ইন্টারনেটের প্রভাবে জৌলুস হারাচ্ছে গাছপালারা | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 05.12.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ইন্টারনেটের প্রভাবে জৌলুস হারাচ্ছে গাছপালারা

ওয়্যারলেস ইন্টারনেটের অ্যাক্সেস পয়েন্টগুলো গাছপালার ক্ষতি করছে৷ নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এমনটি বলছেন৷ তবে এই বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি বিজ্ঞানীরা৷ তাঁদের গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হবে আগামী বছরের শুরুতে৷

default

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সুবিধা এখন রেস্তোঁরাগুলোতেও পাওয়া যায়

হল্যান্ডের আল্পেন আন ডেন রিন শহর৷ এই শহরের গাছের পাতাগুলো কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছিলো৷ গাছগুলোও ঠিক যেন সতেজ নয়৷ শহর কর্তৃপক্ষ ঠিক বুঝতে পারছিলেননা এমনটি কেন হচ্ছে ? নগর প্রধান এরপর যোগাযোগ করলেন ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে৷ কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিলেন তাঁদের উপর৷ আর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন, গাছপালার এই অবস্থার জন্য অপরাধী আর কেউ নয়৷ ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কই এর জন্য দায়ী৷

গবেষকরা অবশ্য ওয়্যারলেস ফ্রিকোয়েন্সির একটা মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন৷ বলছেন, ২৪১২ থেকে ২৪৭২ মেগা হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্টগুলোর গাছপালার ক্ষতি করার সম্ভাবনা নেই৷

BdT Deutschland Berg-Ahorn ist Baum des Jahres 2009

গাছের ওপর প্রভাব ফেলছে ওয়াইফাই ফ্রিকোয়েন্সি

বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণা থেকে যে বিষয়গুলো খুঁজে পেয়েছেন তার সারাংশ তুলে ধরেছেন ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে৷ সেখানে তাঁরা বলেছেন, দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগের ওয়াইফাই থেকে পঞ্চাশ সেন্টিমিটার দূরত্বের মধ্যে গাছপালা থাকলে এর ধাতব পদার্থের প্রভাব গিয়ে পড়ছে গাছপালার উপর৷ যে কারণে গাছের পাতা আর্দ্রতা হারাচ্ছে এবং কিছু কিছু পাতা মরেও যাচ্ছে৷ তবে বিজ্ঞানীরা এ কথাও বলছেন, তাঁরা প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় এই বিষয়গুলো সনাক্ত করেছেন৷ এই বিষয়ে আরও ব্যাপক গবেষণা চালানোর পরই কেবল বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব৷

পাইলট এই গবেষণায়, বিশটি গাছকে দু'ধরণের জায়গায় রাখা হয়েছিলো৷ এক জায়গায় ওয়্যারলেস পয়েন্ট ছিলনা এবং অন্যজায়গাটিতে ছিলো ওয়্যারলেস পয়েন্ট৷ দেখা গেছে, কেবল যে জায়গায় ওয়্যারলেস পয়েন্ট ছিল সেখানকার গাছের পাতাগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে৷

গবেষণা দলটির প্রধান ড.আন্দ্রে ভান লামেরেন ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,‘‘প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণাটি শেষ করতে আমাদের সময় লেগেছে তিন থেকে চারমাস৷ এখন আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিশদভাবে গবেষণা করতে চাই৷''

বিশাল পরিসরে সারা দেশের গাছপালার জন্য এই বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন নেদারল্যান্ডের একটি গবেষণা দল৷ আর তাঁদের গবেষণার অংশ হিসেবে সেই দেশের একটি শহরের উপর এই বিষয়টি নিয়ে পাইলট গবেষণা চালিয়েছেন ড. ভান৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজ্ঞাপন