আসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি? | বিশ্ব | DW | 12.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

আসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি?

আদালতে আসাঞ্জের বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ আনা হলেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য প্রকাশের কোনো অভিযোগ করেনি মার্কিন সরকার৷ বলা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত হানার বিষয়টি এড়াতেই এই কৌশল বেছে নেয়া হয়েছে৷

সরকারের গোপন তথ্য সম্বলিত একটি কম্পিউটার হ্যাকের যড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার জন্য জুলিয়ান আসাঞ্জকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ৷ গত বছর মার্চে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ভার্জিনিয়া আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করা হলেও তা এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল৷ বৃহস্পতিবার আসাঞ্জ গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুধবার সেটি প্রকাশ করা হয়েছে৷ সেখানে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্য সরাসরি কোনো অভিযোগ আনা হয়নি৷ এটিকে সরকারের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে৷ কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর এই ঘটনার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷  

নিরাপদ কৌশল

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন আসাঞ্জের বিরুদ্ধে শুধু হ্যাকিংয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনাটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চতুর একটি সিদ্ধান্ত ৷ গোপন তথ্য প্রকাশের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির অপেক্ষাকৃত বড় অভিযোগ আনার সুযোগ ছিল তাদের সামনে৷ কিন্তু মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত ধারাটির উপর তা সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারত৷ সেটি সুকৌশলে এড়ানোর চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷

‘‘তথ্য প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের ব্যাপারটি বাদ দিয়ে অবৈধভাবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে৷ সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সাংবিধানিকভাবে নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে,'' বলেন ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার আইনের অধ্যাপক ফ্রেডরিখ শাওয়ার৷ তিনি বলেন, অন্যদেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য প্রকাশের আইনটি আলাদা৷ সেখানে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা তথ্য প্রকাশ শুধু বৈধই নয়, এমনকি সাংবিধানিকভাবে তা সুরক্ষিতও৷ 

অভিযোগপত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দাবি করেছে যে, ‘‘আসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘ক্লাসিফায়েড ডকুমেন্টস' ও যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ‘সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকলের' সাথে যুক্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি কম্পিউটারের সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড ভাঙার ব্যাপারে সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছিলেন৷'' এই অভিযোগ প্রমাণ হলে আসাঞ্জকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে৷

‘‘আমার মতে প্রকাশনা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ না আনা, সরকারের দিক থেকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল,'' বলেন শাওয়ার৷ তবে তাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কোনো কিছু প্রকাশের উপর হস্তক্ষেপের অভিযোগ থেকে তারা মুক্ত হবে না বলেও মনে করেন তিনি৷ শাওয়ার বলেন, ‘‘তারপরও অনেক মানুষ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নিয়ে কথা বলবে, অনেক মানুষ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করবে৷ কিন্তু অন্তত সংবিধানের বিদ্যমান ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে তথ্য হাতিয়ে নেয়া আর পরবর্তীতে তা প্রকাশ, এই দুটি বিষয় আলাদা, সেটি পরিষ্কার৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সাংবাদিকতায় কালিমা লেপন

আসাঞ্জের গ্রেপ্তারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁদের একজন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফাস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক জামিল জাফর৷ তাঁর মতে, অভিযোগত্রে সরকারি কম্পিউটার হ্যাকিং করাকে গোপন তথ্য প্রকাশের থেকে আলাদা করে দেখানোটা তাৎপর্যপূর্ণ৷ তিনি বলেন, এই অভিযোগপত্রে সাংবাদিকতার এমন অনেক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে যা শুধু আইনসঙ্গতই নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতারও মূল বিষয়৷ সাংবাদিকরা যেভাবে তাঁদের সোর্স বা সূত্র বজায় রাখেন এবং তাঁদের সাথে নিরাপদে যোগযোগ করেন সেই প্রক্রিয়া এর মাধ্যমে হুমকির মুখে পড়েছে বলেও মনে করেন তিনি৷

অভিযোগপত্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও উইকিলিকসের কাছে তথ্য ফাঁসকারী চেলসিয়া ম্যানিংসহ অন্য ‘ষড়যন্ত্রকারীদের' সাথে আসাঞ্জ কীভাবে অনলাইন চ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেছেন এবং ‘ক্লাউড ড্রপ বক্সের' মাধ্যমে কীভাবে তথ্য আদানপ্রদান করেছেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে৷

‘‘এটা পরিষ্কার যে, অভিযোগের মূল লক্ষ্য হলো সাংবাদিকতায় সম্পূর্ণ বৈধ এসব পন্থার উপর কালিমা লেপন করা, যা বেআইনিভাবে সরকারি তথ্যভাণ্ডার হ্যাক করার এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে করা হচ্ছে,'' বলছিলেন জাফর৷ তাঁর মতে ‘‘একদিক থেকে এটা ভালো যে, অভিযোগে সরকারি তথ্যভাণ্ডার হ্যাকের উপরই জোর দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু অন্যদিকে বড় একটা সমস্যার দিক হলো অভিযোগপত্রে সাংবাদিকতার সম্পূর্ণ বৈধ কর্মকাণ্ডগুলোকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷''

মারাত্মক প্রভাব

জাফরের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আসাঞ্জের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আরো অনেক অভিযোগ আনতে পারে৷ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে শত্রুর দৃষ্টিতে দেখছে, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে৷ বিচার বিভাগ কীভাবে আসাঞ্জের মামলাটি পরিচালনা করছে তার উপর গভীর নজর রাখা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘ সরকারের এই মামলা পরিচালনা প্রক্রিয়া সাংবাদিকতার উপর মারাত্মক কোনো প্রভাব ফেলতে পারে৷''

মিশায়েল ক্নিগে/এফএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন