ইন্টারনেটে আড়িপাতার যুগে টাইপরাইটারের উপযোগিতা | জার্মানি ইউরোপ | DW | 15.08.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

ইন্টারনেটে আড়িপাতার যুগে টাইপরাইটারের উপযোগিতা

কথায় বলে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে৷ না হলে রাশিয়ার গুপ্তচররা হঠাৎ নতুন করে টাইপরাইটারের মাহাত্ম্য আবিষ্কার করতো না৷ আর টাইপরাইটারই যদি হয়, তাহলে স্বভাবতই মেড ইন জার্মানি৷

কথায় বলে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে৷ না হলে রাশিয়ার গুপ্তচররা হঠাৎ নতুন করে টাইপরাইটারের মাহাত্ম্য আবিষ্কার করতো না৷ আর টাইপরাইটারই যদি হয়, তাহলে স্বভাবতই মেড ইন জার্মানি৷

এনএসএ কেলেঙ্কারির পর দুনিয়ার গুপ্তচর বিভাগগুলির টনক নড়েছে: ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগের আর সব কিছু ভালো হতে পারে, কিন্তু সেখানে প্রতিপক্ষের আড়ি পাতা রোখার বস্তুত কোনো পন্থা নেই৷ অথচ যা গোপন, গোপনতর, চরম গোপনীয়, তা তো গুপ্ত রাখতে হবেই৷

ব্যাপারটা যদি সে ভাবে দেখা যায়, তবে গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা আড়ি পাতা তো আর এ যুগের আবিষ্কার নয়, তা চিরকালই চলেছে৷ যেমন পুরনো সাদা-কালো ছবি দেখলেই বোঝা যাবে, টাইপরাইটারের বোতাম খটখটিয়ে গোপন তথ্য লিপিবদ্ধ করা সম্ভব৷ সেই কাগজটা হাতে না এলে – আর তার কোড জানা না থাকলে – গোপন তথ্য অন্য কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয়৷ টাইপরাইটারের আওয়াজে আড়ি পেতে কী লেখা হচ্ছে না হচ্ছে, তার পাঠোদ্ধার করবে কে?

রাশিয়ার ফেডারাল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগ, যার নাম এফএসও৷ তাদের মাথায় আসে, জার্মানিতে একবার খোঁজখবর করে দেখা যাক, সেখানে কোনো কোম্পানি এখনও টাইপরাইটার তৈরি করে কিনা৷ এই ধরা যাক হাটিঙেন-এর অলিম্পিয়া বিজনেস সিস্টেমস৷ তারা নাকি আজও টাইপরাইটার তৈরি করে থাকে৷ আরো বড় কথা, তাদের কাছে সম্প্রতি সারা পৃথিবী থেকে খোঁজখবর আসছে: কোথায় টাইপরাইটার কিনতে পাওয়া যায় বলতে পারেন? যেন অবাক জলপান!

Schreibmaschine Olympia Carrera de Luxe MD

এখনো টাইপ রাইটার ব্যবহার করছেন রাশিয়ার গোয়েন্দারা

চাহিদা শুধু স্পাই ভার্সেস স্পাই-এর কারণে নয়

অলিম্পিয়া এযাবৎ বছরে প্রায় তিন হাজার টাইপরাইটার বিক্রি করে আসছিল – বিক্রি বলতে সারা দুনিয়ায়৷ কিন্তু এখন যা চাহিদা, তাতে হাজার হাজার তৈরি করলেও তা বিক্রি হয়ে যেতো, বলে ম্যানেজার আন্দ্রেয়াস ফস্টিরোপুলোস-এর ধারণা৷ তার সবটাই যে গুপ্তচর বিভাগগুলোর কল্যাণে, এমন নয়৷ যে সব উত্থানশীল দেশে বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, সেখানেও বহু কোম্পানি টাইপরাইটারকে নির্ঝঞ্ঝাট বিকল্প বলে ভাবতে শুরু করেছে৷ কিন্তু তারপর অলিম্পিয়া হস্তচালিত টাইপরাইটার তৈরি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়৷

বাকি থাকে ইলেকট্রনিক টাইপরাইটার – কিন্তু সেটা সারা বিশ্বে ভালোই চলেছে৷ অলিম্পিয়ার মধ্যপ্রাচ্যে খরিদ্দার আছে, যারা আরবি ভাষায় টাইপরাইটার চান৷ আরবি কেন, চীনে ভাষায় অথবা রুশ ভাষার মতো সিরিলিক হরফেও টাইপরাইটার তৈরি ও সরবরাহ করতে সক্ষম হাটিঙেন-এর অলিম্পিয়া সংস্থা, যাদের কর্মীসংখ্যা সাকুল্যে ৬০ জন৷

অলিম্পিয়া মোবাইল ফোন ইত্যাদিও তৈরি করে থাকে৷ ছোট কোম্পানি, বিশ্বব্যাপী ৩৩ কোটি ইউরো পরিমাণ বিক্রি ও তার মধ্যে মাত্র দুই শতাংশ ইলেকট্রিক টাইপরাইটারের কল্যাণে৷ এবার রুশ গুপ্তচর বিভাগ টাইপরাইটারের মাহাত্ম্য পুনরাবিষ্কার করার পর যে হঠাৎ লাখ লাখ টাইপরাইটারের অর্ডার আসতে শুরু করবে, ফস্টিরোপুলোস নিজেও সেটা বিশ্বাস করেন না৷ ‘‘এফএসও-র আগ্রহের ফলে টাইপরাইটার হঠাৎ জাতে উঠে বসেছে, এবং টাইপরাইটার নিঃসন্দেহে আরো কিছুদিন থাকবে৷ কিন্তু তা থেকে এ ভেবে বসা উচিত নয় যে, টাইপরাইটার হল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি৷''

টাইপ করার আপদ-বিপদ

অলিম্পিয়ার ইলেকট্রনিক টাইপরাইটারের মাথায় যে ধাতব গোলকটিতে সব অক্ষর খোদাই করা থাকে, সেটিই গিয়ে কাপড়ের ব্যান্ড কিংবা ক্যাসেটে রাখা কার্বন ব্যান্ডের উপর আঘাত করে কাগজের অক্ষরগুলি ফুটিয়ে তোলো৷ কার্বন ব্যান্ডের সমস্যা হল এই, সেটা একবার কারো হাতে গিয়ে পড়লে পুরো লেখাটাই উদ্ধার করা সম্ভব, কাপড়ের ব্যান্ডে লেখার উপর লেখা পড়ায় যেটা সম্ভব নয়৷ কাজেই এফএসও দৃশ্যত বেশ কয়েকশো কাপড়ের ব্যান্ডেরও অর্ডার দিয়েছে৷

হাতে চালানো কিংবা ইলেকট্রিক, টাইপরাইটারের মূল সুবিধা হল, তার ইন্টারনেটের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই, কাজেই ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় তার থেকে তথ্য চুরি করা সম্ভব নয়৷ অন্যদিকে এফএসও যে অর্ডার দিয়েছে, অলিম্পিয়া'র তা সরবরাহ করতে মাস চারেক সময় লেগে যাবে৷ এছাড়া অলিম্পিয়া স্বয়ং আর এই সব টাইপরাইটার জার্মানির হাটিঙেন-এ তৈরি না করে, চীনে তৈরি করায় – বিশ্বায়নের সেটাও একটা অঙ্গ৷

আর যা নিয়ে এতো হইচই, সেই অর্ডার থেকে অলিম্পিয়ার বিশেষ মুনাফা করারও কোনো সম্ভাবনা নেই, কেননা রুশ অর্ডারের মোট মূল্য হল সাকুল্যে সাড়ে এগারো হাজার ইউরো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন