ইউক্রেনীয় শিল্পীদের প্রতিরোধের অস্ত্র বেহালা ও কণ্ঠের সুর | বিশ্ব | DW | 20.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন

ইউক্রেনীয় শিল্পীদের প্রতিরোধের অস্ত্র বেহালা ও কণ্ঠের সুর

বেহালার সুর হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে৷ অন্তর্জালের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে সেই করুণ আর্তি৷ ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেহালাবাদক ভেরা লাইটোভচেঙ্কো ছড়িয়ে দিচ্ছেন সেই সুর৷

ভেরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘সেনসেশন'৷ তার বেহালার সুর যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য  যুদ্ধ পরিস্থিতি ভুলিয়ে দেয়৷ রবিঠাকুরের ভাষায় এই সুর আসলে  ‘তব শুভসঙ্গীতরাগ, তব সুন্দর ছন্দ৷'

ভিভালদি এবং ইউক্রেনীয় সুরের সংযোগস্থাপন করে বেহালা বাজিয়েছেন ভেরা লাইটোভচেঙ্কো৷ এভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভেরা৷ সারা বিশ্বের মানুষ সেই সুরের মূর্চ্ছনায় ভেসেছেন৷ এরপর চাঁদাও তোলা শুরু করেছেন তিনি৷

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংবাদসংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন,‘‘আমি চিকিৎসক নই৷ আমি সেনাসদস্য, কিংবা রাজনীতিবিদও নই৷ আমি শুধুই বেহালা বাজাই৷ আমার বন্ধু, আমার সংগীত শিক্ষকদের একটু সাহায্য করতে চাই৷ ওরা ঘর হারিয়েছেন৷ ওরা এখন কর্মহীন, ওদের কাছে কোনো বাদ্যযন্ত্র পর্যন্ত নেই৷''

খারকিভে অপেরা অর্কেস্ট্রার এককশিল্পী ৩৯ বছরের এই নারী৷ এক ছাত্রই অনুপ্রেরণা দিয়েছেন ভেরাকে, এমনটাই জানান তিনি৷ সাবওয়েতে আশ্রয় নেয়া অসহায় ইউক্রেনীয়দের বেহালা বাজিয়ে শুনিয়েছিল তার সেই ছাত্র৷ বর্তমানে তিনি নিজেও একটি বেসমেন্টে আশ্রয় নিয়েছেন৷ সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন ১১ জন শিশু এবং কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি৷ ভেরা মনে করেন, তাদের ভাগ্য যথেষ্ট ভালো৷ তিনি যেখানে রয়েছেন, সেখানে বিদ্যুৎ রয়েছে৷ ঘর উষ্ণ রাখার জন্য হিটার রয়েছে, খাবারও রয়েছে৷ বেশিরভাগ ইউক্রেনীয় এত কিছু পাননি৷

বছর কুড়ির তরুণী ইলিয়া বন্দারেঙ্কোও একই পথের অনুসারী৷ ইউক্রেনের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানীয় লোকসংগীত ‘ভেরবোভায়া দসচেচকা'-র সুর বেহালায় বাজিয়ে সেটির ভিডিও রেকর্ডিং করেছিলেন ইলিয়া৷ এরপর ৭০টি দেশের বেহালাবাদকের সঙ্গে তিনি ভিডিও মন্তাজে যোগ দেন৷ মিউনিখ চেম্বার অর্কেস্ট্রার বেহালা গোষ্ঠীর সবাই ছিলেন তার সঙ্গে৷ ছিলেন নয় জন ইউক্রেনীয় সংগীতশিল্পীও৷

লন্ডন সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা তাদের ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেছিল সেই ক্লিপ৷ তিন লাখ ৫০ হাজার বার দেখা হয়েছে সেই ভিডিও ক্লিপ৷ যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে ‘ইউক্রেনের জন্য বেহালাবাদকরা' শীর্ষক একটি ক্যাম্পেইনে চাঁদা সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে৷

বরিষধরামাঝেশান্তিরবারি'

বন্দারেঙ্কো লাভিভের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন তার দাদীর সঙ্গে৷ কিন্তু তার বাবা-মা আটকে রয়েছেন ঝিতোমিরে, যেটি আবার কিয়েভ থেকে খুব বেশি দূরে নয়৷ তাই যথেষ্ট চিন্তিত এই তরুণী৷

এই পরিস্থিতিতে সুর তাকে ছেড়ে যাযনি৷ তিনি মনে করেন, ‘‘সুরের একটা অন্যরকম শক্তি রয়েছে৷ যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ইউক্রেনীয় শিল্পীরাও সেনার ভূমিকায়, এমনটা বলাই যায়৷'' কিয়েভের কনজারভেটরিতে সংগীত ও কম্পোজিশন নিয়ে পড়াশোনা করছেন বন্দারেঙ্কো৷ তিনি বলেন, বেহালাই তার কাছে প্রতিরোধের অস্ত্র৷ তা দিয়ে তিনি আরো অনেক সুরের মূর্চ্ছনা তুলতে চান৷

বিশ্বসাথেযোগেযেথায়বিহারো'

লন্ডনের সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার তরফে কেরেঞ্জা পিকক অর্কেস্ট্রার এই প্রকল্পের কথা ভেবেছিলেন৷ তিনি বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার কারণে কয়েকজন বেহালাবাদক এই প্রকল্পে অংশ নিতে পারেনি৷ তারা এই কারণে ক্ষমাও চেয়েছেন৷

বছর তেইশের তরুণী মারিয়া ক্লিমেনকো যুদ্ধপীড়িত কিয়েভ ছেড়ে লভিভে আশ্রয় নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘অনেক সংগীতশিল্পী দেশের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন৷'' কিন্তু তার ভাবনাটা ভিন্ন৷ মারিয়া ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন৷ ইউক্রেনের একটি ঘুমপাড়ানি গান গেয়েছিলেন তিনি সেই ভিডিওতে৷ গিটারে তাকে সঙ্গত করেছেন তারই সহকর্মী ইউরি বিকবায়েভ৷ কিন্তু সেই সঙ্গত ভার্চুয়াল ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে৷ কারণ, ইউরি আটকে রয়েছেন এই মুহূর্তে রাশিয়ার হামলার প্রধান লক্ষ্য কিয়েভে৷

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে কিয়েভে নিজের বাড়ির জানলাগুলো সিল করে রেখেছেন ইউরি, জানিয়েছেন মারিয়া৷ তিনি বলেন, ইউরির সঙ্গে যেন আবার তার দেখা হয়, যুদ্ধের আগে তাদের মধ্যে যেমন সম্পর্ক ছিল, তেমনটা যেন বজায় থাকে- আপাতত এইটুকুই তার কামনা৷

মারিয়া জানান, ছোটবেলায় তাকে শান্ত করতে তার মা এই ঘুমপাড়ানি গান গাইতেন৷ তিনি চান, যে মানুষগুলো তার ভিডিও দেখবেন, তাদেরও মনে যেন শান্তি আসে৷ ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী'র ‘নিত্যনিঠুর দ্বন্দ্ব' থেকে পরিত্রাণের উপায় সুরের মাধ্যমেই খুঁজতে চাইছেন এই সংগীতশিল্পীরা৷

আরকেসি/এসিবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন