ইন্টারনেটে সেন্সরশিপ শনাক্ত করবে ‘উনি′ | বিশ্ব | DW | 23.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ

ইন্টারনেটে সেন্সরশিপ শনাক্ত করবে ‘উনি'

ইন্টারনেটে অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে ডেভেলপাররা অনেক কাঠখড় পোড়ান৷ এবার প্রোগ্রামারদেরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ ‘উনি' নামের অ্যাপ ইনস্টল করলে কে কোথায় সেন্সরশিপ চালাচ্ছে, সেটা জানা যাবে৷

বিশ্বের সব প্রান্তে ইন্টারনেটে মুক্ত ও অবাধ বিচরণ আজও সম্ভব নয়৷ অনেক অগণতান্ত্রিক সরকার পছন্দ না হলেই ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় অথবা দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালায়৷ সেই ভয়ে মানুষ নিজের সৃজনশীলতা গোপন রাখেন এবং নিজের প্রকৃত মত প্রকাশ করতে ভয় পান৷

কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে হ্যাকাররা ‘টোর নেটওয়ার্ক' এবং বিশেষ সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে তথ্য খুঁজতে পারেন৷ সেন্সরশিপ ফাঁকি দিয়ে ব্লক করা ওয়েবসাইট দেখার জন্য ‘সাইফন' বা ভিপিএন পরিষেবাও কাজে লাগানো হয়৷

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ ফাঁস করে দেয় ‘উনি'

ইন্টারনেটে সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আসলে অনেকটা চোর-পুলিশ খেলার মতো৷ অনেক সময় সফটওয়্যার ডেভেলপরদের আমাদের মতো ব্যবহারকারীর সহায়তারও প্রয়োজন হয়৷ গত ২১শে এপ্রিল সেই লক্ষ্যে ‘ওপেন অবজারভেটরি অফ নেটওয়ার্ক ইন্টারফেয়ারেন্স' বা ‘ওওএনআই' একটি পরীক্ষামূলক অ্যাপ চালু করেছে৷ এই অ্যাপের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের ইন্টেরনেট সেন্সরশিপ শনাক্ত করতে পারেন৷ সেইসঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগের গতি ও মানও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন৷

সেন্সর ফাঁকি এড়ানোর বিষয়ে ডয়চে ভেলের বিশেষজ্ঞ অলিভার লিনো বলেন, ওয়েবসাইট-ব্লকিং শনাক্ত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য৷ শুধু অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে এতকাল এই অ্যাপ পাওয়া যেতো৷ এবার উইন্ডোস ও ম্যাক ডেস্কটপের জন্যও এটি প্রস্তুত করা হয়েছে৷ ‘উনি' সেন্সরশিপের দৃষ্টান্ত পেলেই প্রকাশ্যে সেই তথ্য তুলে ধরে৷ অবশ্য ব্যবহারকারী সেটা না চাইলে প্রয়োজনীয় সেটিং বদলে দিতে পারে৷

জনমতের চাপ

‘উনি' অ্যাপের প্রস্তুতকারীরা ইন্টারনেট সেন্সরশিপ সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করে প্রকাশ্যে তুলে ধরতে চান৷ এভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন৷ কেউ যদি কোনো ওয়েবসাইট অথবা হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা টেলিগ্রামের মতো যোগাযোগের পথ ব্লক করতে চায়, ‘উনি' তা শনাক্ত করার চেষ্টা করে৷ তাছাড়া টেলিকম কোম্পানি বা সরকার ইন্টারনেটের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে তথাকথিত ‘মিডলবক্স' বসালেও ‘উনি' সেটাও টের পায়৷ কোন কোন ওয়েবসাইট বা পরিষেবা ব্লক করা উটিত, ‘মিডলবক্স'-এর সাহায্যে কর্তৃপক্ষ সেটাও বুঝতে পারে৷

ব্যবহারকারীর সংখ্যার উপর সাফল্য নির্ভর করে

যে কেউ এই অ্যাপ ডাউনলোড করে স্ক্যান চালিয়ে যেতে পারে৷ কম্পিউটার বা স্মার্টফোন থেকে সব সূত্রের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়৷ যত বেশি স্বেচ্ছাসেবী এই উদ্যোগে সামিল হবেন, ‘উনি'-র প্রস্তুতকারীরা তত বেশি তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যাগুলি তুলে ধরতে পারবেন৷ শুধু তাই নয়, ব্লকিং-এর আশঙ্কা দেখা দিলে কোনো ওয়েবসাইটের মালিকও ‘উনি'-র কাছে ঠিকানা নথিভুক্ত করাতে পারেন৷

তবে ব্যবহারকারীদেরও এই অ্যাপ-এর ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হয়৷ কোনো স্বৈরাচারী সরকার এমন অ্যাপ ব্যবহারের অপরাধে কড়া শাস্তি ও নিপীড়নের বিধান রাখতে পারে৷

ফাবিয়ান স্মিট/এসবি

২০১৭ সালের ছবিঘরটি দেখুন:

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন