আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের নিন্দা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 11.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

তুরস্ক

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের নিন্দা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরে ঘোষণা দিয়েছেন৷ এই সিদ্ধান্তে ইউনেস্কো, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছে৷ তবে এর্দোয়ান বলছেন, সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে স্থাপনাটি৷

১৯৩৪ সালে আয়া সোফিয়াকে মসজিদ থেকে জাদুঘরে রূপ দেয় তুরস্কের তৎকালীন সরকার৷ শুক্রবার সেই সিদ্ধান্তকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির একটি আদালত৷ এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ান স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য এক নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন৷ পরবর্তীতে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি জানান, ২৪ জুলাই থেকে সেখানে নামাজ আদায় করা যাবে৷ তবে সবার প্রার্থনার উপযোগী করে তুলতে ছয় মাস সময় লাগবে৷

আয়া সোফিয়াকে কী কাজে ব্যবহার করা হবে তার সিদ্ধান্ত নেয়া তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার বলেও উল্লেখ করেন এর্দোয়ান৷ জানান, মসজিদে পরিণত হলেও এটি সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে৷ ‘‘আমাদের অন্য সব মসজিদের মতই আয়া সোফিয়ার দুয়ার স্থানীয় বা বিদেশি, মুসলিম বা অমুসলিম, সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে,’’ বলেন তিনি৷

শুক্রবার তুরস্কের অনেক মুসলিম আয়া সোফিয়ার সামনে সমবেত হন৷ নতুন সিদ্ধান্ত জানার পর তারা স্থাপনার বাইরে প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ 

আয়া সোফিয়ার ইতিহাস

আয়া সোফিয়া মূলত ছিল গির্জা৷ ষষ্ঠ শতকে বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময়ে তৈরি করা হয় এটি৷ ১৪৫৩ সালে অটোমানরা কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর দ্বিতীয় সুলতান মেহমেদ এই ক্যাথিড্রালটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন৷ আধুনিক তুরস্কের স্থপতি মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক এটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন ১৯৩৫ সালে৷ এরপর থেকে অসাম্প্রদায়িক তুরস্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল আয়া সোফিয়াকে৷

আয়া সোফিয়ার স্ট্যাটাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে টানাপড়েন চলছে৷ ধর্মীয় কট্টরপন্থিরা অনেকদিন ধরে ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে মুসলিমদের নামাজ পড়ার জন্য খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে৷

অটোমানদের কনস্টান্টিনোপল (বর্তমানে ইস্তানবুল) জয়ের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়া সোফিয়ার ভেতরে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাও করা হয় গত মাসে৷ শুক্রবার তুরস্কের প্রশাসনিক আদালত এবং এর্দোয়ানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৮৬ বছর পর আবারও মসজিদে ফিরছে আয়া সোফিয়া৷

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

মসজিদে রূপান্তরের বিরোধীতা আগে থেকে করে আসছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানরা৷ তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের সম্পর্কের আরেক দফা অবনতি ঘটারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এ কারণে৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস সিদ্ধান্তটির নিন্দা জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, যারা আয়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অপরিহার্য হিসেবে বিবেচনা করেন এটি তাদের সবার জন্যই ক্ষোভের৷ ‘‘এই সিদ্ধান্তে শুধু গ্রিসের সঙ্গে নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনেস্কো এবং গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে,’’ বলেন তিনি৷

নিন্দা জানিয়েছে সাইপ্রাসও৷ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ক্রিস্টোডুলাকিস টুইটে তুরস্ককে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহবান জানিয়েছেন৷

রাশিয়ার সংসদের উচ্চ কক্ষের উপ-প্রধান ভ্লাদিমির জাবারোভ তুরস্ক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এটিকে মসজিদে রূপান্তর মুসলিম বিশ্বের জন্য কোন কিছু বয়ে আনবে না৷ এর মাধ্যমে দেশগুলোর কোন ঐক্য তৈরি হবে না৷ বরং উলটো দিকে তাদের সংঘাতের পথে ঠেলে দিল৷’’

তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে হতাশাব্যাঞ্জক বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মর্গান অর্টাগুস বলেন,‘‘তুরস্কের সরকার আয়া সোফিয়াকে সব দর্শানার্থীর জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলেছে৷ সেখানে কারো প্রবেশেই যাতে বাধা তৈরি না হয় সে বিষয়ে কী করা হবে যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিকল্পনা জানার অপেক্ষায় আছে৷ এর আগে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তুরস্ককে এমন সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহবান জানিয়েছিল৷

ইউনেস্কোর উদ্বেগ

১৯৮৫ সালে আয়া সোফিয়া জাতিসংঘের ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়৷ স্থাপনাটিকে মসজিদের রূপান্তরের পদক্ষেপ ১৯৭২ সালের আইনের বরখেলাপ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি৷

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অদ্রে আজুলে বলেছেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত স্থাপনার কোনো ধরনের সংস্কার যাতে এর বৈশ্বিক মূল্যবোধকে নষ্ট না করে তা মানার বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রের রয়েছে৷ এই বিষয়ে প্যারিসে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের কাছেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি৷ আয়া সোফিয়াকে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাদুঘর হিসেবে স্থাপনাটি তার এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে এবং মতবিনিময়ের প্রতীক হিসেবে টিকে রয়েছে৷ নতুন ঘোষণায় যার বরখেলাপ ঘটেছে৷

এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইউনেস্কোকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি৷

এফএস/জেডএ (এপি, রয়টার্স, এএফপি) 

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন