ইউরোপে নাইজেরিয়ান মাফিয়ার দৌরাত্ম্য | বিশ্ব | DW | 29.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

নাইজেরিয়া

ইউরোপে নাইজেরিয়ান মাফিয়ার দৌরাত্ম্য

ডুইসবুর্গ শহরের ফুলকান স্ট্রিটে জার্মানির সবচেয়ে বড় পতিতালয়৷ নাইজেরিয়া থেকে আসা অনেক নারীকেই দেখা যায় এখানে৷ ইউরোপে সক্রিয় থাকা নাইজেরিয়ার একটি শক্তিশালী মানব পাচারচক্র এর জন্য দায়ী৷

সলিডারিটি উইথ উইম্যান ইন ডিসট্রেস নামের এনজিওর কর্মকর্তা বারবারা ভেলনার জানান, এখানকার মহিলাদের অধিকাংশই নাইজেরিায়ার সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর সদস্য, যারা শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশ৷

সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর নারীরা প্রায়ই এ মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়৷ তাদের ঠিকানা হয় এখানে৷ মাফিয়াদের এ চক্রটি বেশ শক্তিশালী বলেও জানান বারবারা৷

তিনি বলেন, ‘‘সুবিধাবঞ্চিত এ নারীদের বলা হয়  ইউরোপ পৌঁছুতে হলে তোমাদের একটি বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিতে হবে৷ এর জন্য বেশ কিছু টাকা প্রয়োজন৷ তবে এটা কোন সমস্যা নয়৷ কেননা, ইউরোপে পৌঁছেই তোমরা ভালো অংকের আয়-রোজগারের পথ পেয়ে যাবে৷''

বাড়ছেপাচারেরসংখ্যা

২০১৮ সালে জার্মান পুলিশ পাচার হওয়া এমন ৬৮ জন নারীর সন্ধান পান যারা নাইজেনিয়ান পাচারকারীদের মাধ্যমে এখানে এসেছেন৷  পরিসংখ্যান বলছে, আফ্রিকা থেকে পাচার করা নারীদের বেশিরভাগই নাইজেরিয়ান৷ সংখায় এটি শতকরা ৬১ ভাগ৷

পাচারকারীদের ঠেকাতে তৎপর রয়েছে জার্মান পুলিশ৷ ২০১৭ সালে এক অভিযানে ৪৭ জন পাচারকারীকে আটক করে পুলিশ৷

নাইজেরিয়ান পাচারকারীদের এ দৌরাত্ম্য ঠেকাতে একটি বিশেষ প্রকল্প রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের৷ এ প্রকল্পে যোগ দিয়েছে জার্মানিও৷ নাইজেরিয়ান সরকারের সহযোগিতায় মাফিয়া চক্রকে থামানোই হচ্ছে প্রকল্পের উদ্দেশ্য৷

নাইজেরিয়ারনতুনচক্র

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গত তিন বছরে নাইজেরিয়া থেকে প্রায় ২০ হাজার নারী ইটালি এসেছেন বলে জানা গেছে৷

আফ্রিকা থেকে ইটালি আসা এমনই এক নারী হেলেন ওকোরো৷ প্রায় ২০ বছর আগে তিনি এসেছেন ইটালিতে৷ হেলেন বর্তমানে দেশটির সিসিলির কাটানিয়া শহরের ক্যাথলিকদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন৷ 

হেলেন জানান আশ্রয়ের জন্য এখানে অনেক নারী আসেন, কিন্তু কেন্দ্রটিতে যথেষ্ট জায়গা নেই৷ গত কয়েক বছরে হেলেন পাচারকারীদের নিষ্ঠুরতার পরিচয় পেয়ে আসছেন৷

তবে সিসিলিয়ানদের অনেকেই নতুন নতুন পাচারকারীর কথা বলছেন যারা এখানকার পরিবেশের সাথে মিশে গেছে৷ ইটালির সাংবাদিকরা অবশ্য দেশটির সরকারকেও এ অবস্থার জন্য দায়ী করছেন৷

সিসিলির সরকার পক্ষের আইনজীবী লিনা ট্রোভাটো অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তিনি বলেন নাইজেরিয়ান পাচারকারীদের বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সচেতন রয়েছে৷

ইয়ান-ফিলিপ শোলৎ, আন্ড্রেয়া লুয়েগ/আরআর/এডিকে

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন