ইশতাহারের ভালো কথা এবং ভোটের অধিকার | আলাপ | DW | 26.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

ইশতাহারের ভালো কথা এবং ভোটের অধিকার

নির্বাচনের আগে যে কথা বলে ভোট চাওয়া হয়, তারই একটি লিখিত রূপ ইশতাহার৷ বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতাহার ও শ্লোগান ছিল একই সঙ্গে আকর্ষণীয় এবং চিন্তাকর্ষক৷

‘দিন বদল' এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ' শব্দ দু'টি মানুষের চেতনা জগতকে নাড়াতে সক্ষম হয়েছিল৷ মানুষ সাড়াও দিয়েছিল, ভোট দিয়ে বিপুলভাবে বিজয়ী করেছিল আওয়ামী লীগকে৷ ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি বা ইশতাহারের কতটা বাস্তবায়ন করেছে বা করার চেষ্টা করেছে? সব কিছু বাস্তবায়ন করেছে বা কিছুই করেনি,এমন সরলভাবে বলে দেওয়ার সুযোগ নেই৷ নির্বাচনি ইশতাহার প্রস্তুত করার সময়ই এমন কৌশল অবলম্বন করা হয়, যার প্রেক্ষিতে সরকার বলে দিতে পারেন ‘সব বাস্তবায়ন' করেছি৷ সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করলে হয়ত একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে৷

১. প্রথমেই ইতিবাচক একটি দিকের কথা উল্লেখ করছি৷ বলছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা৷ ২০০৮ সালের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ এটা ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের দুরদৃষ্টিসম্পন্ন বিচক্ষণতা৷ তরুণ ভোটার বা প্রথমবারের ভোটারদের প্রায় শতভাগ সমর্থন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ৷ আনন্দের সংবাদ যে, আওয়ামী লীগ এই প্রতিশ্রুতিটি রেখেছে৷ বহু প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে৷ 

২. বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে৷ মাথাপিছু প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে৷ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে৷ সুতরাং দিন বদল হয়েছে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে– এ দাবি শেখ হাসিনা সরকার করছেও৷ প্রতি পরিবারে একজনের চাকরির নিশ্চয়তা দিয়েছিল, তা-ও নাকি বাস্তবায়ন করা হয়েছে৷

আরো কিছু পরিসংখ্যান আবার এই চিত্রকে বড় রকমের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে৷ আইএলও'র সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, তরুণ বেকারের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে৷ ২০১০ সালে তরুণ বেকার ছিল ৬.৪%৷ ২০১৭ সালে তা হয়েছে ১২.৮%৷ সত্যি যদি কর্মসংস্থান হয়ে থাকে, তবে বেকারের সংখ্যা বাড়ার কথা নয়, কমার কথা৷ আইএলও'র পরিসংখ্যান বলছে ২৭.৪% তরুণ নিষ্ক্রিয়, তাঁরা পড়ালেখা বা প্রশিক্ষন বা কোনো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়৷ এর আগে সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বের হয়ে এসেছিল, নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমেছে, বেড়েছে বিত্তবানের আয়৷ ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যান অনুযায়ী মানুষের দিন বদল হয়েছে, তা বলার সুযোগ নেই৷ 

৩. সরকারের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে৷ এ কথা সত্যি যে, এক্ষেত্রে অনেক কিছু হয়েছে৷ ডিজিটাল মাধ্যমে এখন অনেক তথ্য পাওয়া যায়৷ যদিও ইন্টার্নেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে৷ বিশেষ করে গ্রাহক পর্যায়ে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় অনেক বেশি৷ ভারতে ৩৯৯ রুপি, অর্থাৎ বাংলাদেশি ৪৮০ টাকায় প্রতিদিন দেড় জিবি ডাটা এবং সমগ্র ভারতে যে কোনো অপারেটরে কথা বলা যায়, বাড়তি কোনো টাকা না দিয়ে৷ এর মেয়াদ ৮৪ দিন৷ বাংলাদেশে ৫ জিবির মূল্য ৬২৫ টাকা, মেয়াদ ২৮ দিন, কলরেট আলাদা, ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে যা বেমানান৷ সফটওয়্যার তৈরি বা রপ্তানি বা দক্ষ মানবসম্পদ, কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি৷ 

৪. নির্বাচনি ইশতাহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল৷ বাস্তবে দুর্নীতি বহুগুণ বেড়েছে৷ দেশ থেকে অবাধে টাকা পাচার হয়েছে৷ রিজার্ভ চুরি বা আর্থিকখাতের ভয়ঙ্কর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি৷

Bangladesh Journalist Golam Mortoza

গোলাম মোর্তোজা, সম্পাদক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব

প্রতিশ্রুত সুশাসন কল্পনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে৷ ইশতাহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি৷ উল্টো ‘আদিবাসী' নয় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' বলতে হবে,আইন করেছে৷ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে৷ সেখানে রেন্টাল কুইক রেন্টালের নামে ভয়াবহ দুর্নীতি হচ্ছে৷

সবচেয়ে বড়ভাবে ইশতাহারের ব্যতিক্রম ঘটেছে মানুষের ভোটের অধিকারের ক্ষেত্রে৷ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে, ২০১৪ সালে বিনাভোটের নির্বাচন হয়েছে

৫. ক্ষমতার বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহার পর্যালোচনা করলেও, চিত্র ভিন্ন কিছু হবে না,খারাপ ছাড়া৷ আগামী নির্বাচন নিয়ে ভালো ভালো কথা লেখা থাকবে সব দলের ইশতাহারে৷ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আসে কিনা, অপেক্ষা করতে হবে৷ 

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন