ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞার হুমকি | বিশ্ব | DW | 22.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইরান

ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞার হুমকি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সোমবার ইরানকে ১২টি শর্ত পূরণ করতে বলেছেন৷ নইলে দেশটিকে ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপের' মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুমকি দেন তিনি৷

শর্তগুলোর মধ্যে আছে, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি স্থগিত করা, সিরিয়া ও ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির পরিসর ছোট করা এবং হামাস, হেজবোল্লাহ ও প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ সংগঠনকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করা৷

যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে দেয়া বক্তব্যে পম্পেও এসব শর্তের কথা উল্লেখ করেন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর এই বক্তব্য রাখলেন পম্পেও৷ ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের উপর চুক্তি পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা আবার বলবৎ করে যুক্তরাষ্ট্র৷ এছাড়া ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়৷

পম্পেও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘যদি (ইরান) সরকার তার বর্তমান অগ্রহণযোগ্য ও অলাভজনক নীতি থেকে সরে না আসে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার মাত্রা বাড়তেই থাকবে৷’’

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা না করতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকেও সতর্ক করে দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

প্রতিক্রিয়া

পম্পেওর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি বলেছেন, তাঁর দেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো অধিকার ওয়াশিংটনের নেই৷ ‘‘বিশ্বের সব দেশই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা চায়,’’ বলেন তিনি৷ এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘ইরান ও বিশ্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার তুমি কে?’’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ পম্পেওর পরিকল্পনাকে ‘পুরনো অভ্যাসে প্রত্যাবর্তন’ বলে মন্তব্য করেন৷ এক টুইটার পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ নীতি আর দুর্নীতিপরায়ন বিশেষ স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত’ হওয়ার অভিযোগ আনেন৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, পম্পেও তাঁর বক্তব্যে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার মাধ্যমে ঐ অঞ্চলে কীভাবে শান্তি ফিরে আসবে তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ ইরান যতদিন চুক্তির শর্ত মেনে চলবে ততদিন ইইউ চুক্তিতে থাকবে বলেও জানান তিনি৷

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেছেন, পম্পেওর বক্তব্যে তিনি অবাক হননি৷ তবে এই মুহূর্তে ইরান চুক্তির বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷ পম্পেওর সঙ্গে আলাপ করতে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন যাবেন বলেও জানান জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

এদিকে, ‘ব্রুকিংস সেন্টার ফর মিডল ইস্ট পলিসি’র সুজানে ম্যালোনে বলেছেন, ‘‘পম্পেও কোনো কৌশল তুলে ধরেননি৷ তার পরিবর্তে তিনি তাঁর কিছু চাওয়ার তালিকা তুলে ধরেছেন, যার একমাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে ইরানে সরকার পরিবর্তনের ডাক৷’’

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন