আশ্রয় খুঁজছে, তবে কেবল ইউরোপেই নয় | বিশ্ব | DW | 18.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

আশ্রয় খুঁজছে, তবে কেবল ইউরোপেই নয়

জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার খোঁজে দলে দলে মানুষ ছুটছে নিজ দেশ ছেড়ে৷ এখনকার মতো এত বেশি মানুষ আর কখনো নিজ বাস্তুভিটা ছেড়ে পথে নামেনি৷ এদের একটা বড় অংশ ইউরোপে পাড়ি জমালেও অন্যান্য দেশেও ঠাঁই করে নিচ্ছে মানুষ৷

কখনও উন্নত জীবনের সন্ধানে, কখনও আবার অনিশ্চয়তা, নিপীড়ন ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে আগের চাইতে অনেক বেশি মানুষ আজ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে৷ সময়ের সাথে সাথে এ সংখ্যা বাড়ছে৷ জাতিসংঘের হিসাব মতে, সারা পৃথিবীতে প্রায় ২৪৪ মিলিয়ন মানুষ নানা কারণে তাদের মাতৃভূমিতে আর থাকে না৷ পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯০ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৫৩ মিলিয়ন৷ ধরে নেয়া যায়, সময়ের সাথে সাথে এ সংখ্যা আরো বাড়বে৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর করা ১৬০টি দেশের তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ২৩ মিলিয়ন মানুষ দেশান্তরিত হবার প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ 

পূর্ব আফ্রিকা

বহুল প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কেবল ইউরোপের দিকে ছুটছে এ জনস্রোত৷ কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়৷ জার্মান সংস্থা ‘ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ ভাগ শরণার্থী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাস করছে, বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অবস্থান নিয়েছে তারা৷ এদের বেশিরভাগই নিজেদের দেশের ভিতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে৷ অনেকেই আবার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছে পাশের দেশে৷ এর বেশি পথ যাওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই৷

এই যেমন অভিবাসীর সংখ্যা বিবেচনায় ইথিওপিয়া অবস্থান পঞ্চম৷ পাশের দেশ সোমালিয়ায় ১৯৯০ সাল থেকে চলমান যুদ্ধের সুবাদে সেখানকার অনেক মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইথিওপিয়ায় অবস্থান নিয়েছে৷ জাতিসংঘের হিসাব মতে, সোমালিয়ার প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ ইথিওপিয়া ও কেনিয়াতে বসবাস করছে৷ যেখানে ইথিওপিয়ার প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষ মানবিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল৷ অন্তত আট লাখ মানুষ এখানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে৷ কেনিয়াতে রয়েছে বিশ্বের সবচেযে বড় শরণার্থী শিবির৷

এছাড়াও পূর্ব আফ্রিকার আরেক দেশ উগান্ডাও শরণার্থীদের ব্যাপারে উদারহস্ত৷ ফলে কঙ্গো বা দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দাদের অনেকেই নিজ দেশের অস্থিতিশীলতা ও গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে পাড়ি জমান উগান্ডায়৷ এখানে শরণার্থীদের চাষাবাদের জন্য জমি দেয়া হয়৷ তবে দক্ষিণ সুদান থেকে উগান্ডায় পৌঁছানোর পথে রয়েছে ভয়াবহ বিপদের সম্ভাবনা৷ রাতেরবেলা সৈন্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানকার মানুষ উগান্ডায় প্রবেশ করেন৷ আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কেয়ার' গত জুলাইয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ সুদান থেকে পালাতে চাওয়া এক নারীর বলেন, ‘‘প্রতি রাতে আমরা প্রার্থনা করি যাতে আমরা জীবিত অবস্থায় উগান্ডায় পৌঁছাতে পারি৷''

মধ্য অ্যামেরিকা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার প্রস্তাবের সূত্র ধরে মধ্য অ্যামেরিকায় শরণার্থী প্রবেশের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে৷ যদিও এটা নিশ্চিত নয় যে প্রতিদিন কত মানুষ সীমান্ত পাড়ি দেয়, তবে মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট-এর হিসাব মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অ্যামেরিকায় প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ বাস করে, যার মধ্যে অর্ধেকই মেক্সিকো থেকে এসেছে৷

অনেকেই এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের অনেক বাসিন্দা মেক্সিকোকে বেছে নেয় ট্রানজিট হিসেবে৷ ২০১০ সাল পর্যন্ত  তরুণরা মুলত দেশ ছাড়লেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরো পরিবার নিয়েই মানুষ দেশান্তরিত হচ্ছে৷

এ যাত্রাপথে দালালদের পর্যাপ্ত টাকা দিতে না পারলে তাদের মুখোমুখি হতে হয় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের৷ অনেকক্ষেত্রেই সীমান্ত তীরবর্তি নদীর পাড়ে এ সব মানুষদের নৃশংসভাবে খুন করে অপরাধীরা৷ এ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ মৃত্যুর শিকার হয়েছে কতজন মানুষ তা জানা না গেলেও কিছু দিন পর পর কাছাকাছি এলাকায় গণকবর খুঁজে পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা যায়, এ সংখ্যা কম নয়৷

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসার মতে, এ বছরই ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এ সীমান্ত এলাকায়৷ এছাড়াও অনেকে পানিতে ডুবে, অনেকে আবার সাপ বা বিষাক্ত পোকার কামড়ে, অনেকে প্রচণ্ড গরমে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায় নিরাপদ জীবনের খোঁজে পথ পাড়ি দিতে গিয়ে৷ অ্যারিজোনার বন্ধ্যা পাহাড়ে প্রায়ই খুঁজে পাওয়া যায় মানুষের দেহাবশেষ ৷

দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কেবল ভূমধ্য সাগরের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দেয়, এমন নয়৷ অনেক মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে বিপন্ন করে তোলে নিজেদের জীবন৷ মিয়ানমার এবং বাংলাদেশথেকে অসংখ্য মানুষ থাইল্যান্ড, মালেশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমায়৷ মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হলে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করে৷ অনেকেই বিভিন্ন সীমান্তে বাধাগ্রস্থ হয়ে সমুদ্রে কাটায় দিনের পর দিন৷ অনেকেরই মৃত্যু হয় সাগরে নৌকাডুবিতে৷

বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে চাওয়া শরণার্থীরা অনেক সময় পাচারকারীদের সাহায্য নিয়ে পৌঁছাতে চায় নিরাপদ গন্তব্যে৷ জার্মান দাতব্য সংস্থা স্টিফটুং আসিয়ানহাউস-এর তথ্য অনুযায়ী, এ সব মানব পাচারকারীরা মুক্তিপণের আশায় শরণার্থীদের দিনের পর দিন জঙ্গলে আটকে রাখে কিংবা মাঝসমুদ্রেই অত্যাচার শুরু করে৷ অনেকেই এ ধরনের নৃশংসতার শিকার হয়ে মারা যায়৷ থাইল্যান্ড ও মালেশিয়ার সীমান্তের কাছে এর মধ্যে ২০০'রও বেশি গণকবর খুঁজে পাওয়া গেছে৷ তবে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে যত ঝুঁকিই থাক, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় খোলা ছিল না৷ ডক্টরস উইদআউট বর্ডার-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারে ৬৭০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ছিল শিশু৷

স্টিফেনি হ্যোপনার/আরএন

নির্বাচিত প্রতিবেদন