ইংরেজি না জেনেও উন্নতি করছে অনেক সমাজ | বিশ্ব | DW | 12.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউরোপ

ইংরেজি না জেনেও উন্নতি করছে অনেক সমাজ

‘ইংলিশ মিডিয়ামে না পড়ালে সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার' – এমন ধারণা কিন্তু বিশ্বের সব প্রান্তে প্রজোয্য নয়৷ ছোট-বড় অনেক দেশে শুধু মাতৃভাষা সম্বল করেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়৷

ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব

‘‘সেকি! তোমাদের সন্তান বিদেশে থেকেও ইংরেজি বলতে পারে না?'' সম্প্রতি দেশে বেড়াতে গিয়ে বারবার এমন বিস্ময়ভরা উক্তি শুনতে হয়েছিল প্রবাসী এক পরিবারকে৷ ঢাকা-কলকাতার বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত বলয়ে শিশুসন্তানকে যত দ্রুত সম্ভব ইংরেজি শেখানো অনেক বাবা-মায়ের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে৷ তার জন্য ‘দামি' স্কুলের হাজার দাবি মেটাতেও প্রস্তুত তাঁরা৷ আর মাতৃভাষা? বাংলা মোটামুটি বলতে পারলেই হলো৷ ভালো নম্বর পেয়ে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোতে যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু আত্মস্থ করার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়৷ কিন্তু উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা চাকরিজীবনে নিজের জায়গা পাকা করে নিতে হলে ইংরেজির উপর দখল থাকা অত্যন্ত জরুরি৷

শুধু কি ইংরেজি? ভারতে অন্তত চলনসই হিন্দি জ্ঞানও বেশ কাজে লাগে৷ তার উপর বলিউড ও সিরিয়ালগুলির কল্যাণে হিন্দি শেখার বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে৷ সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় গোটা উপমহাদেশে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে৷ কলকাতার রাজপথে ট্যাক্সি চাপলেও বিহারি চালকের সঙ্গে হিন্দি বললেই সুবিধা৷ অতএব ভুল-ভ্রান্তিভরা হিন্দির প্রয়োগ ভারতের বাঙালি সমাজের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও হিন্দিভাষীদের হাসির কারণ হয়ে উঠেছে৷

বহুবাষী সমাজের বৈশিষ্ট্য

বহু ভাষাভিত্তিক এই বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার সমাজের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে৷ মানুষ বুঝে গেছে যে, ক্ষেত্র অনুযায়ী ভাষা বেছে নিতে হয়৷ বাসার চার দেওয়ালের মধ্যে মাতৃভাষায় কথোপকথন জরুরি৷ অথচ সেই ভাষা লেখা বা পড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তেমন জরুরি নয়৷ কাজ চালানোর মতো হিন্দি বা দক্ষিণ ভারতে তামিল জানলেই চলে৷ অক্ষরজ্ঞান না থাকলেও পরোয়া নেই৷ আবার শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, পেশার জন্য ইংরেজি বলা, বোঝা, লেখা ও পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ নিদেনপক্ষে শুনে বুঝতে হবে এবং লেখা পড়তে পারতে হবে৷ যে যার প্রয়োজনমতো একাধিক ভাষার নির্দিষ্ট ‘স্কিল' বা দক্ষতা বেছে নেয়৷ ভাষার উপর সম্পূর্ণ দখল থাকা তাদের কাছে জরুরি নয়৷

বহুভাষী সমাজের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ‘খিচুড়ি ভাষা'৷ অর্থাৎ একই বাক্যের মধ্যে একাধিক ভাষার শব্দের প্রয়োগ৷ এর আরো ‘বিকৃত' রূপ হলো একাধিক ভাষার বাক্য জুড়ে কোনো বক্তব্য রাখা৷ কখনো প্রতিশব্দের অভাব, কখনো নিজের জ্ঞান জাহির করতে অনেকে এটা করেন৷ কখনো বা জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠানের আরজে বা সঞ্চালক ইচ্ছা করেই এমন খিচুড়ি সৃষ্টি করেন৷ শুদ্ধবাদীরা এমন প্রয়োগ শুনলে শিউরে ওঠেন৷ কোনো এক সময় এই প্রবণতা গা-সওয়া হয়ে যায়৷

মাতৃভাষাই যেখানে মূলমন্ত্র

অথচ এমন বাস্তবতা বিশ্বের সব প্রান্তে মোটেই প্রজোয্য নয়৷ ব্রিটেন, অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো ইংরেজিভাষী দেশগুলিতে ভাষা হিসেবে শুধু ইংরেজির প্রচলন নিয়ে বিস্ময়ের কোনো কারণ নেই৷ সেখানে একটি ভাষা জানলেই জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়৷ তবে ইংরেজিভাষী জগতের বাইরেও এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে৷ জার্মানিতে জার্মান, ফ্রান্সে ফরাসি, স্পেনে শুধু স্প্যানিশ জানলেও স্কুল, কলেজ, প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা – জীবনের প্রায় সব চাহিদা মেটানো সম্ভব৷ যুগে যুগে সেই সব ভাষার এমন বিকাশ ঘটে চলেছে যে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ইত্যাদি প্রায় সব ক্ষেত্রেই উপযুক্ত পরিভাষা সৃষ্টি হয়েছে৷ ফরাসি ভাষায় কম্পিউটারেরও নিজস্ব শব্দ রয়েছে৷ কিছু ইংরেজি শব্দ প্রবেশ করলেও সার্বিকভাবে ভাষা, পরিভাষা, ব্যাকরণের ভিত্তি বেশ মজবুত৷ ভাষার পরিবর্তনশীল প্রয়োগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত সংস্কার করে চলে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি৷ অতএব আজ যা অশুদ্ধ, আগামীকাল তা শুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে৷

শুধু ইউরোপ নয়, চীন, জাপান, কোরিয়া, আরব জগত, দক্ষিণ অ্যামেরিকার স্প্যানিশ ও পর্তুগিজভাষী দেশগুলিতেও এমন প্রবণতা কম-বেশি দেখা যায়৷ যে যার মাতৃভাষা সম্বল করে জীবনে অনেকদূর অগ্রসর হতে পারে৷ বিশেষ প্রয়োজন পড়লে তবেই অন্য কোনো ভাষা শিখতে হয়৷

আদানপ্রদানের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ-ভারতের মতো দ্বিভাষিক বা বহুভাষিক সমাজের জটিল প্রেক্ষাপট বোঝা বাকিদের পক্ষে অনেক সময়ে কঠিন হয়ে ওঠে৷ ঔপনিবেশিক প্রভাব, অঞ্চল অনুযায়ী হিন্দি বা তামিলের মতো ভাষার প্রভাব, স্বাধীনতার পর অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ – এমন একাধিক বিষয়ের মেলবন্ধনে সমাজে ভাষার প্রয়োগ হয়ে চলেছে৷ পরিস্থিতির চাপে মাতৃভাষা কিছু ক্ষেত্রে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে৷ সব ক্ষেত্রে পরিভাষার বিকাশ ঘটেনি৷ ঘটলেও তার প্রচলন সীমিত, কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিতও৷ মাতৃভাষার উপর সাংবাদিক বা অধ্যাপকের দখল থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার ইংরেজি ভাষা সম্বল করেই মাথা তুলে জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন৷ অতএব সন্তানকে জীবনে ‘সফল' করে তুলতে ইংলিশ মিডিয়ামের প্রতি বাবা-মায়েদের আনুগত্য বিস্ময়ের কারণ হতে পারে না৷

এই বৈপরিত্য দূর হবার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না৷ প্রত্যেক সমাজ নিজস্ব বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে এগিয়ে চলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তবে একে অপরের জগত সম্পর্কে জানলে বৃহত্তর বিশ্বকে বুঝতে সুবিধা হয় বৈকি৷

এসবি/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন