ইউরোপেও মশার উপদ্রব বাড়ছে | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 21.07.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ইউরোপেও মশার উপদ্রব বাড়ছে

উষ্ণ অঞ্চলের মশারা এবার ইউরোপ তথা জার্মানিতে ঢুকে পড়ছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিকারক হয়ে উঠছে জার্মান মশারাও৷ মারাত্মক জীবাণু বহন করছে তারা৷

পুরুষ মশাগুলি নিরীহ৷ তারা পছন্দ করে উদ্ভিদের রস৷ ফোটায় না হুল৷ এদেরকে বাঁচিয়ে রাখা যায়৷ রোমশ শুঁড় দেখে বোঝা যায় যে এগুলি পুরুষ৷ কীট বিশেষজ্ঞ স্ভেন ক্লিম্পেল হেসে বলেন, ‘‘প্রত্যেকটি মৃত মশা একটি ভালো মশা, আর তা যদি নারী মশা হয় তাহলে তো কথাই নেই৷'' কেননা এইগুলিই উপদ্রব করে বেশি৷

হুল ফুটিয়ে প্রচুর রক্ত শুষে নেয় তারা৷ তখন এদের ওজনও বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়৷ ডিমের জন্য তাদের প্রয়োজন হয় দুই থেকে পাঁচ মিলিগ্রাম রক্ত৷ এই ভাবে মশককূলের বংশ বিস্তার হতে থাকে৷ রক্ত চোষার সময় ভাইরাস, প্যারাসাইট ও নানা জীবাণুর সংক্রমণ ঘটাতে পারে মশারা৷ এর ফলে ম্যালেরিয়া, স্লিপিং ডিজিজ, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ হতে পারে৷ এই সব মশা বাহিত রোগের প্রকোপ এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা ল্যাটিন অ্যামেরিকায় দেখা যায় বেশি৷

Moskito Malaria Insekt stechen

নারী মশা উপদ্রব করে বেশি

অর্থাৎ উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বিস্তৃত হয় মশারা৷ বলেন হামবুর্গের ট্রপিক্যাল মেডিসিন ইন্সটিটিউটের এগব্যার্ট টানিশ৷ ‘‘আর গরম পড়লে মশার ভেতরে থাকা ভাইরাসরাও দ্রুত বাড়তে থাকে৷''

উষ্ণ অঞ্চলের মশারা ইউরোপে আসছে

প্রায়ই দেখা যায় উষ্ণ অঞ্চলের মশারা ইউরোপ তথা জার্মানিতে ঢুকে পড়ছে৷ যেমন এশিয়ার বাঘ মশা ও পীতজ্বর মশার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে এখানে৷

গবেষকরা এক সমীক্ষায় জার্মানির ৫৫টি জায়গা থেকে ৭৫,০০০ মশা সংগ্রহ করেছিলেন৷ এর মধ্যে তাঁরা ৫০ রকমের বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি মশা আবিষ্কার করেন৷ ‘‘আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু কিছু এলাকায় অভিবাসী মশারা এসে থিতু হয়৷ আর অন্য মশারা মাঝে মধ্যে দেখা দেয়৷'' বলেন গবেষক এগব্যার্ট টানিশ ও তাঁর সহকর্মী স্ভেন ক্লিম্পেল৷

বিভিন্ন দেশের মশারা পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সাথে জার্মানিতে চলে আসে৷ কিছুদিন তারা বেঁচেও থাকে৷ তারপর আবার শীত এলে বিলীন হয়ে যায়৷ কিন্তু জার্মানিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে৷ গরম বাড়ছে সেই সাথে শীতের সময় কমছে৷ বলেন স্ভেন ক্লিম্পেল৷ ‘‘জার্মানির কোনো কোনো অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা আগের চেয়ে তুলনামূলক বেড়েছে এবং ভেজা ভেজা হচ্ছে আবহাওয়া৷ মশাদের বেঁচে থাকার জন্য আদর্শ পরিবেশ বলা যায়৷

Anopheles Mücke

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিকারক হয়ে উঠছে জার্মান মশারাও

দেশি মশারাও বিপজ্জনক হতে পারে

শুধু বিদেশি মশাই নয়, জার্মানির মশারাও বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা৷ ‘‘আমাদের দেশীয় মশারাও এই আবহাওয়ায় বেশ আরাম পায়৷ বংশ বিস্তারেও পিছিয়ে থাকে না তারা৷ বছরে কয়েক প্রজন্মের জন্ম দেয়৷ এই মশাগুলিও মারাত্মক জীবাণু বহন করতে পারে৷'' বলেন গবেষক টানিশ ও ক্লিম্পেল৷

কিছুদিন আগে কুকুরের চর্মের কীটের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে জার্মান মশার মধ্যে৷ আসলে এই কীটের নিবাস আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ ইউরোপে৷ এটি কুকুর, শিয়াল, নেউল ইত্যাদি প্রাণীর দেহে থাকে৷ কোনো মশা যদি সংক্রমিত প্রাণীর রক্ত চোষে তাহলে তার দেহেও জীবাণু ঢুকে পড়ে৷ এরপর এটি মানুষকে হুল ফুটিয়ে সংক্রমিত করতে পারে৷ অবশ্য এই কীট তেমন মারাত্মক নয়৷ দ্রুতই মারা যায় এটি৷

বিভিন্ন দেশ থেকে কোন কোন জীবাণু এখানে আসছে ও বিস্তৃত হচ্ছে, এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখাটা খুবই জরুরি৷ বলেন স্ভেন ক্লিম্পেল৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আগামী ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ইউরোপ বিশেষ করে জার্মানিতে রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে সংক্রামক ব্যাধি আরো বিস্তৃত হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন