আসামে নতুন বিল, হিন্দু এলাকায় গো-মাংস বিক্রি নয় | বিশ্ব | DW | 13.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আসামে নতুন বিল, হিন্দু এলাকায় গো-মাংস বিক্রি নয়

আসামে গো-রক্ষায় নতুন বিল হিমন্ত বিশ্বশর্মার। হিন্দু, শিখ এলাকা, মন্দিরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গো-মাংস বিক্রি নয়।

আসামে গো-রক্ষায় নতুন বিল এনেছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

আসামে গো-রক্ষায় নতুন বিল এনেছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

আসামে ১৪ বছরের বেশি বয়সি গরু মারার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতে, ১৯৫০ সালের আইন গো-রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তাই তিনি নতুন বিল নিয়ে এসেছেন। নতুন বিলে বলা হয়েছে, হিন্দু ও শিখ বসতি এলাকা এবং কোনো মন্দিরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গো-মাংস বিক্রি করা যাবে না।

সোমবার আসাম গো-রক্ষা বিল ২০২১-কে বিধানসভায় পেশ করেন হিমন্ত। বিলে গো-হত্যার পাশাপাশি গো-মাংস খাওয়া, বেআইনি গরুপাচার বন্ধ করার কথাও বলা আছে। আর যে সব জায়গায় মূলত হিন্দু, শিখ ও জৈনরা থাকেন সে সব জায়গায় এবং মন্দিরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গো-মংস বিক্রি করা যাবে না, কেনাও যাবে না। ভারতের অনেক রাজ্যেই গো-হত্যা বন্ধ করার আইন রয়েছে। কিন্তু গো-মাংস কোথায় বিক্রি করা যাবে বা যাবে না তা নিয়ে এই প্রথমবার আইন করা হচ্ছে।

বিলে বলা হয়েছে, বৈধ নথিপত্র ছাড়া কোনো রাজ্য থেকে আসামে গরু আনা যাবে না, আসাম থেকেও কোথাও গরু নিয়ে যাওয়া যাবে না।  হিমন্ত আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশে গরু পাচার রুখতে তিনি আইন করবেন। বাংলাদেশের সঙ্গে আসামের ২৬৩ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।

১৯৫০ সালের আইনে বলা হয়েছিল, ১৪ বছরের বেশি বয়সি গরু, যা কাজ করতে সক্ষম নয়, তাদের কাটা যাবে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে গরু কাটা যাবে, এমন সার্টিফিকেটও নিতে হতো। নতুন বিলে বলা হয়েছে, মোষ, বলদ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সার্টিফিকেট নিতে হবে। পশু চিকিৎসককে বলতে হবে, যেগুলিকে মারতে চাওয়া হচ্ছে, তা একেবারেই কাজ করতে পারবে না বা কোনো দুর্ঘটনার ফলে তার অঙ্গহানি হয়েছে ইত্যাদি।

অসম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের দেবব্রত সাইকিয়া জানিয়েছেন, ''বিল নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গোমাংস নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার কীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে? যেখানে ইচ্ছে পাথর ফেলে মন্দির বানিয়ে ফেলা যায়। এই বিলের ফলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়বে।''

এআইউইউডিএফ নেতা আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ''মুসলিমদের মনে আঘাত করার জন্য এই বিল আনা হয়েছে। এর লক্ষ্য বিভাজন তৈরি করা। আমরা বিলের বিরোধিতা করছি।''

অসমীয়া প্রতিদিনের দিল্লির ব্যুরো চিফ আশিস গুপ্ত ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, ''মুখ্যমন্ত্রী হয়েই হিমন্ত বিশ্বশর্মা সঙ্ঘ পরিবারের কোর এজেন্ডা রূপায়ণ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এই বিলও তার সেই চেষ্টার অঙ্গ।'' তবে আশিস মনে করেন, ''হিমন্ত গোমাংস বিক্রি বন্ধ করতে পারেননি। তা নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন মাত্র।''

তবে হিমন্ত এই সব সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না। তিনি বিল পাস করতে বদ্ধপরিকর।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)