ইরানে কেন ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না মানুষ | বিশ্ব | DW | 29.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

ইরানে কেন ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না মানুষ

ইরানে এখনো সিংহভাগ মানুষ ভ্যাকসিন পাননি। কেন তৈরি হলো এমন পরিস্থিতি?

গত ছয় মাসে ইরানে করোনায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ মারা গেছেন।

গত ছয় মাসে ইরানে করোনায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ মারা গেছেন।

গত শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেছেন, ''ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের প্রচারের ফলে খুব তাড়াতাড়ি দেশের ৭০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেয়া সম্ভব হবে।'' কিন্তু এই 'খুব তাড়াতাড়ি' মানে কবে? সরকারি হিসাব বলছে, ইরানের মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন। আর ১৮ শতাংশ মানুষ টিকার একটা ডোজ পেয়েছেন।

ইরানের টিকা দেয়ার কর্মসূচি অনেক পরে শুরু হয়েছে। তার কারণ কট্টরপন্থিরা বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানির বিরোধিতা করেছেন। ইরানের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের মধ্যে একজন। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্টকে খোলা চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, অ্যামেরিকা ও যুক্তরাজ্য থেকে ভ্যাকসিন আনা উচিত নয়। কারণ এই দুই দেশ সবসময় এমন মনুষ খোঁজে, যাদের গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা যায়। এই খোলা চিঠিতে ২৫ হাজার চিকিৎসক সই করেছিলেন।

পরের ঘটনা

ওই চিঠিতে জাতিসংঘের কোভ্যাক্স কর্মসূচিরও সমালোচনা করা হয়। যুক্তি ছিল, জাতিসংঘকে বিশ্বাস করা যায় না। কোভ্যাক্স কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ৪২ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন পায়। কিন্তু সেসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অন্য কট্টর নেতারা দেশে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের দাবি তোলেন। তারা তখন একথাও বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস হলো অ্যামেরিকার বায়োলজিক্যাল অস্ত্র। দেশের ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই স্পষ্ট করে দেন, তিনি অ্যামেরিকা ও যুক্তরাজ্য থেকে ভ্যাকসিন আমদানি চান না। 

তাই গত সপ্তাহে যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইরান ফাইজারের কাছ থেকে ২৪ লাখ এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের কাছ থেকে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়েছে, তখন অনেকেই অবাক হয়েছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, গর্ভবতী নারী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই ভ্যাকসিন পাবেন। তবে কট্টরপন্থিরা কেন এতদিন ধরে ভ্যাকসিনের আমদানি বন্ধ করে রেখেছিলেন, সেই প্রশ্ন কেউ মন্ত্রীকে করেননি।

করোনায় মৃত্যু

করোনা নিয়ে ইরানের মানুষের একটা বড় অংশ ক্রুদ্ধ ও হতাশ। এখন করোনার পঞ্চম ঢেউ শেষ হওয়ার পথে। করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। এখনো প্রতিদিন গড়ে তিনশ মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, করোনায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু এই সংখ্যা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। করোনার পরীক্ষাও খুব কম হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য হলো, গত ছয় মাসে এক লাখ ১০ হাজার মানুষ করোনায় মারা গেছেন। সরকার সেরকম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। করোনার বাড়াবাড়ির কথা প্রথমে অস্বীকার করেছে সরকার, পরে তাকে গুরুত্ব দেয়নি। অনেক দেরিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হয়েছে এবং নিভৃতবাসের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

চীনের ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাও করেনি ইরান। তুরস্ক ও আমিরাত চীনকে এই ব্যাপারে সাহায্য করেছে, ইরান নয়।

দেশের ভ্যাকসিন

ইরানে কট্টরপন্থিরা দাবি করেছে, দেশে তৈরি ভ্যাকসিন দিতে হবে। বারাকাত ইনস্টিটিউট এই দয়িত্ব পায়। এই গোষ্ঠীর মাধ্যমেই ইরানের অর্থনীতির একটা বড় অংশকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ করে ধর্মীয় নেতার অফিস।

১২ কোটি ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য তাদের একশ কোটি ডলার দেয়া হয়েছে। এই গরমকালের মধ্যে পাঁচ কোটি ডোজ হাতে পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এক কোটি ৪০ লাখ ডোজ পাওয়া গেছে বলে সংস্কারবাদী সাবেক এমপি আলি তাজেরনিয়া একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে বলেছেন। তবে বর্তমানে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবের এই দেরির জন্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞাকেই দায়ী করেছেন।

শবনম ভন হেইন/জিএইচ