ইউরোপীয় ইউনিয়নের গায়ের কাঁটা ভিক্টর ওর্বান | বিশ্ব | DW | 09.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গায়ের কাঁটা ভিক্টর ওর্বান

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বান তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন৷ ফলে দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে বৈধ স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ওর্বানের অনুকরণকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের ফল্কার ভাগেনার৷

রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অর্বানের ফিদেস পার্টি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়েছে৷ হাঙ্গেরি হচ্ছে, গণতান্ত্রিকভাবে বৈধতা পাওয়া একদলীয় শাসনব্যবস্থার একটি রাষ্ট্র – অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র আর পুটিন ও এর্দোয়ানের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাঝামাঝি একটি অবস্থানে আছে দেশটি৷

পূর্ব ইউরোপের তারকা রাজনীতিবিদ

ওর্বানের প্রভাব যে শুধু তাঁর দেশের ১০ মিলিয়ন মানুষের উপর আছে তা নয়৷ পোল্যান্ডের শাসক দল ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস' পার্টি এবং চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়াও ওর্বানের আদর্শের অনুসারী৷ এই চার দেশ মিলে গড়ে ওঠা ‘ভিসেগ্রাড গ্রুপ' ব্রাসেলস বিরোধী বলে পরিচিত৷ তাদের অভিযোগ, ইউরোপ তাদের উপর নির্দেশ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে৷ ২০১৬ সালে পোল্যান্ডের ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস' পার্টির ইয়ারোস্লাভ কাচিন্সকি ওর্বান সম্পর্কে উৎসাহ নিয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমরা তাঁর কাছ থেকে শিখছি৷''

সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের সম্পর্কের উপর হাঙ্গেরি ছাড়া আর অন্য কোনো দেশের নির্বাচনি ফলাফলের এত বড় প্রভাব পড়েনি৷ ওর্বান আগেই বলেছিলেন, ২০১৮ সাল ‘বড় লড়াইয়ের বছর' হবে৷ এখন নির্বাচনে জেতার কারণে তিনি আরও বেশি করে ব্রাসেলস বিরোধী প্রচারণা চালাবেন বলে ধরে নেয়া যায়৷

Wagener Volker Kommentarbild App

ফল্কার ভাগেনার, ডয়চে ভেলে

যখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ পূর্বদিকে তার বিস্তার ঘটানো শুরু করেছে তখন থেকে ইইউ-র কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন অর্বান৷ ইইউ-র মানদণ্ড অনুযায়ী, ওর্বান একদলীয় শাসনব্যবস্থার পথপ্রদর্শক৷ আর বৈশ্বিক বিবেচনায় তাঁকে পুটিন, ট্রাম্প আর এর্দোয়ানের মতো স্বৈরশাসকের স্তরে ফেলা যায়৷ তাঁরা প্রত্যেকেই গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর আইনের শাসনের শত্রু৷

এদিকে, ইউরোপীয় সংসদের রক্ষণশীল দলগুলোর মৌন সমর্থনের জন্য ওর্বানের দল এতদিন ধরে হাঙ্গেরিতে সফল হয়ে আসছে৷ কারণ ইউরোপীয় সংসদের ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে সমাজতন্ত্রীদের দূরে রাখতে ‘ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি' বা ইপিপি, বিশেষ করে জার্মানির খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের, ওর্বানের ফিদেস পার্টির প্রতিনিধিদের ভোট প্রয়োজন৷

ইইউ পশ্চিম এবং ইইউ পূর্ব – প্রয়োজন মধ্যস্থতা

ইইউ যদি নিজেদের ভেতরকার সংকট দূর করতে চায় তাহলে আগে সাম্প্রতিক অতীত বুঝতে হবে৷ পূর্ব আর পশ্চিম ইউরোপের সেই অতীত ছিল ভিন্ন৷ পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি কিংবা সার্বিয়ায় স্বৈরতান্ত্রিক ঘরানার শাসনব্যবস্থার কারণ সেসব দেশের মানুষ সাবেক সোভিয়েত আমল থেকে এমন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত৷

তবে চুক্তি চুক্তিই৷ হাঙ্গেরি আর পোল্যান্ড যেহেতু ইইউ-তে যোগ দিয়েছে তাই তাদের ইইউ-র নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে৷ কারণ যোগ দেয়ার সময় তাদের এ সব জানা ছিল৷ হয়ত এখনও পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যে মধ্যস্থতার সময় আছে৷ তবে তারপর ফুটবলে যেমন বেশি ফাউল করলে লাল কার্ড দেয়ার নিয়ম, সেটি প্রয়োগ করতে হবে৷

ফল্কার ভাগেনার/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন