ইভিএম নিয়ে অনড় নির্বাচন কমিশন | বিশ্ব | DW | 23.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ইভিএম নিয়ে অনড় নির্বাচন কমিশন

বিতর্কের পরও এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে৷ নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছেন ছয়টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে৷

বাংলাদেশে এর আগে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে৷ তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম ইভিএম ব্যবহার করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷ তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছিলেন, শহরাঞ্চলের কিছু ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে৷ তবে ইভিএম-এর বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি'র প্রাধান্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ আরো কিছু রাজনৈতিক দল৷ বিএনপি'র উদ্যোগে ঢাকায় বৃহস্পতিবার এ নিয়ে একটি সেমিনারও হয়৷ সেখানে তারা দাবি করেন ইভিএম-এর মাধ্যমে  ভোটে কারচুপি সহজ৷ আর আওয়ামী লীগকে কারচুপির সুবিধা করে দিতেই ইভিএম ব্যবহারে অনঢ় রয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ তারা সেখানে একটি ভিডিও ডেমোনস্ট্রেশন করে৷

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয়টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ তবে ঠিক কোন ছয়টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে তা দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাইয়ের পর ২৮ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে বলে শনিবার জানিয়েছেন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ৷

অডিও শুনুন 02:56

‘ভারতেই এটা সফল হয়নি, বাংলাদেশে কিভাবে হবে’

বৃহস্পতিবার বিএনপির সেমিনারে দলটির তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক  রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, ‘‘ইভিএম-এ তিনভাবে কারচুপি হতে পারে৷ একটা নির্দিষ্ট সময় পর সব ভোট একটি প্রতীকে দেখানো সম্ভব৷ গণনার সময় কোনো একটি প্রতীকে ভোট বেশি দেখানো সম্ভব৷ আর তৃতীয় হলো আগে থেকেই ভোটের ফল নির্ধারণ করে দেয়া সম্ভব৷'' তবে কতটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করলে তা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট নয়৷

অডিও শুনুন 01:45

‘ইভিএম ব্যবহারের সমস্যা এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে’

বিএনপি'র নওগাঁ এলকার নেতা এবং বিএনপি থেকে নির্বাচন করার প্রত্যাশী ফজলে হুদা বাবুল বলেন, ‘‘ইভিএম একটি যন্ত্র এবং এর পিছনে মানুষ থাকে৷ তাই তিনি ইচ্ছে করলে এর মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করতে পারবেন৷ আর বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষিত নয়৷ ফলে তাঁকে এর ব্যবহার বোঝানো এত সহজ নয়৷ ভারতেই এটা সফল হয়নি, বাংলাদেশে কিভাবে হবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এবার শহরাঞ্চলে ব্যবহার হবে৷ শহরাঞ্চলেও অধিকাংশ ভোটার শিক্ষিত নয়৷ তাঁরা বস্তিবাসী ও খেটে খাওয়া মানুষ৷''

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইভিএম ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই৷ কিন্তু সমস্যা এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে৷ কারণ, এটা অংশীজনদের সামনে দেখানো হয়নি৷ উন্মূক্ত করা হয়নি৷ এক্সপার্ট নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়নি৷ এর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়নি৷''

তিনি বলেন, ‘‘এটা নিয়ে জনমত যাচাইয়ের ব্যবস্থাও হয়নি৷ তাছাড়া আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্যে অনেক সমস্যা আছে৷ সেগুলো সংশোধন না করে ইভিএম কেন? ইভিএম-এর ব্যবহার আমাদের সেনাবাহিনীকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, কারণ, তারা ইভিএম প্রক্রিয়ায় যুক্ত৷''

অডিও শুনুন 00:52

‘এটা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার একটা ব্যবস্থা’

এরই মধ্যে ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে ইভিএম প্রদর্শনী করেছে নির্বাচন কমিশন৷ এটাকে ডেমোনস্ট্রেশন বলা যায় কিনা, জানতে চাইলে  বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘‘এটা তো পাবলিক শো৷ সাধারণ মানুষ ওই শো-র মাধ্যমে কিভাবে এর সমস্যা বুঝবে? ওখানে এক্সপার্ট ও অংশীজনদের ডাকা হয়নি৷''

বৃহস্পতিবার সেমিনারে ইভিএম নিয়ে ডেমোনষ্ট্রেশন উপস্থাপনকারী বিএনপি'র তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক  রিয়াজুল ইসলাম  শুক্রবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইভিএম সোর্স কোডের মাধ্যমে চালিত হয়৷ এই সোর্স কোড পরিবর্তন করে দিলে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে এটা ব্যবহার করে ফলাফল পরিবর্তন করে দেয়া যায়৷ আর এটার ভিতরে একটা চিপ থাকে, এই চিপ পরিবর্তন করে দিলে নতুন চিপে যে ডাটা থাকবে, তাই দেখাবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে এ নিয়ে এটা রিপোর্ট দেবো৷ আর আমরাই ইভিএম মেশিন চাইবো৷ আমরা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেখিয়ে দিতে পারবো কতভাবে কারচুপি করা যায়৷ আমরা এটা সাধারণ মানুষকেও দেখাতে চাই৷ আমরা আগে বলেছিলাম৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের কাছে গিয়ে দেখাতে বলে৷ আমরা এটা প্রকাশ্যে করে দেখাতে চাই৷''

বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বৃহস্পতিবার ইভিএম নিয়ে বিএনপি'র সেমিনারে কথা বলেন৷

অডিও শুনুন 00:22

‘বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা ইভিএম কেন ব্যবহার করব না’

তিনি শুক্রবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি তো বলেছি, এটা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার একটা ব্যবস্থা৷ দেশের মানুষ এই জন্যই তো দেখেনি৷ এখানে পেপার ডকুমেন্ট নেই৷ মানুষ আগে এক হাতে ভোট দিত, এখন দু' হাতে ভোট দেবে৷ পৃথিবীর কোনো দেশে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হয়নি৷''

রিয়াজুল ইসলাম জানান, ‘‘ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ইভিএম-এর বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলেছেন৷ তাঁরা মামলা করতে পারেন৷''

এর জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শুক্রবার বলেছেন, ‘‘যারা মামলা করবে, এটা তাদের ব্যাপার, আমার কিছু বলার নেই৷ আমরা ইভিএম সীমিত আকারে ব্যবহার করব৷ এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই৷''

আর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপি ইভিএম-এর মাধ্যমে যে তিন স্তরের কারচুপির কথা বলেছে, সেটা তাদের ব্যাপার৷ তারাই সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পরবে৷ ইভিএম-এ ভোটের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের৷ আমাদের দলের অবস্থান  হলো, বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা ইভিএম কেন ব্যবহার করব না?''

নির্বাচন কমিশন এ পর্যন্ত ৩৫০টি ইভিএম কিনেছে৷ প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যে একেকটি ইভিএম মেশিন কিনতে কমিশনকে মোট সাত কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে৷ আর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেড় লাখ ইভিএম কিনতে তিন হাজার ৮২৯ কোটি সাত লাখ টাকার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন