আসামের সামনে কঠিন ভবিষ্যৎ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

আসামের সামনে কঠিন ভবিষ্যৎ

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতের সংসদে পাশ হয়ে আইন হতে যাবার পথে৷ এর ফলে, নির্মম অতীতের পুনরাবৃত্তি হতে পারে আসামে৷

ভারতীয় সংসদের লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই ধাপেই পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল৷ এরপর থেকেই উত্তরপূর্ব ভারতসহ দেশের বিভিন্ন অংশে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ৷ কিন্তু প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আসাম৷

প্রশ্ন উঠছে, আসলেই কি সদ্য পাশ হওয়া বিলের অন্তর্নিহিত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? সম্প্রতি পাশ হওয়া বিলটি আসলেই বা কি?

আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি ও খ্রিষ্টানধর্মীদের থেকে অবৈধ তকমা তুলে তাদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভের পথ সহজ করে তোলে৷ এই বিল পাশ হবার পর থেকেই উত্তাল উত্তরপূর্ব ভারত, বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু আসাম৷

প্রতিবাদীদের ধারনা, এই বিল আইনে পরিণত হলে পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ থেকে বাড়বে এই অঞ্চলে অবৈধ অনুপ্রবেশ৷ ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় জানান, এই বিলের আওতায় থাকবে না মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড সহ আরো বেশ কয়েকটি আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল৷ কিন্তু আসামের একটি জেলা বাদ দিয়ে সর্বত্রই কার্যকরী হতে চলেছে এই বিল৷

কেন জ্বলছে আসাম?

নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদ প্রক্রিয়া শেষ হলে দেখা যায় সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ৷ পরিসংখ্যান বলছে, এই সংখ্যার মোট ১২ লাখই হিন্দু ধর্মাবলম্বী৷ ১৯ লাখের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই বাংলাভাষী৷ সব মিলিয়ে, নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদ প্রক্রিয়াকে নিয়ে মোটের ওপর খুশিই ছিল আসামের উগ্রজাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীরা৷ গোল বাধল যখন এই সমস্যায় এসে জোটে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, যার মূলে নেই ভাষিক পরিচিতি৷ বরং এই বিলের হাত ধরে প্রথমবার ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব লাভের জন্য আইন নিয়ে এলো সরকার৷

এদিকে, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীরা কড়া বার্তায় জানাচ্ছেন যে এই রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল চালু করবেন না তারা৷ ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়া হোক, এমনটা তারা চান না বলেই জানিয়েছেন তারা৷ অন্যদিকে আসামে সংগঠিত প্রতিবাদের কেন্দ্রে নেই এই বিলের সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য৷

বরং, আসামের প্রতিবাদ নতুন করে মনে করাচ্ছে ১৯৭৯-১৯৮৫ সালের দিনগুলির কথা, যখন গোটা আসামে উত্তাল হয়েছিল ‘বঙাল খেদা' (বাঙালি তাড়াও) আন্দোলনে৷ ইতিমধ্যে, অসমীয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় আক্রান্ত হচ্ছেন বাংলাভাষীরা৷ প্রতিবাদের রোষ থেমে নেই সাধারন জনগণের ওপর৷ প্রতিবাদী জনতা চড়াও হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে রাজ্যপালের অফিসেও৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাশ্মীর থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে আনা হয়েছে আসামে৷ পুলিশের সাথে সংঘর্ষে প্রাণও হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন৷

Shabnam Surita Dana

শবনম সুরিতা

সরকারী তথ্য জানাচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে আসা এই ছয় ধর্মগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারের কিছু বেশি৷ অন্যদিকে, অসমীয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠন আসু (অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) বারবার বলে এসেছে যে শুধু আসামেই বাস করছে অন্তত ৩০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি৷ কিন্তু এই তথ্যের সত্যতা কখনোই কেউ যাচাই করে উঠতে পারেনি৷

পরিস্থিতি দমনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রতিবাদীদের আশ্বাস দিয়েছেন যে আসামের জনগণের জন্য বহাল থাকবে আসাম চুক্তির ষষ্ঠ দফা, যার মাধ্যমে এই পরিস্থিতিতে অগ্রগণ্য হবে অসমীয়া মানুষের রাজনৈতিক, ভাষিক, সাংস্কৃতিক ও জমির ওপর অধিকার৷ কিন্তু আসামে বসবাসকারী অন্যান্য ভাষাগোষ্ঠীদের অধিকার, যারা বিশেষ করে ইসলাম ধর্মাবলম্বী, তাদের নিয়ে কেউ কিছু বলছে না৷

সত্তরের দশকের শেষ ও আশির দশকের গোড়ায় আসামে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তারই এক অন্য সংস্করণ বর্তমান আসাম৷ প্রথমে বিদেশি বিতারণের জুজু দেখিয়ে অসমীয়া-বাঙালি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরূপ মনোভাবের জন্ম দেওয়া ও পরে সেই আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুযোগের সদ্ব্যবহার- সবই যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি৷

ফলে, এই চলমান প্রতিবাদের ছোঁয়া এসে পড়তে পারে আসামে বসবাসকারী বাঙালি ও অসমীয়াদের সম্পর্কে৷ শুধু তাই নয়, অমুসলিমদের ভারতে নাগরিকত্ব দানের বিষয়ে কেমন হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া, তা নির্ধারণ করবে প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে আসাম বা ভারতের সম্পর্কও৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন