ইউরোপের একমাত্র স্বৈরাচারী দেশ বেলারুশে সংসদ নির্বাচন | বিশ্ব | DW | 24.09.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইউরোপের একমাত্র স্বৈরাচারী দেশ বেলারুশে সংসদ নির্বাচন

অবিশ্বাস্য হলেও খোদ ইউরোপের বুকে একমাত্র স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এখনো ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন৷ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে বিরোধীরা সাজানো প্রহসন হিসেবে বর্ণনা করেছে৷

প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো গত প্রায় ১৮ বছর ধরে রাজত্ব করছেন৷ ব্যাপক মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লুকাশেঙ্কো'র বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঝুলিয়ে রেখেছে৷ তিনি নিজে এক সময় গণতন্ত্রকে ‘বোকামি' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, একনায়কতন্ত্রই সেরা শাসনব্যবস্থা৷

তবে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র বেলারুশ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে নির্বাচন আয়োজনে কোনো ঘাটতি হয় না৷ এবারেও হয় নি৷ নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী রবিবার সংসদ নির্বাচনে ৭৪,৩ শতাংশ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন৷ দেশে প্রায় ৭ কোটি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত৷

অবিশ্বাস্য হলেও খোদ ইউরোপের বুকে একমাত্র স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এখনো ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন৷ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে বিরোধীরা সাজানো প্রহসন হিসেবে বর্ণনা করেছে৷

ইউরোপের একমাত্র স্বৈরাচারী দেশ বেলারুশে সংসদ নির্বাচন চলছে

বেলারুশে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক দল ও বেলারুশের গণ ফ্রন্ট নামের দুটি বড় দল রয়েছে৷ আরও কিছু ছোট দলও রয়েছে৷ তারা সবাই এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে৷ তাদের অভিযোগ, লুকাশেঙ্কোর প্রার্থীদের জেতাতে আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিল৷

প্রেসিডেন্টের অনুগত লোকজনই আবার সংসদে প্রবেশ করবে, এমনটাই ঘটে আসছে, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না বলে সবার ধারণা৷ ১১০টি আসনের মধ্যে এক জন বিরোধী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা কেউ দেখছে না৷ তবে লুকাশেঙ্কোর অনুগত হিসেবে পরিচিত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক দলের ৩ সদস্যের জয় প্রায় নিশ্চিত বলা চলে৷

খ্রীষ্টীয় গণতন্ত্রী রাজনীতিক ভিটালি রিমাশেভস্কি রবিবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের অভিযোগ করেছেন৷ তাঁর দলের সূত্র অনুযায়ী, মাত্র ৩৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন৷ প্রায় সব বড় শহরের মানুষের একটা বড় অংশ নির্বাচন বর্জন করেছেন৷ গণ ফ্রন্টের নেতা আলেক্সি ইয়ানুকেভিচ বলেন, বেলারুশের কর্তৃপক্ষ গণতান্ত্রিক সংস্কার চালানোর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নি৷ নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন করে, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে তারা নিজেদের ভাবমূর্তির উন্নতি করতে পারতো৷

ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংগঠন ওএসসিই সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বেলারুশের নির্বাচন সম্পর্কে রায় দেবে বলে জানিয়েছে৷

বেলারুশ সম্পর্কে পশ্চিমা দেশগুলির নীতির মধ্যে অসহায়ত্বই চোখে পড়ে৷ অত্যন্ত দরিদ্র এই দেশটিকে বিপুল পরিমাণে সাহায্য দিতে হয়৷ সেই সাহায্য বন্ধ করলে সাধারণ মানুষে ক্ষতি হবে৷ অন্যদিকে রাশিয়া লুকাশেঙ্কো'কে পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে চলেছে৷ এই অবস্থায় একমাত্র গণজাগরণের মাধ্যমেই বেলারুশে পরিবর্তন সম্ভব বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন