ইরানকে সাহায্যের বার্তা ট্রাম্পের | বিশ্ব | DW | 03.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

ইরানকে সাহায্যের বার্তা ট্রাম্পের

করোনায় গোটা বিশ্বে মৃত ৫৩ হাজার। অ্যামেরিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। মধ্য প্রাচ্যকে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সাহায্য চাইলে অ্যামেরিকা দিতে প্রস্তুত। অবশেষে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ''করোনা ভাইরাসে বিধ্বস্ত গোটা বিশ্ব। ইরানেও ভাইরাস প্রবল ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের কোনও সাহায্য প্রয়োজন হলে অ্যামেরিকা তা দিতে প্রস্তুত।'' যদিও এই মুহূর্তে করোনা মহামারিতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অ্যামেরিকা। আক্রান্ত প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ। মৃত ছয় হাজার।

ভিডিও দেখুন 02:33

করোনায় বদলে গেলো মুসলিম-ইহুদিদের দাফন

চীন থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ইউরোপে প্রথম আক্রান্ত হয়েছিল ইটালি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান। তখন থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ একাধিকবার দাবি তুলেছে, ইরানের ওপর থেকে আপাতত বিবিধ নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিক অ্যামেরিকা। ইরানের জনসাধারণও এই দাবি তুলেছে। বস্তুত, করোনায় বিধ্বস্ত ইরানও সরকারি ভাবে বেশ কয়েকবার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে তারা ঠিক মতো লড়াই করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের কাছে নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবি তুলেছিল মার্কিন কংগ্রেসও। কিন্তু লাভ হয়নি। ডনাল্ড ট্রাম্প কারও কথায় কান দেননি। বস্তুত, করোনা নিয়ে একাধিক বিষয়ে কথা বললেও ইরানের প্রসঙ্গে এতদিন মুখ খোলেননি ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রথম তিনি জানালেন, প্রয়োজনে করোনা মোকাবিলায় ইরানকে সাহায্য করবে অ্যামেরিকা। বিশ্ব রাজনীতিতে যা এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

তবে অ্যামেরিকার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে সব চেয়ে সঙ্কটজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গোটা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষে। মৃত্যু হয়েছে ছয় হাজার লোকের। তার মধ্যে সব চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নিউ ইয়র্কে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। গোটা বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যাও ৫০ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। ফলে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছবে, এখনও তা অনুধাবন করা যাচ্ছে না।

অ্যামেরিকার পার্লামেন্টও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন প্রস্তাব নিয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, করোনার সঙ্গে যুদ্ধে গোটা বিশ্বের সহযোগিতা প্রয়োজন। একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। বস্তুত, আগেই পৃথিবীর বেশ কিছু দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য একটি মঞ্চ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কোভিড-১৯ নিয়ে সমস্ত গবেষণা ওই মঞ্চে আলোচিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, দ্রুত এই ভাইরাসের হাত থেকে মানবসমাজকে মুক্তি দেওয়া। 

অ্যামেরিকায় করোনা ছড়িয়ে পড়েছে সব শ্রেণির ভিতরেই। পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বড় অংশ আক্রান্ত। তারই মধ্যে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সেনা বাহিনীর মধ্যেও। করোনা আতঙ্কে নৌসেনার এক কমান্ডার চিঠি লিখেছিলেন হেড কোয়ার্টারে। সেই চিঠি ফাঁসও হয়ে যায়। রাতারাতি ওই কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। অন্য দিকে, সেনাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মাস্কের চাহিদা পূরণের। চিকিৎসকদের বক্তব্য, সংক্রমিতদের সংস্পর্শে এসে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাইরাস আরও বেশি ছড়াচ্ছে। সে কারণেই সকলের মাস্ক পরা প্রয়োজন।

এ দিকে স্পেনের অবস্থাও ভয়াবহ। বৃহস্পতিবার আরও প্রায় এক হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে মানুষ কাজ হারাতে শুরু করেছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। হাসপাতালে রোগী ভর্তির জায়গা নেই। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। তবে ইটালির পরিস্থিতি আগের চেয়ে সামান্য হলেও ভালো বলে ঘোষণা করেছে সে দেশের প্রশাসন। আক্রান্তের সংখ্যা গত দুই দিন সামান্য হলেও কমেছে বলে তাদের দাবি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফের সতর্ক করেছে মধ্য প্রাচ্যকে। গত এক সপ্তাহে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলিকে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্য প্রাচ্যের অনেক দেশই আসল আক্রান্তের সংখ্যা জানাচ্ছে না। ইরাকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অনেক দিন ধরেই উঠছে। ইরাক জানিয়েছে ৭০০ জন আক্রান্ত হয়েছে সেখানে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ইরাকে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। পাকিস্তান, আফগানিস্তানের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

বিজ্ঞাপন