‘আয়ুবের্দিক চিকিৎসায় অনেক রোগেই ভালো ফল মেলে′ | আলাপ | DW | 25.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘আয়ুবের্দিক চিকিৎসায় অনেক রোগেই ভালো ফল মেলে'

বাংলাদেশে চারটি চিকিৎসা পদ্ধতি স্বীকৃত৷ অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি, আয়ুবের্দিক৷ আয়ুবের্দি চিকিৎসার নানা উত্তর দিচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও নূরমজিদ আয়ুবের্দিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বাবুল আক্তার৷

ডয়চে ভেলে: আয়ুবের্দিক মূলত কী ধরনের চিকিৎসা?

ডা. এম বাবুল আক্তার: আয়ুবের্দিক মূলত দেশীয় চিকিৎসা৷ এই চিকিৎসা এসেছে মূলত আড়াই হাজার বছর আগে৷ হিন্দু ধর্মে অনেকগুলো বেদের মধ্যে অথর্ব বেদ বলে একটা বেদ আছে৷ জানা যায়, ওই অথর্ব বেদে আয়ুবের্দিক চিকিৎসার কথা বলা আছে৷

আয়ুবের্দিক চিকিৎসার সঙ্গে হোমিওপ্যাথি, অ্যালোপ্যাথি বা ইউনানি চিকিৎসার পার্থক্য কী?

অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা এসেছে অনেক পরে৷ ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে বা তার কিছু আগে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে৷ অন্যদিকে আয়ুবের্দিক চিকিৎসা এসেছে খ্রিষ্টপূর্বের সঙ্গে সঙ্গে৷ তখন অন্যান্য চিকিৎসাও ছিল৷ মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে চার ধরনের চিকিৎসাস্বীকৃত৷ এগুলো হলো আয়ুবের্দিক, হোমিওপ্যাথি, অ্যালোপ্যাথি ও ইউনানি চিকিৎসা৷ এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো ভারতবর্ষে ছিল৷ কিন্তু অ্যামেরিকায় তখন আয়ুবের্দিক বা ইউনানি চিকিৎসা ছিল না৷ তাদের অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা ছিল৷ এটা যখন ভারতবর্ষে শুরু হয়, তখন থেকেই মূলত এই চিকিৎসার শুরু৷ আমি ভারতের গুজরাটের আয়ুবের্দিক ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি৷ ভারতে আরো কয়েক জায়গায় এই ধরনের আয়ুবের্দিক বিষয়ে ইনস্টিটিউট হয়েছে৷ এরপর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় এই আয়ুবের্দিক চিকিৎসার উন্নতি শুরু হয়৷

অডিও শুনুন 08:45
এখন লাইভ
08:45 মিনিট

‘আয়ুবের্দিক চিকিৎসায় রোগ একবারেই সেরে যায়’

বর্তমান যুগে অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এই আয়ুবের্দিক চিকিৎসার কার্যকারিতা এখন কতুটুক?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গবেষণা করে দেখেছে আয়ুবের্দিক চিকিৎসার গুরুত্ব রয়েছে৷ কারণ, এখানে ওষুধ তৈরি হয় গাছ থেকে৷ যেমন ধরেন, কুইনাইন৷ এটা ম্যালেরিয়ার ওষুধ৷ এটা একটা গাছ থেকে তৈরি হয়৷ এখন যে কেমোথেরাপি দেয়া হয়, সেটাও একটা গাছ থেকে তৈরি ওষুধ৷ হ্যাঁ, এটা নয়নতারা গাছ থেকে তৈরি হয়৷ যতগুলো ‘ক্রনিক ডিজিজ' আছে তার সবগুলোর ওষুধই তৈরি হয় গাছ থেকে৷ লিভারের সমস্যা বা নারীদের যে গাইনি সমস্যা – এই চিকিৎসাগুলোতে মর্ডান মেডিসিনের তুলনায় আয়ুবের্দিক চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর৷ অনেক গবেষণা হয়েছে এগুলো নিয়ে৷ সেখানে দেখা গেছে, অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেলে কোনো একটা রোগ তাৎক্ষণিকভাবে হয়ত সেরে যাচ্ছে৷ তবে পরে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে৷ কিন্তু আয়ুবের্দিক চিকিৎসায় সে ধরনের কোনো সুযোগ নেই৷ যে রোগটা সারছে, সেটা একবারেই সেরে যাচ্ছে৷

এই চিকিৎসার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেছে না বাড়ছে?

নিঃসন্দেহে বাড়ছে৷ তাও কিছুটা না, বেশ বাড়ছে৷ বর্তমান সরকার আয়ুবের্দিক চিকিৎসার প্রতি বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে৷ ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কিছু লোকের চাকরিও হয়েছে৷ প্রথম দফায় ৩০ জনের নিয়োগ হয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে৷ পরে আরো দেড় থেকে দুইশ' জনের চাকরি হয়েছে৷ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজগুলোতে আমাদের মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে৷ এতে আমাদের মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ হচ্ছে৷ তারাও আয়ুবের্দিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারছেন৷ কারণ চারটি চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের দেশে স্বীকৃত৷ ভারতে কিন্তু এর জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে৷ ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি৷ আমাদের দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়ুবের্দিক বিষয়ে একটা সেল আছে৷ একজন ‘লাইন ডিরেক্টর' আছেন৷ তিনি এটা দেখাশোনা করেন৷ আমাদের একটা বোর্ডও আছে৷

আয়ুবের্দিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে সফলতার হার কেমন?

এই চিকিৎসায় সফলতার হার ভালো৷ যেমন ধরুন, কারও লিভারের সমস্যার জন্য আমরা যদি ওষুধ দেই তবে সেই রোগী অনেক ভালো বোধ করেন৷ আমরাও রোগীদের কাছ থেকে ভালো ‘ফিডব্যাক' পাই৷

আয়ুবের্দিক চিকিৎসা বেশি গ্রহণ করেন কোন বয়সি মানুষ?

হয়ত এমন কোনো গবেষণা আছে৷ কিন্তু সেটা দেখতে হবে৷ তবে সাধারণত শিশুরা আয়ুবের্দিক চিকিৎসা নিতে খুব একটা আসে না৷ মহিলারা বেশি আসেন৷ মধ্যবয়সিরাও আসেন, আবার বয়স্ক মানুষও আসেন৷ পেটের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টে যাঁরা ভোগেন, তাঁরা আয়ুবের্দিক চিকিৎসা বেশি নেন এবং ভালো ফলও পান৷

বাংলাদেশে কত শতাংশ মানুষ আয়ুবের্দিক চিকিৎসা নেন, এমন কোনো গবেষণা আছে?

নিশ্চয়ই আছে৷ কিন্তু এই মুহূর্তে বলতে পারছি না৷

আয়ুবের্দিক চিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আপনার পরামর্শ কী?

আমার পরামর্শ হলো – সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা থাকতে হবে৷ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে৷ পাশাপাশি বিজ্ঞাপন দিয়ে যারা প্রতারণা করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে৷ আমি নিজে ওষুধ ফর্মুলা কমিটির সদস্য৷ ওষুধ কোম্পানিগুলো যখন ওষুধগুলো তৈরি করছে, তখন তারা যাতে সঠিক উপাদান দিয়ে সেগুলো তৈরি করে সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে৷ আমি বলবো, পুরো মনিটরিং সিস্টেম আরো শক্ত ও কঠোর করতে হবে৷ পাশাপাশি আমাদের দেশে ওষধি গাছের চাষ বাড়াতে হবে৷ আমাদের আবহাওয়ায় যেসব গাছ লাগানো সম্ভব, সেগুলো আরো বেশি করে লাগাতে হবে৷ তাহলে ওষুধের দাম যেমন কমবে, পাশাপাশি জনগণ মানসম্পন্ন ওষুধও পাবেন৷

ডা. বাবুল আক্তারের সঙ্গে কি আপনি একমত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়