিংসতা উস্কানিদাতাদের গ্রেপ্তারের জন্য কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে অভিযান চালায়৷ এসময় সহিংস প্রতিরোধে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন৷

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেছেন, গাজায় চলমান অভিযান ‘এখনও বন্ধ হয়নি'৷

সংঘাত কি মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে?

এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ফিলিস্তিনপন্থীদের সঙ্গেও ইসরায়েলের সংঘাত বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ গাজায় হামলার প্রতিবাদ জানাতে জর্ডান ও লেবাননের ইসরায়েল সীমান্তে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জর্ডানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংযোগ স্থাপনকারী অ্যালেনবি সেতুর দিকে কয়েকশো জর্ডানিয়ানকে ছুটে যেতে দেখা যায়৷

লেবাননের কয়েকজন বিক্ষোভকারী এমনকি ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহর মেটুলে প্রবেশ করতেও সমর্থ হন৷ ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে৷ এতে একজন লেবানিজ মারা গেছেন৷

সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে সিরিয়াও৷ শুক্রবার দেশটি থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তিনটি রকেট হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী৷ এরমধ্যে দুইটি পড়েছে গোলান হাইটে, অন্যটি সিরিয়ার ভেতরেই ভূপাতিত হয়েছে৷ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি৷

সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই পক্ষকেই অস্ত্র সংবরণের আহ্বান জানিয়েছে৷ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে বাহরাইন৷

মরক্কো ঘোষণা করেছে তারা পশ্চিম তীর ও গাজায় ৪০ টন খাদ্য, ঔষধ ও কম্বল পাঠাবে৷ মিশর ইসরায়েল ও হামাস নেতাদের সঙ্গে অস্ত্রবিরতির আলাপ শুরু করেছে, যদিও কোন সমঝোতায় এখনও পৌঁছানো যায়নি৷

পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া 

উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা হ্যাডি আমর শুক্রবার তেল আভিভে পৌঁছান৷ এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন৷ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীলদের মধ্যে যা নিয়ে বিতর্কের জন্ম হয়েছে৷

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ শুক্রবার নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেছেন৷ গাজা থেকে রকেট হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অঞ্চলটিতে বেসামরিক নাগরিক হতাতহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷

এফএস/এআই (এপি,এফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়