ইনস্টাগ্রামের জীবনদর্শন | অন্বেষণ | DW | 23.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ইনস্টাগ্রামের জীবনদর্শন

ইনস্টাগ্রামের ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন সেল্ফি না তুলে, আলোকচিত্রীদের দিয়ে ফটো তোলান, তখন সেটা নির্দোষ ইনস্টাগ্রাম জগতের আদর্শের সঙ্গে কতটা মেলে? ‘লাইক’ জোটানোর আপ্রাণ প্রচেষ্টার একটা কারণ কি বিজ্ঞাপন থেকে অর্থোপার্জন নয়?

স্যান ফ্রান্সিসকোয় গেলে ফটো না তুলে উপায় নেই, শহরটাই এমন সব দর্শনীয় বস্তুতে ভরা৷ আবার শুধু স্ন্যাপশটে চলবে না, কেননা ছবিগুলো ইনস্টাগ্রামে আপলোড করে লাইক সংগ্রহ করতে হবে৷ সেজন্য ছবিগুলো পার্ফেক্ট হওয়া চাই, বলে ক্রিস্টিন ট্র্যান-এর মতো৷ ক্রিস্টিন হলেন একজন তথাকথিত ‘ইনফ্লুয়েন্সার’, কাজেই তিনি আজ নিজে সেল্ফি না তুলে, একজন পেশাদার ফটোগ্রাফারকে দিয়ে নিজের ছবি তোলান৷

পেশাদার ইনস্টাগ্রামার হিসেবে তাঁর প্রোফাইলের মধ্যে টার্গেট গ্রুপের উপযোগী বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকে৷ বিশেষ বিশেষ জায়গায় ক্রিস্টিনের ছুটি কাটানোর ছবি যাতে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, সেজন্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলো রীতিমতো পয়সা দিয়ে থাকে৷

ট্র্যান বলেন, ‘‘কোনো কোনো ইনস্টাগ্রামার ছবি প্রতি হাজার-দু'হাজার ডলার চার্জ করে থাকে, বলে আমার ধারণা....আবার কেউ কেউ শুধু কয়েকশ’ ডলার নেয়, কাজেই রেঞ্জটা খুব বড়....তবে এ থেকে সহজেই মাসে হাজার দুয়েক ডলার কি তারও বেশি রোজগার করা যায়৷’’

ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের পুরো প্রক্রিয়াটা পরিচালিত হয় এখান থেকে, মেনলো পার্কে ইনস্টাগ্রামের হেডকোয়ার্টার্স থেকে৷ ফেসবুক সংস্থা ২০১২ সালে মোট ৭৬ কোটি ইউরো মূল্যে ইনস্টাগ্রাম কিনে নেয়৷ আজ মেনলো পার্কে মোট ৫০০ কর্মী ইনস্টাগ্রামের ৮০ কোটি ইউজারের দেখাশোনা করেন৷

ইনস্টাগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইক ক্রিগার বললেন, ‘‘মানুষজনের দুনিয়াটাকে দেখার ভঙ্গিই কিছুটা পালটে যায়৷ ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ আর তার ব্যবহারকারীরা সেটা নিয়ে কি করছে, এই দুই-এর পারস্পরিক প্রভাবটা খুবই কৌতূহলজনক৷ লোকে যখন বলে, ‘আজ আমি অনেক কিছু দেখি, অনেক কিছু খেয়াল করি’ – তখন আমার খুব ভালো লাগে৷ যেন তারা নতুন চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকে দেখছে৷’’

কি চোখে তোমায় দেখি

শুধু দুনিয়া দেখার ভঙ্গিই যে পালটে যায়, এমন নয়৷ পৃথিবীটাও ইনস্টাগ্রামের জন্য বদলে যাচ্ছে৷ যেমন এক ডিজাইনার একটি রেস্তোরাঁ অত্যন্ত ‘ফটোজিনিক’ করে গড়ে তুলেছেন৷ অনেক আলো, খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে৷ অতিথিরা মনের সুখে ছবি তুলতে পারেন৷ তাতে কাজ হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে রেস্তোরাঁর ছবি ভরে গেছে৷

ডিজাইনার হানা কলিন্স-এর মতে, ‘‘জিনিসপত্রের নানা নকশা থাকে, টেক্সচার থাকে, যা তাদের নিজস্ব৷ তাই দেখে লোকে বলে, ‘ওয়াও, এটা তো আমি আগে দেখিনি৷ একটা ছবি তুলতে হবে৷’’

ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য বিষয় অনুযায়ী ছবি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

ইনস্টাগ্রামে খারাপ বা বেদনাদায়ক ছবির কোনো জায়গা নেই৷ জীবনের ছায়াময় দিকটা এখানে ফিল্টার করে বার করে দেওয়া হয়, বলে মনে করেন স্যান ফ্রান্সিস্কোর ফাইন আর্টস মিউজিয়ামের অধ্যক্ষ ম্যাক্স হলাইন৷

ফাইন আর্টস মিউজিয়ামের কর্মী ম্যাক্স হলাইন বললেন, ‘‘শুরুতে ফেসবুক অথবা অন্যত্র ‘লাইক’-এর যে অর্থ ছিল, তা ধীরে ধীরে খোয়াতে বসেছে, বলে আমার ধারণা৷ আজ ঐ ‘লাইক’ শুধুমাত্র একটা স্বীকৃতি যে, আমি তোমার পোস্টটা দেখেছি – যেটা এসেছে মার্কিন সংস্কৃতি থেকে, যেমন এখানে সকলেই বলে, ‘ইট'স গ্রেট’৷’’

ইনস্টাগ্রাম হবে হেট স্পিচ আর ফেক নিউজ বর্জিত একটি সহজ-সরল নেটওয়ার্ক – কিন্তু দ্বিধা থেকেই যায়: যেমন বিজ্ঞাপনের কী ও কেন এবং বাস্তবই বা কী৷

ইনস্টাগ্রাম বলে, অতো জেনে কি হবে, সুন্দর হলেই হলো৷

স্প্রেয়ে/হর্ন/এসি

২০১৫ সালের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন