ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে কোন পথে বাংলাদেশ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে কোন পথে বাংলাদেশ

ইউক্রেন-রাশিয়া প্রশ্নে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে বাংলাদেশ৷ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি৷ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি এটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে৷

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ভোট দানে বিরত থেকে তার স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেছে৷ আর এই ইস্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান এক৷ এটা একটা বিরল ঘটনা৷ তাই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এর বড় কোনো রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম৷

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি৷”

বাংলাদেশের এই অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি এই আক্রমণকে ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং তার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে৷ এ ধরনের আধিপত্যবাদী ও সস্প্রসারণবাদী তৎপরতা জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী অপরাধ৷ এই আক্রমণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি৷”

অডিও শুনুন 03:23

সরকারের এই অবস্থান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

তার মতে, ‘‘বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার তার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দেশবাসীর জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে বিরত থেকেছে, যা বাংলাদেশের সংবিধান ঘোষিত গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের নীতিমালা পরিপন্থি৷”

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে সমর্থন করে রবিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদেশ বিষয়ক কমিটির প্রধান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারের এই অবস্থান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে৷ ভূ-রাজনৈতিকভাবে আমরা লাভবান হবো বলে মনে হয়না৷ সবচেয়ে বড় কথা আমাদের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাকামী, মুক্তিকামী৷ তার বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে৷ দেশের মানুষ এটা মেনে নেবে না৷”

এর জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘‘বিএনপি নেতারা মূর্খের মত কথাবার্তা বলছে৷ এটা তাদের অজ্ঞতার পরিচয়৷ জাতিসংঘের যেকোনো সদস্যের ভোট দেয়ার যেমন অধিকার আছে৷ ভোট না দেয়ারও অধিকার আছে৷ ভোট না দিলে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হবে এটা তাদের কে বলেছে? এটা হলো তাদের অজ্ঞতা৷”

অডিও শুনুন 01:58

বিএনপি নেতারা মূর্খের মত কথাবার্তা বলছে: মাহবুব উল আলম হানিফ

তার মতে, ‘‘বিএনপির এখন কোনো কাজ নেই, কোনো ইস্যু নেই৷ তাই বসে বসে এইসব কথা বলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, পশ্চিমা দেশকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে৷ তাদের এসব কথাই প্রমাণ করে তারা দেশবিরোধী ৷তারা চায় যেকোনো অপ্রাসঙ্গিক একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রকে বিতর্কের মধ্যে ফেলা৷ এতে তো রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ তারা একটা দেশপ্রেমহীন যে দেশকে ধ্বংস করে হলেও দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চায়৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘তারা এটা নিয়েও রাজনীতি করার চেষ্টা করছে৷”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ইস্যুতে ভারত  চাপের মুখে পড়তে পারে৷ পাকিস্তান লাভবান হচ্ছে৷ আর বাংলাদেশে তেমন কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব পড়বেনা৷  দক্ষিণ এশিয়ায়ার বৃহৎ শক্তির অবস্থান বাংলাদেশকে সুবিধা দেবে৷ আর যেহেতু ইউক্রেন- রাশিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি ফলে এখনই এইসব দেশের চ‚ড়ান্ত হিসাব নিকাশ করার সময় আসেনি৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনূ মজুমদার মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশ ভোট দানে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে তার অবস্থান জানান দিয়েছে৷ এখন আর আগের মত অবস্থা নেই যে চাপ দিয়ে কোনো একটা অবস্থানে যেতে বাধ্য করা যায়৷ বাংলাদেশ সেই অবস্থাটা পার হয়ে এসেছে৷ ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এই ইস্যুতে একই জায়গায় আছে৷ দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী দেশগুলোর একই অবস্থানের কারণে এই ইস্যুতে তেমন প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না৷”

অডিও শুনুন 03:56

বিরত থাকা ছাড়া কোনো অপশন ছিলো: মেজর জেনারেল(অব.) মো. শহীদুল হক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘শুধু ইউক্রেন কেন যেকোনো দেশে হামলা, আগ্রাসন নিন্দনীয়৷ বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী৷ কিন্তু কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে অনেক বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়৷ এর সঙ্গে দেশের ভিতরের রাজনীতি সব সময় মেলে না৷ তাহলে ইয়েমেনে দিনের পর দিন সৌদি বিমান সে ব্যাপারে কী বলবেন? সেখানে তো কেউ নিন্দা জানাচ্ছে না৷ সরকার না, বিরোধী রাজনৈতিক দলও না৷ তাই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা ভালো৷”

সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব.) মো. শহীদুল হক মনে করেন, ‘‘ইউক্রেন ও রাশিয়া ইস্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি৷ সেটা শেষ হলে যুদ্ধ বিরতি হতো না৷ কূটনীতি এখনো সচল আছে৷ তাই এখনো খুব বড় আতঙ্কের কারণ নেই৷”

তার কথা, ‘‘ইউক্রেন ও রাশিয়া দুইটি দেশই বাংলাদেশের ভালো বন্ধু৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অনেক বড় অবদানের আবেগ আমাদের আছে৷ আর রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও তাদের সাথে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প  আছে৷ ইউক্রেন থেকে আমরা গম আনি, আর্মস আনি৷ ফলে আমাদের কাছে অপশন কী ছিলো সেটাই প্রশ্ন৷ বিরত থাকা ছাড়া কোনো অপশন ছিলো?”

অডিও শুনুন 04:26

ইয়েমেনে দিনের পর দিন সৌদি বিমান নিয়ে তো কেউ নিন্দা জানাচ্ছে না: শান্তনূ মজুমদার

তিনি বলেন, ‘‘ভারতে অবশ্য এই ভোট দানে বিরত থাকা একটা বড় পলিটিক্যাল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে৷ অ্যামেরিকা কিন্তু ভারতের কাছ থেকে বড় একটা সাপোর্ট চেয়েছিলো, পায়নি৷ আর পাকিস্তানকে তো আগেই তালাক দিয়েছে৷ র‌্যাব ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ একটু ব্যাকফুটে আছে৷ তবে মনে হয়না নতুন করে এই ইস্যুতে কোনো চাপ আসবে৷”

তিনি মনে করেন, ‘‘এই ইস্যুতে ভারত কিছুটা চাপে পড়বে৷ তবে পাকিস্তান লাভবান৷ কারণ সে অনেক কম দামে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে রাশিয়ার সাথে৷ বাংলাদেশে এমনিতে ব্যবসা বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে বলে মনে হয়৷”

তবে এই বিশ্লেষকদের কথা, যুদ্ধ কতটা দীর্ঘায়িত হয় তার ওপর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে৷ সেজন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে৷