ইভ টিজিংয়ের শিকার মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় | আলাপ | DW | 11.07.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

ইভ টিজিংয়ের শিকার মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়

বাংলাদেশে ইভ টিজিং নতুন নয়৷ স্কুল-কলেজের মেয়েরা এর শিকার আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে৷ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান খান রতনের কথায়, এর ফলে মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি হয়ে চলেছে৷

ডয়চে ভেলে: মেয়েরা কেন ইভ টিজিং-এর শিকার হন? এতে তারা কী ধরনের মাসসিক সমস্যায় পড়েন?

ডা. জিল্লুর রহমান খান রতন: ইভ টিজিং হলো বিভিন্ন ধরনের উত্যক্ত করা৷ এটা মৌখিক এমনকি শারীরিকও হতে পারে৷ শারীরিক লাঞ্ছনা পর্যন্ত হতে পারে৷ এর কারণে অ্যাসিড সন্ত্রাসের ঘটনাও ঘটতে পারে৷ হত্যা পর্যন্ত সংগঠিত হতে দেখি আমরা৷ শারীরিকের পাশাপাশি মানষিক নির্যাতন হতে আমরা দেখে থাকি৷ সেক্সসুয়াল ভায়োলেন্সও আমরা হতে দেখে থাকি৷ এখানে মানসিক নির্যাতনের দু'টো দিক আছে৷ একটা তৎক্ষণিক এবং একটা দীর্ঘমেয়াদি মেয়াটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ স্কুল-কলেজগামী তরুণীরা এই ঘটনায় বেশি আক্রান্ত হন৷ অনেক মেয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হয়ে থাকেন৷ মানসিক নির্যাতনের শিকার মেয়েরা সবসময় একটা আতঙ্কে থাকেন৷ তার স্বাভাবিক কাজকর্ম-চলাফেরা এতে বিঘ্নিত হয়৷ এক পর্যায়ে মেয়েটা নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়৷ তার ঘুমের অসুবিধা-খাওয়ার অরুচি হয়৷ এক সময় সে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে যায়৷

কোন বয়সের ছেলেরা ইভ টিজিং করে? তাদের মানসিকতা কেমন?

বয়সে যারা তরুণ, বিশেষ করে ১৫ বছর থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত বয়সি তরুণরাই এই কাজ বেশি করে৷ বিশেষ করে যুবক যারা, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ তাদের বিরুদ্ধেই এই ধরনের অভিযোগ বেশি৷ যেসব ছেলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ বেশি, তাদের অনেকেই বেকার৷ তারা অনেক সময় সন্ত্রাসী বা মাস্তান হয়৷ তারা খুব খারাপ পরিবেশে অনেক সময় বড় হয়৷ কেউ তো বাড়িতে বাবার হাতে মাকে নির্যাতন হতে দেখেছেন৷ বস্তিতে বড় হওয়া তরুণদের মধ্যেও এই ধরনের প্রবণতা বেশি৷ মধ্যবয়সিদের মধ্যেও কেউ কেউ এই ধরনের কাজ করে থাকে৷ বইমেলা বা বাসের ভেতরে আমরা দেখি বিভিন্ন বয়সি পুরুষ এই ধরনের কাজ করছে৷

কোন বয়সের মেয়েরা বেশি ইভ টিজিং-এর শিকার হন? কোন জায়গাগুলোতে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে?

স্কুলে যারা যাচ্ছে, অর্থাৎ বয়সে কিশোরী – তারাই বেশি ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়৷ এমনকি কাস ফাইভের একটা মেয়েও ইভ টিজিং-এর শিকার হচ্ছে৷ হাইস্কুলের মেয়েরা তো আহরহ এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়ে৷ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরাও ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়৷ এর মানে এই নয় যে, মধ্যবয়সি নারীরা ইভ টিজিং-এর শিকার হচ্ছেন না৷ তাঁরাও হচ্ছেন৷ তবে কিশোরী বা তরুণীদের তুলনায় কম৷ স্কুল বা কলেজের সামনে বা পাবলিক প্লেসেও এটা হতে পারে৷ অনেক সময় কাউকে ফলো করে নির্জন জায়গায়ও হতে পারে৷

অডিও শুনুন 12:16
এখন লাইভ
12:16 মিনিট

‘ইভ টিজিং-এর ফলে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়’

কর্মস্থলে কি নারীরা ইভ টিজিং-এর শিকার হন?

কর্মস্থলে অন্যভাবে হয়৷ এটাতে আমরা মানসিক হয়রানি বলি৷ তাকে ভয় দেখানো বা পদোন্নতি হবে না এমনভাবে বস ভয় দেখান বা সহকর্মীরা নানা ধরনের কথা বলে তাঁকে বিরক্ত করতে পারেন৷ তাঁকে ব্লাকমেইল করতে পারে৷ অনেক সময় প্রলোভনও দেখানো হয় মেয়েদের৷ কর্মক্ষেত্রে হরহামেশাই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে৷ অনেক সময় ছোট ভুলের কারণে অনেক বেশি মানসিক পীড়ন তাঁকে দেয়া হয়৷

কর্মস্থলে ইভ টিজিং-এর কারণে মেয়েদের কর্মস্পৃহা কমে যায় কি?

সব সময় যদি কেউ মানসিক চাপে থাকে, তাহলে এক সময় সে আর চাপ নিতে পারে না৷ তখন তার কর্মস্পৃহা কমে যায়৷ মনোসংযোগে ঘাটতি দেখা দেয়৷ এক পর্যায়ে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে৷ সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং তার প্রডাক্টিভিটি কমে যায়৷ এতে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷

ইভ টিজিং-এর ভয়ে অনেকে বাইরে বের  হন না, তাদের মানসিক অবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

কেউ যদি এই ভয়ে ঘরের বাইরে বের না হয় তাহলে সে নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷ এখন কিন্তু এটা অনেক নিয়ন্ত্রণে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর৷ সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইভ টিজিং-এর ঘটনা কি ঘটে? ঘটে থাকলে সেটা কেমন?

বর্তমানে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার কারণে মোবাইল ফোনে সবাই সেটা ব্যবহার করেন৷ এতে হুমকি দেয়া বা থ্রেট দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে৷ এখানেও নারীর ইভ টিজিং-এর শিকার হওয়ার সুযোগ আছে৷

ইভ টিজিং-এর কারণে আত্মহত্যা করে থাকেন অনেক মেয়ে৷ তারা কি ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগেন?

কোনো মেয়ে যদি ইভ টিজিং-এর শিকার হয়, তখন তার আশ্রয়স্থল হলো তার পরিবার৷  এক্ষেত্রে কোনো মেয়ে এই ঘটনা পরিবারের কাছে বলতে গেলে অনেক সময় পরিবার বলে যে, অন্য কারো সঙ্গে এটা হয় না, তোমার সঙ্গে কেন এমনটা হলো? তখন মেয়েটি ভেঙে পড়ে৷ সে তখন আত্মহত্যার দিকে চলে যেতে পারে৷ এই ধরনের মেয়েদের মধ্যে মানসিক রোগ বেশি দেখা দেয়৷ তারা বিষনণ্ণতায় ভোগে৷ কোনো মেয়ে এই পরিস্থিতিতে পড়লে পরিবারকেই তাকে সহযোগিতা দিতে হবে৷ প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎকের কাছে নিয়ে যেতে হবে৷

ইভ টিজিং-এর কারণে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীর হার বেড়েছে না কমেছে?

এখন থেকে ৮-১০ বছর আগে ইভ টিজিং-এর হার যা ছিল তার চেয়ে অনেক কমেছে এখন৷ এখন এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি হয়েছে৷ মিডিয়াও এক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা পরিবারও এখন অনেক বেশি সচেতন৷ তবে এখনও এই ধরনের রোগী আসছে৷

আপনি কি ডা. জিল্লুর রহমান খান রতনের সঙ্গে একমত? জানান আমাদের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও