ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগী জি-সেভেন | জার্মানি ইউরোপ | DW | 13.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগী জি-সেভেন

জার্মানিতে জি-সেভেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়েও আলোচনা হবে৷ ইউক্রেন, মলদোভা ও ইন্দোনেশিয়াও বৈঠকে যোগ দিচ্ছে৷

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে

ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা শুধু সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই৷ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার উপরেও এই সংকটের কুপ্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ শিল্পোন্নত দেশগুলির গোষ্ঠী জি-সেভেন সেই ধাক্কা সামলাতে উদ্যোগ নিতে চায়৷ সেই লক্ষ্যে শুক্রবার ও শনিবার জার্মানির উত্তরে ভাইসেনহাউস শহরে আলোচনায় বসছেন জি-সেভেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা৷ ইউক্রেনের পর মলদোভার উপরেও রাশিয়ার হামলার আশঙ্কাও তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ৷ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না৷

জি-সেভেন গোষ্ঠীর বর্তমান সভাপতি জার্মানি ছাড়াও ব্রিটেন, ক্যানাডা, ইটালি, ফ্রান্স, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউক্রেন সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে শনিবার পর্যন্ত আলোচনা করছেন৷ ইউক্রেন ও মলদোভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও শুক্রবারের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন৷ ইউক্রেন সংকটের কারণে মলদোভায়ও শরণার্থীর ঢল নামায় দরিদ্র দেশ হিসেবে সে দেশের সরকার পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে৷ মলদোভায় রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতার ফলেও রাশিয়ার হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ছে৷ এমন অবস্থায় ইউরোপ থেকে আরও সহায়তার আশা করছে সে দেশ৷

ইউক্রেনে যুদ্ধের কারে গোটা বিশ্বে শস্য, রান্নার তেল, জ্বালানি ও সারের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গেছে৷ বিশেষ করে আফ্রিকায় খাদ্য সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে  জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে৷ ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে শস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি কার্যত থমকে গেছে৷ জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, শুধু ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরেই প্রায় আড়াই কোটি টন শস্য আটকে রয়েছে৷ তাঁর মতে, গোটা বিশ্বে বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ মানুষের জন্য সেই শস্য সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি৷ ফলে দ্রুত গতিতে এবং দক্ষতার সঙ্গে এমন খাদ্য সংকটের মোকাবিলা করতে চায় জি-সেভেন৷ জি-টোয়েন্টি গোষ্ঠীর বর্তমান সভাপতি ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদিও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুক্রবার বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন৷ নভেম্বরে সে দেশে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়েও কথা হবে৷

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস ইউক্রেনের জন্য আরও সহায়তার পক্ষে সওয়াল করছেন৷ তাঁর মতে, বিশেষ করে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনকে আরও দ্রুত ও আরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো উচিত, যা ন্যাটোর মানের হতে হবে৷ ট্রাসের মতে, ইউক্রেনে পুটিনের পরাজয় ঘটলে তবেই অন্য দেশের উপর রাশিয়ার আরও হামলা প্রতিরোধ করা যাবে৷

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর হাতে মূলত সোভিয়েত আমলের সরঞ্জাম থাকায় গোলাবারুদ সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে৷ সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা তাই বৃহস্পতিবার বার্লিনে পশ্চিমা দেশ থেকে বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সরবরাহের ডাক দেন৷ জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস আরও ভারি অস্ত্র সরবরাহ করলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর সরাসরি সংঘাত বা পরমাণু যুদ্ধের যে আশঙ্কা করছেন, কুলেবা তা উড়িয়ে দেন৷ তাঁর মতে, সে ক্ষেত্রে সেটাই হবে রাশিয়ারও শেষ যুদ্ধ৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

সংশ্লিষ্ট বিষয়