ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম কোরাল রিফ | অন্বেষণ | DW | 12.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম কোরাল রিফ

সাগরতলে ইকোসিস্টেম রক্ষায় কোরালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ প্রকৃতিতে কোরাল যেন আরও বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে সে নিয়ে গবেষণা করতে নেদারল্যান্ডসে ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম কোরাল রিফ গড়ে তোলা হয়েছে৷

Sylvana Antat Seychelles national park 2019

প্রতীকী ছবি

আর্নহেম শহরের বার্খার্স চিড়িয়াখানায় কোরালের জন্য থিয়েটারের মতো বিশাল লাইটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে৷ সেখানে সবুজ, কমলা ও হলুদ রংয়ের সমারোহ দেখা পাওয়া যায়৷

মেরিন বায়োলজিস্ট মাক্স ইয়ান্স ও তার দল অসাধারণ কাজ করছেন৷ ইয়ান্স জানান, ‘‘আমরা কোরালের জন্য সেরা পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি৷ এক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তি, জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সহায়তা নিচ্ছি৷''

যেমন তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়৷ বর্তমানে গবেষকদের কাছে কোরালের জীবন সম্পর্কে মাত্র ৩০ শতাংশ তথ্য আছে৷ তাই কৃত্রিম এই কোরাল রিফের ইকোসিস্টেম থেকে আরও অনেক কিছু জানার আশা করছেন গবেষকরা৷

আর্নহেমে জীববিজ্ঞানীরা কোরালকে আরেকটু ভালোভাবে জানার চেষ্টা করছেন৷ তারা প্রকৃতিতে কোরালকে আরও বেশিদিন বেঁচে থাকতে সাহায্য করতে চান৷

অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে উষ্ণতা, অম্লতা এবং মাছ ধরার কারণে সৃষ্ট দূষণ কোরালের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে৷

ইয়ান্স বলেন, ‘‘এটা অনেকটা প্রাণী ছাড়া বনের মতো৷ আপনার যদি বন না থাকে তাহলে কোনো বণ্যপ্রাণী থাকবেনা৷ কোরাল রিফের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই৷ আপনার যদি কোরাল না থাকে তাহলে অন্য প্রাণীও থাকবেনা৷''

রিফ হচ্ছে সাগরের নার্সারি৷ তাই বার্খার্স চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ হচ্ছে আন্ডারওয়াটার ওয়ার্ল্ড৷ প্রকৃতির চেয়ে সেখানে কোরালরা দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে৷

জীববিজ্ঞানী কনস্টান্স মাগার বলেন, ‘‘কোরাল কলোনিতে হাজার হাজার প্রাণী একসঙ্গে বাস করে, যেমনটা বড় শহরে দেখা যায়৷ দর্শকরা অনেকে কিছু বুঝতে পারেননা, কারণ সবাই শুধু চোখ আর মুখ খোঁজেন৷ কিন্তু এগুলো অতি ক্ষুদ্র প্রাণী৷ এদের শরীরের কিছু অংশ দেখা যায়, যেটা আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে৷''

বিশ্বে প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতির কোরাল আছে৷ এদের বেশিরভাগই বিলুপ্তির পথে৷ তারপরও কোরালপ্রেমিরা এগুলো পাচার করে থাকেন৷

ইউরোপের কাস্টমস কর্মকর্তারা জব্দ হওয়া কোরাল মাক্স ইয়ান্সের কাছে পাঠায়, যেমন এগুলো অস্ট্রেলিয়ার একটি বিরল প্রজাতির কোরাল৷ এগুলো আগে কোয়ারান্টিনে রাখতে হবে৷

ল্যাবরেটরিতে কষ্ট করে বাঁচিয়ে তোলা কোরাল সাগরে পাঠানোর বিষয়টি এখনও ভাবনায় নেই, কারণ সাগরের পানির অবস্থা ভালো নয়৷ পানির গুণ আবার ভালো হলে তখন চিন্তা করে দেখা হবে৷ ততদিন পর্যন্ত আর্নহেমে ৬০ ধরনের উপকরণ যোগ করে কৃত্রিম উপায়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পানি তৈরি করা হয়৷

এভাবে কোরাল দর্শনার্থীদের মনে আনন্দ দিয়ে যাবে৷ কনস্টান্স মাগার বলেন, ‘‘আমরা মনে করি দর্শকদের প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখানো উচিত৷ আপনার যদি কোনো কিছু সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে, কোনো কিছুকে যদি আপনি ভালো না বাসেন, তাহলে আপনি সেই জিনিস রক্ষা করতে চাইবেন না৷''

আর পানির নীচের জগত রক্ষা করতে চাইলে কোরাল বাঁচাতে হবে৷

গুডরুন এঙেল/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়