‘ইউরোপে সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়েছে’ | বিশ্ব | DW | 03.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

‘ইউরোপে সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়েছে’

জামাল খাশগজি, ডাফনি কারুয়ানা গালিৎসিয়া, ইয়ান কুৎসিয়াক– এঁদের হত্যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত বলে মনে করেন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-এর ক্রিস্টোফ ডেলোয়ার৷

বিশ্বের প্রতি দুইজনে একজন মানুষ স্বাধীনভাবে পরিবেশিত সংবাদ এবং তথ্যের সন্ধান পান না৷ ইউরোপীয় হিসেবে আমরা বেশ সৌভাগ্যবান যে আমরা, ‘অন্য সবার স্বাধীনতার মর্যাদা দেয়ার মতো’ স্বাধীনতা ভোগ করি৷

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর প্রকাশ করা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুসারে আমাদের মহাদেশেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি রয়েছে৷ কিন্তু এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, গত কয়েক বছরে এই ভিত্তি বেশ ভালোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

ইস্তানবুলে খাশগজির হত্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাংবাদিকদের ওপর কিছু দেশের ভয়াবহ বর্বরতার কথা৷

ইউরোপও এর বাইরে নয়৷ মালটায় ডাফনি কারুয়ানা গালিৎসিয়াকে অর্থ পাচার কেলেঙ্কারি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় হত্যা করা হয়েছিল৷ স্লোভাকিয়ায় ইয়ান কুৎসিয়াক বড় আকারের কর ফাঁকি নিয়ে অনুসন্ধান করায় হত্যা করা হয়৷ এই হত্যাকাণ্ডগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত৷ এ ঘটনাগুলো থেকে প্রমাণ হয় যে, এ সমস্যার শেকড় বহুদূর বিস্তৃত৷

গণমাধ্যমের প্রতি কিছু রাজনৈতিক নেতার অবিরাম বিষোদগার ইউরোপে সাংবাদিকতাকে দুর্বল করে ফেলছে৷ এদের কেউ কেউ এরই মধ্যে ক্ষমতায় আছেন, কেউ কেউ যাওয়ার চেষ্টা করছেন৷ ফ্রান্সে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিকই অনেকের চক্ষুশূল হয়েছেন৷ কাউকে কাউকে তো ধর্ষণের হুমকিও দেয়া হয়েছে৷

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান একই ধরনের ‘অবিশ্বাস’ উসকে দেন, যখন তিনি তাঁর দলের পক্ষে সংবাদ প্রচার করে না এমন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে খারিজ করে দেন৷

Kommentarbild Christophe Deloire PROVISORISCH

ক্রিস্টোফ ডেলোয়ার, মহাসচিব, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স

আমরা এমন পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে থাকচতে পারি না৷ সুনির্দিষ্ট কিছু সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, যার বিরুদ্ধে ইউরোপ শক্ত ব্যবস্থা নিতে পরে৷ এর মধ্যে একটি হলো আইনি হয়রানি৷ কিছু ব্যক্তি আইনের অপব্যবহার করে একের পর এক মামলা করে সাংবাদিকদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করে যে, সে সাংবাদিক চুপ হয়ে যেতে বাধ্য হয়৷

২০১৯ সালেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, যদি ইউরোপীয় নির্বাচনগুলোতে মহাদেশজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিতে জোর দেয়া হয়৷

ইইউ কমিশনারের প্রয়োজনীয়তা

অন্য সব পাবলিক পলিসির মতো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এ বৈচিত্র্য রক্ষারও সুনির্দিষ্ট নীতি থাকা উচিত৷ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট দিয়ে একজন কমিশনারকে নিয়োগ দেয়া হোক, পরবর্তী ইউরোপীয় কমিশনের কাছে এটাই আমাদের দাবি৷ বুখারেস্ট থেকে মাদ্রিদ, নিকোসিয়া থেকে স্টকহোম, ডাবলিন থেকে ভিয়েনা, একজন উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি থাকা উচিত, স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হলে যার কাছে যাওয়া যাবে৷

তাঁকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের অধিকার বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ আয়োজন করতে হবে এবং ইইউ-তে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে হবে৷

করপোরেট সংস্থাগুলোর হাতে সংবাদমাধ্যম চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যূত করে নিজেদের অথবা সরকারে থাকা নিজেদের বন্ধুদের কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন৷ গণমাধ্যমকে এই কর্পোরেট স্বার্থরক্ষার হাত থেকে বাঁচাতে হবে৷

স্ট্রাসবুর্গে হতে যাওয়া ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রার্থীদের আমরা আহ্বান জানাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কমিশন নেতারা যাতে সচেষ্ট হন৷

ক্রিস্টোফ ডেলোয়ার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-এর মহাসচিব

এডিকে/এসিবি

২০১৮ সালের এপ্রিলের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন