ইউরোপীয় রেনেসাঁর এক অগ্রপথিক আলব্রেশ্ট ড্যুরার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 09.05.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইউরোপীয় রেনেসাঁর এক অগ্রপথিক আলব্রেশ্ট ড্যুরার

তেল রং, জল রং, গ্রাফিক্স বা অঙ্কনচিত্র – শিল্পকলার প্রায় সব ধারাতেই আলব্রেশ্ট ড্যুরার রেখে গেছেন দারুণ প্রতিভার স্বাক্ষর৷ প্রতিকৃতি, নিসর্গ, মানুষ ও পশু-পাখি নিয়ে আঁকা তাঁর বহু কাজ সেরা শিল্পকর্মের ইতিহাসে আদর্শ হয়ে আছে৷

বিশেষ করে তাঁর ‘প্রিন্ট' বা ছাপ শিল্প শৈলী আজো বহু শিল্পীরই প্রেরণা৷ তামার পাতে এনগ্রেভ বা খোদাই অথবা উডকাট ছাপ শিল্পের মধ্য দিয়ে সেসময় মাত্র ২০ বছর বয়সেই ইউরোপের শিল্পাঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন আলব্রেশ্ট ড্যুরার৷ ‘নাইট, ডেথ অ্যান্ড দ্য ডেভিল', ‘সেইন্ট জেরমি ইন হিজ স্টাডিস' বা ‘মিলানকোলিয়া'-র মতো নিখুত শিল্প কর্মগুলিই তার প্রমাণ৷ কালি কলমে আঁকা ‘প্রেইং হ্যান্ডস', জোড়ো হাতে প্রার্থনার এই অঙ্কন চিত্র আজও বহু ক্ষেত্রেই শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়৷

পুরো নাম: আলব্রেশ্ট ড্যুরার

জন্ম তারিখ: ২১শে মে, ১৪৭১

জন্মস্থান: ন্যুরেনব্যর্গ, জার্মানি

মৃত্যু: ৬ই এপ্রিল, ১৫২৮, ন্যুরেনব্যর্গ

পেশা: চিত্রশিল্পী, খোদাইকার ও ছাপশিল্পী, গণিত বিশারদ, তত্ত্ববিদ এবং লেখক হিসেবেও রয়েছে তাঁর প্রতিভা ও দক্ষতার অনেক উদাহরণ৷

বাবা: আলব্রেশ্ট ড্যুরার, জ্যেষ্ঠ

মা: বারবারা হোলপার

স্ত্রী: আগনেস (মৃত্যু - ১৫৩৯)

উল্লেখযোগ্য শিল্প কর্ম: নাইট, ডেথ অ্যান্ড দ্য ডেভিল, সেইন্ট জেরমি ইন হিজ স্টাডিস, প্রেইং হেন্ডস, মিলানকোলিয়া

পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপের উত্তরাঞ্চলীয় রেনেসাঁর এই অগ্রপথিক শুধু চিত্রশিল্পীই ছিলেন না৷ আরো বহু গুণের অধিকারী ছিলেন আলব্রেশ্ট ড্যুরার৷ আজ যে আমরা চিত্রাঙ্কন বিদ্যায় জ্যামিতির ধারায় বা মাপে মানবদেহের অনুপাত ও গঠন শিখতে পারি, সেটা তাঁরই গবেষণার ফল৷

তিনি ছিলেন গণিত বিশারদ৷ সৃজনশীল চিত্রশিল্পে শিল্পীর নিজস্ব নাম বা স্বাক্ষর রাখা – সেটা তাঁরই অবদান৷ এর আগে চিত্রাঙ্কন অন্য যে কোনো দক্ষ হাতের কাজের মতোই বিবেচিত হোত৷ অর্ধাৎ, কোনো স্বাক্ষর থাকতো না৷

আলব্রেশ্ট ড্যুরারের বাবা ছিলেন স্বর্ণকার৷ কয়েক বছর স্কুল শিক্ষার পর বাবার কাছেই স্বর্ণকার ও অঙ্কনে তাঁর হাতে খড়ি৷ ১৪৮৬ সালে ১৫ বছর বয়সে শিল্পী মিশায়েল ভলগেমুটের শিক্ষানবিশ ছিলেন তিনি৷ এ সবকিছুই জানা যায় তাঁর রচিত আত্মজীবনীতে৷ লিখতেনও অসাধারণ৷ তাঁর ‘ফোর বুক্স অন মেজারম্যান্ট' এবং ‘ফোর বুক্স অন হিউম্যান প্রোপর্ষন' ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল৷ সে সময় বেশিরভাগই লেখা হোত ল্যাটিন ভাষায়৷ কিন্তু ড্যুরার লিখতেন জার্মান ভাষায়, স্বদেশি শিল্প নৈপুন্যের আঙ্গিকে৷ জার্মান গদ্যের বিস্তারণেও তাঁর অবদান আছে৷ তার প্রমাণ, ষোড়শ শতাব্দীতে খ্রিষ্ট ধর্মের সংস্কারক এবং প্রটেস্ট্যান্ট গির্জার প্রবর্তক মার্টিন লুথার, ড্যুরারের গদ্যের আদলেই বাইবেলের অনুকরণ শুরু করেন৷ আলব্রেশ্ট ড্যুরার নিজে একজন ক্যাথোলিক হলেও মার্টিন লুথারের সংস্করণের সমর্থক ছিলেন তিনি৷ বহু গুণের অধিকারি নিরহঙ্কার এই মানুষ মৃত্যুর প্রায় ছ'শ বছর পরও বিশ্ব ইতিহাসের অহঙ্কার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন