আলোচনার নামে প্রহসন চায় না সম্পাদক পরিষদ | বিশ্ব | DW | 15.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

আলোচনার নামে প্রহসন চায় না সম্পাদক পরিষদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রীদের সাথে আলোচনায় গেলেও সে বিশ্বাসের প্রতিফলন হয়নি বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ৷ মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তাই যেভাবেই হোক দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনেই আইন সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে৷

দাবি আদায়ে পত্রিকা সম্পাদকদের রাজপথে নামার নজির বাংলাদেশে নেই৷ এমন এক নজিরবিহীন আন্দোলনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে একত্রিত হন ১৬টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক৷

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩) নিয়ে আপত্তি সম্পাদকদের৷

বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘আমরা এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি মনে করি৷ আমরা মনে করি, এই আইন বলবৎ থাকলে প্রেস মিডিয়া, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া কেউ স্বাধীনভাবে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবো না৷''

আইন পাস হওয়ার আগ থেকে বিভিন্ন ধারা নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও আইন পাসের সময় তার প্রতিফলন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদক পরিষদ৷ নামে ‘ডিজিটাল আইন' হলেও এর ফলে স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনে করেন সম্পাদকরা৷

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘আমরা চাই, আগামী সংসদ অধিবেশনে এই আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক৷''

সম্পাদক পরিষদ থেকে এরপর সরকারের কাছে সাত দফা দাবি আবারো তুলে ধরা হয়৷ দাবিগুলো হচ্ছে-

১.ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা যথাযথভাবে সংশোধন করা৷

২. বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনেই এসব সংশোধনী আনা৷

৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদেরকে শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে, কিন্তু কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না৷ আর কেবল তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকানো যাবে, যখন যখন ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়বস্তু আটকে দেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে৷

৪. কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেওয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম অনুমতি নিতে হবে৷

৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে৷ সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার যাবে না৷

৬. গণমাধ্যমের পেশাজীবীর বিরুদ্ধে মামলার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করাতে হবে৷ সেজন্য প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে হবে৷

৭. তথ্য অধিকার আইনকে ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে' ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে৷

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন,‘‘বিভিন্ন মন্ত্রী বলছেন, আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি, আমরাও মনে করি না আলোচনার দরজা বন্ধ৷ তবে, আলোচনার নামে প্রহসন যেন না হয়৷ আমরা আলোচনায় গেছি, অত্যন্ত বিশ্বাস নিয়ে গেছি৷ কিন্তু সে বিশ্বাসের প্রতিফলন এখনো হয়নি৷উনারা বলছেন, আলোচনার দরজা খোলা, শুনে আমরা খুশি৷ তবে আলোচনা যেন গ্রহণযোগ্য দিকে যায়, শুধু আলোচনার জন্যই না হয়৷''

আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই ধারাগুলো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন সাংবাদিকরা৷ এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিলটি সংসদে পাশ হওয়ার আগেও সংসদীয় কমিটির সঙ্গে একাধিকবার বেঠক হয়৷ সেসব বৈঠকেও সাংবাদিকদের উদ্বেগের কথা বিবেচনার আশ্বাস দেয়া হয়, কিন্তু তাতে কেনো ফল আসেনি৷

বিলটি সংশোধন ছাড়াই সংসদে পাশ হলে ২৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের ঘোষণা দেয় সম্পাদক পরিষদ৷ তখন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কর্মসূচি স্থগিত করে সম্পাদক পরিষদকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান৷

এরপর তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের তিন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনাও করেন৷ আলোচনায় তিন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে এ নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে৷ কিন্তু গত দুটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি৷ বরং, এরমধ্যে আইনটি রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন এবং কার্যকরও হয়৷

আইনটি সংসদে পাশ হয় ১৯ সেপ্টেম্বর৷ এরপর রাষ্ট্রপতি ৮ অক্টোবর এই বিলে সম্মতি দিলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি কার্যকর হয়৷ এবং এরইমধ্যে এই আইনে মামলা দায়ের করাও শুরু হয়েছে৷

এডিকে/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন