আসছে নতুন জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ′ | বিশ্ব | DW | 30.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আসছে নতুন জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ'

‘গণতন্ত্র মঞ্চ' নামে নতুন রাজনৈতিক জোট আসছে আগামী মাসেই। সাতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত এই মঞ্চ নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে মাঠে নামবে।

Bangladesch ASM Abdur Rab, Jatiya Oikyafront

ফাইল ফটো

নতুন এই মঞ্চকে কিভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি? কারাই বা আছে এই জোটে? সরকার বিরোধী আন্দোলনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে নতুন এই জোট? তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-র সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাড়িতে রবিবার বৈঠকে বসেন নতুন জোটের নেতারা। সেখানেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন প্রাথমিকভাবে যুক্ত হচ্ছে এই জোটে। এর মধ্যে আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামের ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক ছিল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বর্তমানে বিলুপ্ত। ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি নিজেই বলেছেন ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অকার্যকর, এটি আর নেই'।

এই মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা মাহমুদুর রহমান মান্না ডয়চে ভেলেকে বলেন, "শুধু নির্বাচনকালীন সরকার নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কাজও করবে এই জোট। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের কথাও বলছি আমরা। মতাদর্শে মিললে যে কেউ এই জোটে আসতে পারে। জুন মাসের শেষ নাগাদ এই জোট আত্মপ্রকাশ করবে। ১১ জুন বৈঠকে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। যদিও বিএনপির ব্যাপারে কারও কারও আপত্তি আছে। তারপরও আমরা মনে করি, বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের মতো মাঠে নামার চেষ্টা করছি। নতুন এই জোট মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।”

‘শুধু নির্বাচনকালীন সরকার নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কাজও করবে এই জোট’

নতুন এই জোটকে বিএনপি কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স ডয়চে ভেলেকে বলেন, "সরকারের দমন-পীড়ন এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ফলে যে যেখান থেকে প্রতিবাদ করবে বিএনপি তাদের স্বাগত জানাবে। ফলে নতুন এই জোটকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা যদি সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা পাশে থাকব।”

আ স ম আবদুর রবের বাড়িতে অনুষ্ঠিত সাত দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য বহ্নি শিখা জামালী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী  জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুমসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা।

‘নতুন যে কোনো রাজনৈতিক জোটকে আমরা স্বাগত জানাই’

এতদিন আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলে রাজনীতিক করা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের কাছে এই জোটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিএনপিকে নিয়ে এখনও আমাদের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা যাদের নিয়ে এই জোট করছি, তাদের সঙ্গে আমাদের চিন্তার মিল আছে। সরকারের দমন-পীড়নের কারণে মাঠে একা টিকে থাকা মুশকিল। ফলে ছোট ছোট শক্তিগুলো যদি আমরা একত্রিত হই তাহলেও কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করতে পারবো। আমরা শুধু সরকার পতন চাই না, এখানে সিস্টেমে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।”

স্বাধীনতা বিরোধী কেউ আসতে চাইলে তাদের নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে জনাব নুর বলেন, "স্বাধীনতার ৫১ বছর পর স্বাধীনতা বিরোধী বলে আর বিভেদ তৈরি করা যাবে না। তারপরও মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিটের সঙ্গে যাদের রাজনীতি সাংঘর্ষিক তাদের আমরা এই জোটে নেব না।”

নতুন এই মঞ্চের অন্যতম উদোক্তা দু'টি দল গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এতদিন বাম গণতান্ত্রিক জোটেরও শরিক ছিল। দল দুটি আলাদা রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার উদ্যোগ নেওয়ায় গত বুধবার বাম জোটের এক বৈঠকে জোটে তাদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ডয়চে ভেলেকে বলেন, "আমরা বাম জোটকে বলেছিলাম যে বাম জোটকে টিকিয়ে রেখেই ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ভিত্তিতে অপরাপর গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিয়ে বৃহত্তর একটি জোট গড়া দরকার৷ যেটার কাজ এখন আমরা করছি৷’’ 

কিন্তু গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বাইরে বাকিরা সেই বিষয়ে আগ্রহী হয়নি উল্লেখ করে সাকি বলেন, ‘‘বাকিরা কেবল বাম জোটের মধ্যেই থাকতে চায়৷ ফলে তাদের দিক থেকে প্রশ্নটা উঠেছিল যে দুই জোটে একসাথে কীভাবে থাকা যায়? আমরা তখন বলেছি যে আপনারা তাহলে আপনাদের পদক্ষেপ নিন৷ তখন সেখানে সদস্যপদ স্থগিত করা হয়৷’’

নতুন এই রাজনৈতিক জোটকে কিভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ? জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, "নতুন যে কোনো রাজনৈতিক জোটকে আমরা স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে। কিন্তু যারা এই জোট করছে তারা আগেও তো এমন জোট করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সুযোগ দিয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে জোট হয়েছিল সেখানে জামায়াতের কোন উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম জোটের নেতা আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো নেতারা মনোনয়ন পেলেন না, পেল জামায়াতের ২৫ জন। তখন তো তারা প্রতিবাদ করেননি। তাহলে কি আমরা ভাবব, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে তারা পুনর্বাসন করছেন? যে দলগুলো এই জোট করছে, তাদের জন্মই হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরোধীতার জন্য। ফলে সেটা যে তারা করবে, এটা নিয়ে তো কোন সন্দেহ নেই। তারপরও তারা যদি স্বাধীনতা বিরোধীদের বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে বা জোট করে তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাব।”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়