ইউরোপ বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকছে পোল্যান্ড | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 31.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পোল্যান্ড

ইউরোপ বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকছে পোল্যান্ড

ন্যাটোর অংশীদার পূর্ব-ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড ধীরে ধীরে ঝুঁকছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে৷ দেশটির ডানপন্থি সরকারের অনেকেই মনে করেন, ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশীদারদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রদর্শনে বেশি সক্ষম৷

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওয়ারসো ইউরোপের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বেশি ভরসা রাখে

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওয়ারসো ইউরোপের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বেশি ভরসা রাখে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর স্মরণের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷ কিন্তু ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলের রাষ্ট্র পোল্যান্ড আশা করছে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে দেশ দুটির মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা তৈরি হতে পারে

১৯৩৯ সালের পয়লা সেপ্টেন্বর অ্যাডল্ফ হিটলারের নাৎসি বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করে৷ এর ফলে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ৷ ২০১৯ সালে এই ঘটনার ৮০তম বার্ষিকী পালন করছে দেশটি৷

ক্ষমতাসীন ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি- পিআইএস ট্রাম্পের সফর নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছে৷ ফলে এ সফর বাতিল দলটির জন্য বড় ধাক্কা৷ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস দুদার সহযোগী ভোইচিয়েক কোলারস্কি বলেছেন, ‘‘পোলিশ ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের উপস্থিতি আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷'' ট্রাম্প সফরে এলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টিও পোল্যান্ডের দিকেই থাকতো বলেও মনে করেন তিনি৷

এই স্মারক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এলে পোল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনার আশা ছিল পোলিশ নেতাদের৷ সফর শেষে ট্রাম্পের মুখ থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি শোনা যাবে, এমন আশাও ছিল তাদের মনে৷ কিন্তু গ্রিনল্যান্ড বেচা-কেনা সংক্রান্ত বাকবিতণ্ডায় ডেনমার্কে নিজের সফর বাতিল করার পর এবার হারিকেন ডোরিয়ানের কারণ দেখিয়ে পোল্যান্ড সফরও বাতিল করেছেন ট্রাম্প৷

ট্রাম্পের পরিবর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যাচ্ছেন পোল্যান্ড৷ তাতেও অবশ্য পুরোপুরি হতাশ নন পোল্যান্ডের নেতৃবৃন্দ৷ রোববারের এই আয়োজনে পেন্স ছাড়াও জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও উপস্থিত থাকবেন৷ ক্ষমতাসীন পিআইএস মনে করে পশ্চিমেই অবস্থিত পোল্যান্ডের সব বন্ধু৷ এই চিন্তা থেকেই কিনা, রাশিয়ার কোনো প্রতিনিধিকে রোববারের অনুষ্ঠানে দাওয়াতই দেয়নি পোল্যান্ড৷

জার্মান-পোল্যান্ডতিক্ততা

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পশ্চিমে পোল্যান্ডের বন্ধুত্বেও বেশ ঝামেলা রয়েছে৷ জার্মানির সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বেশ টানাপড়েন রয়েছে৷ অন্যদিকে শরণার্থী সংকট মোকাবেলা, বাল্টিক সাগরে রুশ পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ, এমন বেশকিছু ইস্যুতে পোল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত পোষণ করে৷

ইইউ-এর সঙ্গে পোলিশ বিচারব্যবস্থা নিয়েও দেশটির এক ধরনের সংঘাত রয়েছে৷ বিশেষ করে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওয়ারসো ইউরোপের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বেশি ভরসা রাখে৷

পোলিশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের বেয়াটা গোর্কা-উইন্টার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ন্যাটো চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী এক সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য সদস্য রাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতার যে শর্ত রয়েছে, সেটা সবচেয়ে যে ভালো পারবে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করাটাই স্বাভাবিক৷''

তিনি জানান, পোল্যান্ড আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রেরই একমাত্র সামরিক সহযোগিতার সামর্থ্য রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপে ন্যাটোর যে সহযোগীরা রয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় সেনাবাহিনীই গঠন করতে পারেনি৷''

পোল্যান্ডেরশত্রুতা

পশ্চিমে যেমন বন্ধু খুঁজছে পোল্যান্ড, পূর্বে তেমনই দেখছে শত্রুতার আভাস৷ বিশেষ করে রাশিয়াকে অন্যতম নিরাপত্তা হুমকি মনে করে দেশটি৷ ২০১৪ সালে ইউক্রেন সংকট শুরুর পর থেকে ওয়ারসো নিজের সেনাবাহিনী ঢেলে সাজাতে কয়েক বিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে৷

২০১৮ সালে সোয়া চার বিলিয়ন ইউরো দামের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল কেনে পোল্যান্ড৷ দেশটির ইতিহাসে এটিই এ ধরনের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি৷ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩৬৫ মিলিয়ন ইউরো দামের বহনযোগ্য রকেট নিক্ষেপণ ব্যবস্থা কেনে পোল্যান্ড৷ এছাড়া, ৩২টি এফ-৩৫ জেট ফাইটার কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়ারসোর৷

ট্রাম্প এই মধ্যে পোল্যান্ডের জিডিপি'র দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন৷ এর ফলে প্রতিরক্ষা খাতে ন্যূনতম ব্যয়ের শর্ত পূরণ করা গুটিকয়েক ন্যাটো সদস্যের একটিতে পরিণত হয়েছে পোল্যান্ড৷ ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির আড়াই শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে দেশটির৷

ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে জার্মানির ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন৷ এমনকি প্রয়োজনে জার্মানি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি৷ এই সুযোগকে লুফে নিতে চাচ্ছে পোল্যান্ড৷ এই মুহূর্তে দেশটিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে৷  রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করে নেয়ার পর থেকে তিন বাল্টিক দেশে ন্যাটোর সৈন্যও অবস্থান করছে৷

তবে পোল্যান্ড চায় মার্কিন সেনারা দেশটিতে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করুক৷ এজন্য প্রায় দুই বিলিয়ন ইউরো খরচ করতেও রাজি দেশটি৷ পোলিশ প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবিত ঘাঁটিকে ‘ফোর্ট ট্রাম্প' বা ‘ট্রাম্পের দুর্গ' নাম দিয়েছেন, যা হয়তো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশ আকৃষ্টই করবে৷

ট্রাম্প জার্মানি থেকে এক হাজার সৈন্য সরিয়ে পোল্যান্ডে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন৷ পোল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জেটে মোসবাখার টুইট কের প্রকাশ্য়েই জার্মানির এমন অবস্থানের সমালোচনা করে মারিকন সৈন্যদের পোল্যান্ডে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷''

সমালোচকনা অবশ্য বলছেন এর ফলে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে ১৯৯৭ সালে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘন হচ্ছে৷ চুক্তি অনুসারে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কোনো দেশে স্থায়ী সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে না ন্যাটো৷ তবে গোর্কা-উইন্টার মনে করেন, রাশিয়া খুশি না হলেও এক্ষেত্রে কিছু করার নেই৷

তিনি বলছেন, ‘‘রাশিয়ার ক্ষেত্রে কিছু না করাটাই বরং সবচেয়ে খারাপ৷ আমরা এরই মধ্যে দেখছি অন্য বিভিন্ন দেশের জলসীমা ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে চলেছে রাশিয়া৷ আমরা যদি চুপ থাকি, এমন আচরণ বাড়তেই থাকবে৷''

মনিকা সিরাৎসকা/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন