ইউরোপে খাবার হিসেবে শৈবালকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা | অন্বেষণ | DW | 07.02.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ইউরোপে খাবার হিসেবে শৈবালকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা

এশিয়া, বিশেষ করে চীন, জাপান ও কোরিয়ায় খাবার হিসেবে সিউইড তথা সামুদ্রিক শৈবালের ব্যবহার অনেক দিনের৷ এবার ইউরোপীয়দের কাছে এই খাবার জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে আয়ারল্যান্ডের একটি জেলে পরিবার৷

তাদের বাস রাথলিন দ্বীপে৷ উদ্যোক্তার নাম কেট বার্নস৷ তাঁর কোম্পানি ‘ওশান ভেজ আয়ারল্যান্ড' শৈবাল থেকে নুডুলস তৈরি করে৷ এরপর তা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিক্রি করা হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘অতীতে শৈবালের বহু ব্যবহার ছিল৷ তবে এখন আমি যেটা করছি সেটা একটু ভিন্ন, কারণ আমি এর চাষ করছি, যেটা আরও বেশি ‘সাস্টেনেবল'৷ এর আরেকটি মানে হচ্ছে, আমরা কোন ধরনের শেওলার চাষ করতে চাই সেটা আমরাই নির্ধারণ করতে পারি৷ আমরা এর জন্মানোর সময়টাও ঠিক করে নিতে পারি৷

কেট আর তাঁর দল কৃত্রিম উপায়ে শেওলা জন্মানোর একটি পদ্ধতি বের করেছেন৷ শেওলা জন্মানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় নার্সারির ট্যাঙ্কে৷ নার্সারি ম্যানেজার সারাহ ব্যারি বলেন, ‘‘পানিতে থাকলে শেওলার বীজগুটি পাথরের মতো অমসৃণ কিছু খোঁজে৷ নিজের ছোট্ট লেজের সাহায্যে সাঁতার কেটে তারা সেই পাথরের কাছে গিয়ে থিতু হয়৷ সাগরের মতো সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে আমরা ট্যাংকে কুন্ডলীর মতো অমসৃণ সারফেস তৈরি করেছি, যেন বীজগুটি সেখানে গিয়ে থাকতে পারে৷''

ভিডিও দেখুন 04:57

খাবার হিসেবে শৈবাল

নয় সপ্তাহের মধ্যে বীজানুগুলোতে ছোট অঙ্কুর জন্ম নেয়৷ ট্যাঙ্কে শেওলা জন্মানোর সুবিধা হলো, এর ফলে ইকোসিস্টেমের কোনো ক্ষতি হয় না৷ তবে কিছু সমস্যা আছে৷ ব্যারি বলেন, ‘‘ট্যাঙ্কে শৈবালের চাষ করতে গিয়ে প্রথমদিকে একটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা৷ পানি বেশি অ্যাসিডমিশ্রিত হওয়ায় এবং সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল৷ তবে আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে জেনেছি কীভাবে পানিতে ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য আনা যায়, আর পানি ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখা যায়৷''

ট্যাঙ্কে জন্মানোর পর বীজানুগুলোকে দড়ি সহ সাগরে নামিয়ে দেয়া হয়৷ এর কয়েকমাস পর সেগুলো পানি থেকে তুলে আনা হয়৷

‘ওশান ভেজ আয়ারল্যান্ড' শৈবাল চাষের জন্য সাগরের ৩০ একর পরিমাণ জায়গার লাইসেন্স পেয়েছে৷

কেট ও তাঁর ছেলেরা ২০১৩ সালে কোম্পানিটি শুরু করেন৷ তাঁরা এই দ্বীপেই বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁরাই দ্বীপের শেষ জেলে পরিবার৷ শৈবালের চাষ জেলেদের আয়ের অন্যতম একটি উৎস হয়ে উঠেছে৷

‘ওশান ভেজ আয়ারল্যান্ড' এবার ২৫ টন শেওলা পাবে বলে আশা করছে৷ চাহিদা মেটাতে ভবিষ্যতে উৎপাদন দ্বিগুন করার পরিকল্পনা করছে তারা৷

খাবার হিসেবে ইউরোপীয়দের কাছে শৈবালকে পরিচিত করাতে চেষ্টা করছেন কেট৷ তিনি বলেন, ‘‘শৈবাল চাষের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, এর জন্য সাগরের নির্দিষ্ট অংশের লাইসেন্স নিতে হয়৷ আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে সমুদ্রের যে অংশে উইন্ডমিল বসানো আছে, তার আশেপাশের জায়গাগুলোর লাইসেন্স শেওলা উৎপাদনকারীদের দেয়া যেতে পারে৷ এর ফলে সাগরের অবকাঠামোর নানবিধ ব্যবহার হবে৷''

শৈবাল চাষের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর৷ তাই এই কাজে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে৷

প্রতিবেদন: লুইস অসবোর্ন/জেডএইচ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন