ইইউ′র ‘হাই রিস্ক′ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ | বিশ্ব | DW | 06.06.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ইইউ'র ‘হাই রিস্ক' ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ

ইইউ বাংলাদেশকে ‘হাই রিস্ক' ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত করে আকাশ ও সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহনে শর্ত জুড়ে দিয়েছে৷ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কার্গো দ্বিতীয়বার স্ক্যানিং করতে হবে৷ তা না হলে তৃতীয় কোনো দেশে স্ক্যানিং হবে৷

খরচ দিতে হবে বাংলাদেশকে৷ সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধি দল সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এহসানুল গণি চৌধুরীসহ সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিভিল অ্যাভিয়েশন কার্যালায়ে৷ বৈঠকে ইইউ'র প্রতিনিধিরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ‘হাই রিস্ক' দেশ ঘোষণা করেছে৷ নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আকাশপথে কার্গোর মাধ্যমে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে যাবে, সেসব পণ্য দ্বিতীয় দফায় স্ক্যানিং (তল্লাশি) করতে হবে৷

দ্বিতীয় ধাপে স্ক্যানিং বলতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন মেথডের কথা ৷এটা ডগ স্কোয়াড, ডিটেকশন যন্ত্র এবং ম্যানুয়ালি– এই তিনভাবে হতে পারে৷ এছাড়া এই স্ক্যনিং তৃতীয় কোনো দেশেও হতে পারে৷ তৃতীয় কোনো দেশে এই স্ক্যানিং হলে তার খরচ বাংলাদেশ, মানে বাংলাদেশের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটিকেই করতে হবে৷

অডিও শুনুন 00:43
এখন লাইভ
00:43 মিনিট

‘সার্বিকভাবে কী প্রভাব পড়বে তা আমি বলতে পারব না’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্রসহ আধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্র বসানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে৷ যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি, যানবাহন তল্লাশি, তরল বিস্ফোরক শনাক্তকরণে আলাদা আলাদা যন্ত্র বসানো হচ্ছে৷ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের পরামর্শে এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে৷ এর মধ্যে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি সংযোজনের কাছে চলছে৷ এছাড়া বেশ কিছু যন্ত্রপাতি শাহজালালে সংযোজন হয়েছে, কিছু সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে৷ তবে বিস্ফোরক ডিটেকটশন স্ক্যানিং ছাড়া ইইউ বাংলাদেশের বিমান ও নৌ বন্দর থেকে কোনো ধরণের পন্য পরিবহণ করতে দেবে না৷ বাংদেশের বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর না করলে তা অবশ্যই তৃতীয় কোনো দেশে করাতে হবে৷ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম ডয়চে ভেলেকে  বলেন, ‘‘আমার বিমানবন্দরে কোনো সমস্যা হবে না, সেটা আমি বলতে পারি৷ ওরা একটা সেকেন্ড এক্সপ্লোসিভ চেক চায়৷ সেটাস্ক্যানিং করার ব্যবস্থা আমার এয়ারপোর্টে আছে৷ কিন্তু সার্বিকভাবে কী প্রভাব পড়বে তা আমি বলতে পারব না৷

 কারণ, তারা আকাশ এবং জলপথে সব ধরণের কার্গোরই এক্সপ্লোসিভ সিকিউরিটি চেক চায়৷''

অডিও শুনুন 01:40
এখন লাইভ
01:40 মিনিট

‘এটা নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না’

আর বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ  এবং এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন যন্ত্রও আমাদের আছে৷ আমাদের এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (এলইডিএস) কেনা হয়েছে, এটি কার্যকর করতে কয়েকমাস সময় লাগবে৷ এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশনের তিনটি পদ্ধতির দু'টি এখনই আমাদের আছে৷ আমরা তাই আমাদের এখানেই তা করার প্রস্তাব করেছি৷ এটা নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না৷''

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে কুয়েতকেও ইইউ ‘হাইরিস্ক' ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করেছে৷

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইইউ দেশগুলো ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ৷ নিরাপত্তার জন্য এই দ্বিতীয় স্ক্যানিংয়ের কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপর অর্থিক চাপ বাড়তে পারে৷

এদিকে ইইউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘‘দ্বিতীয় দফা স্ক্যানিং ১ জুন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে৷ আর দ্বিতীয় দফা স্ক্যানিং বলতে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানিংকে বোঝানো হয়েছ৷'' ইইউ বাংলাদেশ থেকে ইইরোপে পণ্য পরিবহনকারী সবাইকে এটা অনুসরণ করতে বলেছে৷ তারা বলেছে, এই স্ক্রিনিং বাংলাদেশ বা তৃতীয় কোনো দেশে হতে পারে৷ বাংলাদেশে না হলে তা আগেই জানাতে হবে৷

এর আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য৷ এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইন৷ প্রতিষ্ঠানটি সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন