ইরানের উপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা | বিশ্ব | DW | 09.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

ইরানের উপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

পেট্রোলিয়ামের পর ইরান থেকে ধাতু আমদানির উপরেও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন৷ ইরান পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন না করেও নতুন কার্যকলাপ শুরু করছে৷ ইউরোপ দোটানায় পড়েছে৷

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমাজের পরমাণু চুক্তি বাতিল করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ এক বছর আগে তিনি একতরফাভাবে এই চুক্তি বাতিল করেন৷ তবে বাকি স্বাক্ষরকারী দেশগুলি চুক্তিটিকে চালু রাখার অঙ্গীকার করায় তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য গোটা বিশ্বের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন৷

তারই আওতায় ইরানের পেট্রোলিয়াম রপ্তানি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন৷ যে ৮টি দেশ এ ক্ষেত্রে কিছুদিনের ছাড় পেয়েছিল, সম্প্রতি তার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে৷ ফলে ইরানের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস বন্ধ হয়ে গেছে৷ বুধবার ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সে দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস বন্ধ করতে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে৷ এর আওতায় ৯০ দিন পর থেকে ইরানের কাছ থেকে এই সব পণ্য কিনলে যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন৷ ফলে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ধাতু রপ্তানির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ সেইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে৷

ওয়াশিংটন থেকে প্রবল চাপের মুখে ইরান পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক সমাজের সহায়তা চাইছে৷ বাকি দেশগুলি ইরানকে ট্রাম্প প্রশাসনের রোষ থেকে রক্ষা না করলে সে দেশকে বাধ্য হয়ে অন্য পথে হাঁটতে হবে – এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান৷ এই মুহূর্তে পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন না করলেও ইরান পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা করেছে৷ ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, আজই পরমাণু চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে না৷ তবে তিনি জানিয়েছেন, ৬০ দিনের মধ্যে ইরান নির্দিষ্ট মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া আবার শুরু করবে৷ সাধারণত পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এমন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়৷ এই পদক্ষেপও চুক্তির আওতায় পড়ে৷

ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত শুধু নিষেধাজ্ঞা ও মতবিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না৷ গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা করেছে৷ ইরান পারস্য উপসাগরে হোরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবার হুমকি দিয়েছে৷ উল্লেখ্য, গোটা বিশ্বে সমুদ্রপথে পেট্রোলিয়াম রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে৷ সেই এলাকা ইরানের বৈধ জলসীমার মধ্যে পড়ে৷

এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপ উভয় সংকটে পড়েছে৷ ইরান এ পর্যন্ত পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন না করায় জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন চুক্তির শর্ত মেনে চলার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে৷ কিন্তু ওয়াশিংটনের চাপে ইউরোপের অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়ছে৷ তবে তথাকথিত ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকেল' কাজে লাগিয়ে ইউরোপ ইরানের সঙ্গে ডলারে লেনদেন ছাড়াই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে৷ ফ্রান্স ও জার্মানি পরমাণু চুক্তি চালু রাখার অঙ্গীকার করেছে৷ তবে ইরানকে পরমাণু চুক্তি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে দুই দেশ৷ রাশিয়া ও চীনও পরমাণু চুক্তি কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করেছে৷ এই দুই দেশ ইউরোপের উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন