ইন্দোনেশিয়ায় দুর্যোগে মোকাবেলায় এগিয়ে ইসলামপন্থীরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় দুর্যোগে মোকাবেলায় এগিয়ে ইসলামপন্থীরা

শরিয়াহ আইনের দাবিতে তারা বিভিন্ন সময় সংঘাতে জড়িয়ে থাকে, কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলার সময় অগ্রভাগে থাকে ইন্দোনেশিয়ার ইসলামপন্থী একটি গ্রুপ৷

ভূমিকম্পের পর ইসলামিক ডিফেন্ডার্স ফ্রন্টের তাৎক্ষিণক সাহায্য-সহযোগিতা অনেকের মন জয় করলেও সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দিহান অনেকে৷

পালু এলাকায় ফ্রন্টের সুবিধাভোগীদের একজন ৫০ বছর বয়সি আনওয়ার রাগাউয়া৷ গত সেপ্টেম্বরে ভূমিকম্পের পর ফ্রন্টের সহযোগিতা পেয়ে বেশ অভিভূত৷

এখন নিজের বাড়িতে পতাকা টানিয়ে রাখেন তিনি৷ জঙ্গিবাদে জড়িত হতে পারেন এমন সন্দেহে পুলিশ এসে পতাকাটি নামাতে বললেও শোনেনি তিনি৷

কারণ হিসাবে রাগাউয়া বলছেন, গ্রামে ভূমিকম্পের পর তিনিই কেবল বেঁচেছিলেন৷ তখন ফ্রন্টের কর্মীরাই হয়েছে তাঁর একমাত্র অবলম্বন৷ তারা তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছে এবং ত্রাণ দিয়েছে৷

স্বৈরশাসক সুহার্তোর পতনের জন্ম নেয় ইসলামিক ডিফেন্ডার্স ফ্রন্ট৷ তার শাসনামলে গণতন্ত্রপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের দমনের জন্য সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় এমন সংগঠনের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়৷

ফ্রন্টের মিলিশিয়ারা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে থাকে৷ বার কিংবা পতিতালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে তারা৷

ইন্দোনেশিয়ার ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ২৩টিতে সংগঠনটির শাখা রয়েছে৷ তাদের সামরিক কায়দার সাংগঠনিক কাঠামো তৃণমূলেও বিস্তৃত৷

এই সংগঠনের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী অংশের নাম রেড ক্রিসেন্ট ইন্দোনেশিয়া৷ অবশ্য, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷

গত বছরের সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রায় এলাকায় সুনামির ধ্বংসযজ্ঞে চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন৷ এই দুর্যোগের পর ব্যাপক মাত্রায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়েছিল ইসলামিক ডিফেন্ডার্স ফ্রন্ট৷

সরকারি সংস্থার আগেই হতাহতদের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, অস্থায়ী থাকার জায়গা এবং মসজিদ নির্মাণ ছিল তাদের ওই কার্যক্রমে৷ বছরজুড়ে তাদের ফ্রি স্বাস্থ্যসেবাও দরিদ্র জনগণের আস্থার জায়গা৷

ইসলামিক ডিফেন্ডার্স ফ্রন্ট দাবি করেছে, পালুতে সুনামির পর তারা ৩৫০ টন ত্রাণ বিতরণ করেছে৷ তাদের ত্রাণ কার্যক্রম ছিল দ্রুত তৃণমূলে গিয়েছিল৷ অনেক জায়গায় সরকারিকর্মীদের আগেই উদ্ধার কাজ চালিয়েছিল তারা৷

এ কারণে সরকারি সংস্থার উপর রুষ্ট হলেও ফ্রন্টের কাজ নিয়ে খুশী হয়েছে সাধারণ মানুষ৷সুনামির পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি৷

পালুতে দুর্যোগের তিন মাস পর রাগাউয়ার জন্য একটি মাছ ধরার নৌকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ইসলামিক ডিফেন্ডার্স ফ্রন্ট৷ এখন সেটার আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ করছেন তিনি৷

ভিডিও দেখুন 04:14

বালিতে সবুজ স্কুল

ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস ও হেজবুল্লাহর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে এই ফ্রন্টটির মিল খুঁজে পান অনেক গবেষক৷ তবে, মুসলিম দেশটিতে শরীয়াহ আইনের কথা বললেও ইসলামিক স্টেটের মতো খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলে না সংগঠনটি৷

ইন্দোনেশিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের কারণে সরাসরি রাজনীতিতে নেই এই ফ্রন্ট৷ তবে নানা সময় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের জানান দিয়েছে তারা৷ গত জাতীয় নির্বাচনে এই সংগঠনের সমর্থিতরা আগের চেয়ে ভালো করেছিল৷

রাজধানী জাকার্তায় খ্রীস্টান গভর্নর নির্বাচিত হলে ২০১৬-১৭ সময়ে তারা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়৷ এরপরের নির্বাচনে ওই গভর্নর হেরে যান এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাঁকে জেলে যেতে হয়৷

এমবি/কেএম (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন