ইমরান খানের ‘বিপজ্জনক′ জয় | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

ইমরান খানের ‘বিপজ্জনক' জয়

পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে ‘পপুলিস্ট' ইমরান খান৷ তাঁর দলই পেতে যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়৷ কিন্তু এই জয় দেশটিকে ঠেলে দিয়েছে সবচেয়ে বড় বিভক্তির পথে৷

২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনে যে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খানই জয় পেতে যাচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিতই ছিল৷ তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আগেই হারিয়েছিলেন দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ৷

দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থাকা নওয়াজ এবং তাঁর মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন৷ তিনি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র নীতি থেকে সেনা প্রভাব দূর করতে চেয়েছিলেন, ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন৷

জঙ্গিবাদে মদদ এবং আফগান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে তাদের ব্যবহার করা নিয়েও সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ান নওয়াজ৷

ফলে, প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার নওয়াজের অনুপস্থিতিতে ইমরানের পথ ছিল অনেকটাই মসৃণ৷

তবে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়েও ১৩ জুলাই নওয়াজ ও তাঁর মেয়ে দেশে ফেরায় ক্ষীণ আশা দেখছিলেন অনেকেই৷ তাঁরা ভাবছিলেন নওয়াজের এই সাহসী পদক্ষেপে তাঁর মধ্য-বাম দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) ভালই লড়াই করবে৷ অনেকে দেখছিলেন জয়ের স্বপ্নও৷

কেউ কেউ ‘বিভক্ত পার্লামেন্টের' আশা করছিলেন, যেখানে এককভাবে কোনো দল সর্বময় ক্ষমতা পাবে না৷ কিন্তু প্রাথমিক ফলে দেখা গেল, ইমরানের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবায়ন হতে চলেছে৷

সামনে বন্ধুর পথ

এই বিতর্কিত জয় পাকিস্তানের জন্য আরো বিপদ বয়ে আনতে পারে৷ নওয়াজের দল নির্বাচনের আগে থেকেই লেভেল প্লেইং ফিল্ড না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিল৷ স্থানীয় গণমাধ্যমও ব্যাপক সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলেছে৷ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলওয়াল ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি- পিপিপি এরই মধ্যে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে৷ রাস্তায় নামতে পারে নওয়াজের পিএমএল-এনও৷

সবচেয়ে জনবহুল এবং ভোটের রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঞ্জাব প্রদেশে নওয়াজের এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে৷ পাঞ্জাব প্রদেশই নওয়াজ এবং সেনাবাহিনীরও ক্ষমতার মূল উৎস৷ ফলে সেই পাঞ্জাব প্রদেশেই সেনাবাহিনীকে এবার মুখোমুখি হতে হবে বড় চ্যালেঞ্জের৷

এই সুযোগে আরো বেশি মাথাচাড়া দিতে পারে জঙ্গিবাদ৷ নির্বাচনের দিন কোয়েটায় বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩০ জনেরও বেশি মানুষ৷ এর দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট৷ মাসের শুরুতে বেলুচিস্তানের মাস্টুং-এ আইএসের আরেক হামলায় ঘটে শতাধিক প্রাণহানি৷

অনেকেরই আশংকা, নওয়াজ বনাম সেনাবাহিনী দেশে যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে, তার সুযোগে আরো মাথাচাড়া দিতে পারে আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠন৷

Shams Shamil Kommentarbild App

শামিল শামস, ডয়চে ভেলে

‘পশ্চিম-বিরোধী ইমরান'

ইমরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছেন নওয়াজের সাথে কোনো ধরনের সমঝোতায় তিনি যাবেন না৷ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিবেন তিনি৷ ফলে দেশের বিভক্তি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশংকা রয়েছে৷

অন্যদিকে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত, তখন মার্কিন-বিরোধী মনোভাব আরো উসকে দেবেন ইমরান, রয়েছে এমন আশংকাও৷ পিটিআইয়ের এই নেতা বরাবরই আফগানিস্তান সংকটের জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করে আসছেন, এবং অনেকক্ষেত্রে তালিবানের সপক্ষে কথা বলেছেন৷

বিশ্বের জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ফিনানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স' এফএটিএফ জঙ্গিবাদে সহায়তার অভিযোগে পাকিস্তানকে দায়ী করেছে৷ সেপ্টেম্বরেই এফএটিএফের কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে পাকিস্তান, যা দেশটির অর্থনীতিকে ফেলতে পারে ঝুঁকির মুখে৷

ফলে এই মুহূর্তে শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমঝোতার নীতিই নেয়া উচিত পাকিস্তানের৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান সম্ভবত দুই ক্ষেত্রেই হাঁটতে যাচ্ছেন উলটো পথে৷

আপনার কোনো মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

শামিল শামস/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন