ইউরোপে বাড়ছে কাঠের কদর | অন্বেষণ | DW | 16.03.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ইউরোপে বাড়ছে কাঠের কদর

ইউরোপ আর বিশ্বের অনেক নামকরা স্থপতি আজকাল সুকুমার রায়ের কাঠবুড়োর মতো হয়ে পড়ছেন: ইট-পাথর বা ইস্পাত-কংক্রিট ছেড়ে কাঠের দিকে ঝুঁকছেন – কাঠের বাড়ি, কাঠের অফিস, কাঠের চ্যাপেল বা গির্জা৷

জুরিখ চিড়িয়াখানার এলিফান্ট হাউস বা হাতিদের বাড়ি৷ বাড়ির প্ল্যানটাই যে শুধু চমকে দেওয়ার মতো, এমন নয়; যে পদার্থ দিয়ে বাড়িটা তৈরি হয়েছে, তাও দেখবার মতো – ইস্পাত আর কংক্রিটের বদলে হাতিদের বাড়ি তৈরি হয়েছে প্রায় পুরোপুরি কাঠ দিয়ে! ৮৫ মিটার ব্যাসের ছাদটাকে ধরে রাখতে ভেতর থেকে কোনো থাম দিতে হয়নি৷ কয়েক বছর আগেও এ ধরনের একটি কাঠামো কাঠ দিয়ে তৈরি করার কথা কেউ ভাবতেও পারতো না! স্থপতি ফিলিপ হাইডেমান বাড়ি তৈরিতে কাঠ ব্যবহার সম্পর্কে সংশয়ের কথা জানেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আগুন লাগলে কী হবে, তাই নিয়ে ভয়৷ বীমা করতে বেশি খরচ পড়বে না তো? কাঠ পুরনো হলে কী হবে? কাঠ কি সত্যিই ইস্পাত কিংবা কংক্রিটের মতো অতদিন টেকে? এ সব ক্ষেত্রে চিন্তাধারা অনেকটাই বদলে গেছে৷''

ভিডিও দেখুন 04:31
এখন লাইভ
04:31 মিনিট

ইট-পাথর-ইস্পাতের জায়গায় কাঠ

জাপানের শিগেরু বান তাঁর কাঠের স্থাপত্যগুলির জন্য বিখ্যাত৷ জুরিখের একটি অফিসবাড়ি তৈরি করতে তিনি ইস্পাতের কাঠামোর বদলে কাঠ ব্যবহার করেছেন৷ – আল্পস পর্বতমালার পাহাড়ের চুড়োয় একটি রেস্ট হাউসের পরিকল্পনা করতে গিয়ে স্টার আর্কিটেক্ট হ্যারৎসোগ এবং ডে ময়রন টেকসই কাঁচামালের ওপর নির্ভর করেছেন৷ – স্পেনের স্থপতি সান্তিয়াগো কালাত্রাভা তাঁর কাচ, ইস্পাত ও কংক্রিটের স্থাপত্যগুলির জন্যেই বিখ্যাত৷ তবে জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ভবনটির অভ্যন্তরে তিনি প্রধানত কাঠ ব্যবহার করেছেন৷

কাঠের ‘কামব্যাক'

রেনেসাঁস আমলে বাড়িঘর তৈরি হতো কাঠ দিয়ে – আধুনিক স্থাপত্যেও সেই কাঠের এমন ‘কামব্যাক' আগে কল্পনাও করা যায়নি৷ ফিলিপ জোদিদিও তাঁর ‘উড বিল্ডিংস' বইটিতে এই নতুন বিকাশধারার কথা বলেছেন, ‘‘কাঠ ব্যবহার করার বহু পন্থা আছে, যে কারণে সারা বিশ্বে তার ব্যবহার৷ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের বাড়ি দেখতে পাওয়া যায়: সরকারি বা ব্যক্তিগত মালিকানার বাড়ি কিংবা ভবন; আবাসিক কিংবা অফিসবাড়ি৷''

জার্মানিতে ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ বাড়ি তৈরি হয় কাঠ দিয়ে৷ বড় বড় বাড়িতেও কাঠ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যেমন সুইজারল্যান্ডের লসান শহরের কাছের একটি স্কুলভবন তৈরিতে৷ ২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডে কাঠের স্থাপত্যের পুরস্কার পেয়েছে স্কুলবাড়িটি, লোকালআর্কিটেকচার নামের একটি সুইশ আর্কিটেক্ট ব্যুরোর সঙ্গে৷ স্থপতি আঁতোয়ান রোবের-গ্রঁপিয়ের বলেন, ‘‘আমরা নিঃসন্দেহে একটি টেকসই জগত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি নবায়নযোগ্য সম্পদ ব্যবহারের চেষ্টা করছি৷ কাঠ একটা খুব ভালো মেটিরিয়াল বলে আমার ধারণা৷ এটা হলো হালফ্যাশনের কাঠের বাড়ি তৈরির একটা প্রচেষ্টা৷''

টেকসই, সমকালীন, চমকদার৷ কাঠের আরো অনেক সুবিধা আছে: বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলে ও চাষবাসের কাজে কাঠের ব্যবহার চিরকালই খুব প্রচলিত৷ এছাড়া প্রিফ্যাব্রিকেটেড পার্টস ব্যবহার করলে বাড়ি তৈরিতে অনেক কম সময় লাগে, যেমন এই জিমটি তৈরি করতে৷

এছাড়া কাঠকে নতুন পদ্ধতিতে ট্রিটমেন্ট করে অনেক বেশি শক্ত ও স্থিতিশীল করা যায়, যার ফলে স্থপতিরা কাঠ দিয়ে এমন সব কাঠামো তৈরি করতে পারছেন, যা শুধু কংক্রিট দিয়েই করা এ পর্যন্ত সম্ভব ছিল৷ রোবের-গ্রঁপিয়ের বলেন, ‘‘অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মক্কেল বা খদ্দেররা কাঠ দিয়ে ঘেরা পরিবেশে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন৷ তাদের মনে হয়, কংক্রিট বড় বেশি আধুনিক, ঠান্ডা, অনুভূতিহীন৷ বাজারে কংক্রিটের নাম খুব ভালো নয়!''

টেকসই – উভয় অর্থেই

অপরদিকে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, কংক্রিট কাঠের চেয়ে বেশিদিন টেকে৷ কিন্তু কাঠও যে দীর্ঘজীবী হতে পারে, তা এই উপাসনার স্থানটি দেখলে বোঝা যায়৷ তৈরি হয়েছিল ২০০৮ সালে অস্থায়ী চ্যাপেল হিসেবে৷ দেড় বছর পরেই তা ভেঙে ফেলার কথা ছিল৷ কিন্তু চ্যাপেলটির অসাধারণ ডিজাইন মানুষজনকে মুগ্ধ করেছিল, আর তার কাঠের ধাঁচাও যতোদিন ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেকদিন বেশি টিকেছে৷ মাত্র গতবছর বাইরের অংশটা নতুন করে মেরামত করে মজবুত করা হয়েছে৷ এবার নাকি তা আরো ৩০ বছর টিকবে৷ অথচ এই চ্যাপেলের ফোল্ডিং কনস্ট্রাকশান নাকি পুরোপুরি কম্পিউটারে প্ল্যান করা৷ রোবের-গ্রঁপিয়ের বলেন, ‘‘দশ-পনেরো বছর আগেও যা করা যেত না, তা আমরা আজ করতে পারি – এই বাড়িটাই তার প্রমাণ, এর জটিল জ্যামিতি আর কাঠ কাটার জন্য ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি৷''

সেই কারণেই কাঠ নিয়ে স্থাপত্য ক্রমেই আরো বেশি দুঃসাহসী, আরো চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠছে৷ যেমন হেলসিনকির গুগেনহাইম মিউজিয়াম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও