ইরান প্রশ্নে স্পষ্ট বৈশ্বিক মেরুকরণ | বিশ্ব | DW | 04.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইরান

ইরান প্রশ্নে স্পষ্ট বৈশ্বিক মেরুকরণ

গেল সপ্তাহ জুড়ে ইরানে যে বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে, ২০০৯ সালের পর আর এতটা দেখা যায়নি৷ এই বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশটির বর্তমান সরকারকেই উৎখাত করার দাবি তুলেছে কোনো কোনো দেশ৷

আপাতভাবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মনে হলেও এই আন্দোলন নিয়ে চলছে নানা রকম খেলা৷ প্রথমত, দেশের ভেতরে বিক্ষোভকারীরা যেমন পুরো সপ্তাহ জুড়ে উত্তাল ছিল, তেমনি পরবর্তীতে সরকার সমর্থকদেরও মিছিল দেখা গেছে৷ শুধু তাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্লকগুলোও নিজেদের মতো করে সক্রিয় ছিল৷

দ্বিতীয়ত, বহির্বিশ্বে আন্দোলনকারীদের জন্য সহমর্মিতা দেখা গেছে৷ কেউ কেউ হাসান রুহানির সরকারকেই হটিয়ে দেবার দিবাস্বপ্ন দেখছে, কেউ কেউ আবার বাইরের ইন্ধন যেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে৷

 

সরকার পতনের দাবি

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তরাষ্ট্র৷ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো নববর্ষের টুইটেই সরকার পতনের ডাক দিয়ে দিয়েছেন৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারিয়েইন তাবাতাবাই বলেন যে, এ ধরনের ডাক পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে৷

‘‘ইরানের জনগণের কি করা উচিত সেটা না বলে, আমরা বরং ইরান সরকারকে জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানাতে পারি৷'' বলছিলেন তিনি৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল সিডিইউ-এর সংসদ সদস্য নর্বার্ত রৎগেন বলেন, এ ধরনের লাগামহীন বক্তব্যের কারণে তেহরান দাবি করতেই পারে যে, আন্দোলনে বাইরের ইন্ধন রয়েছে৷

ঠিক এমন মন্তব্যই করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি৷ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইরানের শত্রুরাই' এ ঘটনা ঘটাচ্ছে৷ এটা ইসলামী শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

এমন দাবি করেছে তুরস্কও৷ তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সিএনএন টার্ককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের যে কোনো ইন্ধনকে সমর্থন করে না তুরস্ক৷

জার্মান সংসদ সদস্য রৎগেন মনে করেন যে, এই ইস্যুতে ট্রাম্প বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন৷ ‘‘ইরানের বিরুদ্ধে সুন্নীদের ক্ষেপিয়ে তোলার সব চেষ্টাই করছেন তিনি৷''

সতর্ক ইউরোপীয় ইউনিয়ন

শুধু জার্মানিই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে খুব সতর্ক মন্তব্য করছে৷ এই ব্লকের বৈদেশিক বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেন, ‘‘ইরানের বিক্ষোভ পর্যালোচনা করছে ইইউ৷ সহিংসতা কিংবা মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়৷'' তিনি সরকার বা বিরোধীপক্ষ সবাইকেই সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন৷

জার্মানিরও বক্তব্য অনেকটা এমনই৷ বুধবার এক সরকারি বক্তব্যে বিরোধীদের সঙ্গে ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়৷

এদিকে, ইউরোপের এমন অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছে ইসরায়েল৷ নতুন বর্ষের বক্তব্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘দুঃখজনক হলেও সত্য, যখন ইরানের সাহসী তরুনরা রাস্তায় মার খাচ্ছে, তখন ইউরোপের সরকারগুলো বসে বসে দেখছে৷ ওরা স্বাধীনতা চায়৷ অন্যায়ের অবসান চায়৷''

Syrien Hezbollah und syrische Flaggen in Qalamoun

সিরিয়া ও লেবাননে শিয়া প্যারামিলিটারি দল হিজবুল্লাহকে মদদ দিচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিধাবিভক্তি

কাতার ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বাকি প্রায় সব দেশই ইরানের সরকারবিরোধীদের সমর্থন করছে৷ এই বিভক্তি মূলত এ অঞ্চলে ক্ষমতার ভূ-রাজনৈতিক কৌশলকেই প্রকাশ করে৷

তাদের মূল এজেন্ডা মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোকে ইরানের প্রভাবমুক্ত করা৷ তাদের দুশ্চিন্তার কারণ, সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকার, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের বর্তমান সরকারের প্রতি ইরানের মদত ও প্রভাব৷

তুরস্কের মতো কাতারও মনে করছে, এই অচলাবস্থার কারণ বৈদেশিক ইন্ধন৷

তবে আরব বসন্তের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান মরিয়া হয়েই চাইছে, এই আন্দোলন আর কোনোভাবেই যেন ডালপালা না মেলে৷

জেডএ/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন