ইটালিতে ফ্যাসিবাদের কদর্য রূপ | বিশ্ব | DW | 13.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

ইটালিতে ফ্যাসিবাদের কদর্য রূপ

ইটালির প্রাচীনতম ট্রেড ইউনিয়নের সদর দপ্তরে হামলা চালালো নব্য-ফ্যাসিবাদী দলের নেতা-কর্মীরা৷ ডয়চে ভেলের গিউলিয়া সাউডেলি মনে করেন, দেশটিতে যে ফ্যাসিবাদ এখনো বেঁচে আছে এবং তা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে এ ঘটনা তারই প্রমাণ৷

সরকারি এবং বেসরকারি কর্মচারিদের জন্য অচিরেই কোভিড-১৯ সনদ চালু করতে যাচ্ছে ইটালি সরকার৷ এর বিরুদ্ধে চলছে ‘নো গ্রিন পাস' আন্দোলন৷ ভ্যাকসিন-বিরোধীদের এ আন্দোলনকে সমর্থন এবং মদত দিচ্ছে ফোর্সা নুয়োভা (নিউ ফোর্স) পার্টির মতো নব্য-ফ্যাসিবাদী সংগঠনগুলো৷

গত শনিবার রোমে সিজিআইএল কর্মচারি ইউনিয়নের সদর দপ্তরে হানা দেয় ফোর্সা নুয়োভার দুই নেতা৷ তার ভিডিও আমরা দেখেছি৷কিছু বিক্ষোভকারীকে তখন স্বস্তিকা চিহ্নের ট্যাটু দেখাতে দেখা গেছে৷ কারো কারো গায়ে ছিল ‘বোইয়া চি মোল্লা' লেখা টি-শার্ট, যার অর্থ ‘যারা হাল ছেড়ে দেয় তারা বিশ্বাসঘাতক', যা কিনা ফ্যাসিবাদী স্লোগান হিসেবে পরিচিত৷

এটা খুব উদ্বেগজনক ব্যাপার৷ না, এর সঙ্গে আমি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলের ঘটনারই মিল খুঁজে পাইনি, বরং এতে আমি অনেকটা ১৯২০ সালের গোড়ার দিকে স্বৈরাচারী বেনিতো মুসোলিনির উত্থান-পর্বের ফ্যাসিস্ট বেসামরিক বাহিনির কর্মকাণ্ডের অনুরূপ দৃশ্য দেখতে পেয়েছি৷ সশস্ত্র বেসামরিক সংগঠনগুলো তখন কর্মচারি ইউনিয়ন, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে হামলা চালিয়ে নাজুক হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, সবার মনে ভয় ছড়াতে চেয়েছিল৷

নব্য-ফ্যাসিবাদী সংগঠনগুলো চলমান বিক্ষোভে কী ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের কতটা সুযোগ দেয়া হচ্ছে- এ বিষয়টাও আমার কাছে খুব উদ্বেগজনক মনে হয়েছে৷

ফোর্সা নুয়োভা এবং কাসাপাউন্ডের মতো নব্যফ্যাসিবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যে অভিবাসী, সংখ্যালঘু এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অসংখ্য হামলার অভিযোগ রয়েছে তা তো আমাদের জানা৷

Volos 2018 | Giulia Saudelli

গিউলিয়া সাউডেলি, ডয়চে ভেলে

ফ্যাসিবাদএখনোআছে

জীবনের বেশির ভাগ সময় আমি ইটালিতে থেকেছি৷ আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, এ ধরনের সংগঠনগুলোকে এতটা মুক্তভাবে বিষাক্ত কথাবার্তা এবং সহিংসতা ছড়াতে দেয়া হচ্ছে৷

মনে পড়ে, কম বয়সেও ইটালিতে এমনটি দেখেছি৷স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের অসংখ্যবার হামলার শিকার হতে দেখেছি৷ মনে পড়ে, একবার একটা টি-শার্ট পরার কারণে হামলা চালানো হয়েছিল তরুণ অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর৷ এসব অনেক শহরে হয়েছে৷ ১০ বছর আগে এক কাসাপাউন্ড-অনুরাগী ফ্লোরেন্সে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছিল, দুজন সেনেগালিকে গুলি করে হত্যা করেছিল আর তিনজনকে আহত করেছিল, সেই ঘটনাও মনে পড়ে খুব৷

এসব সংগঠনের সহিংসতাকে কিভাবে সহ্য করা যায়?

নব্য-ফ্যাসিবাদীদের আন্দোলনকে প্রতিহত করার ডাক দেয়া হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে৷ গেল সপ্তাহান্তে রোমের সহিংসতার পর সে দাবি আরো জোরালো হয়েছে বলে আমি মনে করি৷

আইনের প্রয়োগ

ইটালির সংবিধান‘কোনো কাঠামোর অধীনেই' বিলুপ্ত ঘোষিত ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টির পুনর্গঠনকে অনুমোদন করে না৷ ১৯৫২ সালে প্রণীত স্কেলবা আইনে বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী ‘গণতন্ত্র-বিরোধী কর্মকাণ্ডে মদত দিলে', রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতা চালালে বা তার পক্ষে সাফাই গাইলে, গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইলে বা ফ্যাসিবাদী অপপ্রচারকে উৎসাহিত করলে তা ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি পুনর্গঠন প্রয়াসের নামান্তর৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত কাসাপাউন্ড বা ফোর্সা নুয়োভার মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷

নির্বাচনে খুব ভালো করা ফ্রাটেলি ডি'ইটালিয়া (ব্রাদার্স অব ইটালি)-র বিষয়টাও একটু নজরে রাখা দরকার৷ দলটি গিয়র্গিয়া মেলোনির নেতৃত্বে নব্য-ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে মডারেট দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে৷ তবে এই দলে যে ফ্যাসিবাদের কিছু আলামত রয়ে গেছে, তা খুব স্পষ্ট৷

সমাজের জন্য বিপদ

গত মাসে অনলাইন মাধ্যম ফ্যানপেজ-এর এক অনুসন্ধানে এমন ভিডিও উঠে আসে, যেখানে  দলীয় কর্মীদের ফ্যাসিবাদী স্লোগান দিতে, নিজেদের একনিষ্ঠ ফ্যাসিস্ট দাবি করতে এবং বর্ণবাদী, সেক্সিস্ট এবং ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করতে দেখা যায়৷২০১৯ সালে আসকোলি পিকানো শহরে এমন এক ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে উপস্থিতরা প্রকারান্তরে মুসোলিনির সেই ফ্যাসিস্ট পার্টির প্রতিই সমর্থন প্রকাশ করেছেন৷

ব্রাদার্স অব ইটালি বা মাত্তেও সালভিনির লিগ পার্টির মতো দলের ভেতরে দায়বদ্ধতার অভাব আছে৷ ইটালির জনগণের বড় একটা অংশের মধ্যেও রয়েছে দায়বদ্ধতার অভাব৷ এ কারণেই হয়ত তারা ফ্যাসিস্টের মতো কাজ বা কথা-বার্তা মেনে নেয়৷

গিউলিয়া সাউডেলি/ এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন