আলোচনার আবহে জম্মুতে ড্রোন হামলা | বিশ্ব | DW | 28.06.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আলোচনার আবহে জম্মুতে ড্রোন হামলা

জম্মুর সীমান্ত অঞ্চলে সেনা বাহিনীর ঘাঁটিতে ড্রোন বিস্ফোরণ। আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করতেই এই কাজ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত পাকিস্তান সীমান্তের পাঞ্জাবে এবং জম্মু-কাশ্মীরে একাধিকবার ড্রোনের আনাগোনা দেখেছে ভারতীয় সেনা। কিন্তু ড্রোন হামলা এই প্রথম। শনিবার মধ্যরাতে সীমান্ত থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে জম্মুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পর পর দুইটি বিস্ফোরণ ঘটায় অপরিচিত আততায়ীরা। ঘটনায় কয়েকজন সামান্য আহত হলেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সেনা বাহিনীর সুরক্ষিত বলয়ে কী ভাবে ওই ড্রোন হামলা হলো, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ভারতের দাবি, পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি থেকে ওই ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। কোনো গোষ্ঠী অবশ্য এখনো হামলার দায় স্বীকার করেনি।

তবে শুধু শনিবারই নয়, রোববার রাতেও জম্মু সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন উড়ে এসেছিল। তবে সেনা সতর্ক ছিল। তারা গুলি চলাতে শুরু করলে ড্রোন পালায়।

কাশ্মীর নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপর দীর্ঘ লকডাউন এবং ইন্টারনেট পরিষেবাহীন পরিস্থিতির মধ্যে কাটিয়েছে কাশ্মীর। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই পরিস্থিতির সামান্য বদল হয়েছে। সম্প্রতি কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র। কাশ্মীরকে ফের পৃথক রাজ্যের স্টেটাস দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তারই মধ্যে এই হামলা নতুন করে পরিস্থিতি জটিল করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বস্তুত, শুধু ড্রোন হামলা নয়, রোববার কাশ্মীরের এক পুলিশ অফিসারের বাড়িতেও হালা চালায় আততায়ীরা। বাড়িতে ঢুকে ব্রাশ ফায়ার করা হয়। ঘটনায় মৃত্যু হয় ওই পুলিশ অফিসার এবং তার স্ত্রীর। কন্যা সন্তানকে আহত অবস্থায় শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ঘটনার পিছনেও কোনো উগ্রবাদী সংগঠন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে কাশ্মীরের পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছে। কোনো গোষ্ঠী ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

সোমবারেও জম্মু অঞ্চলে ড্রোন দেখা গেছে বলে সেনা সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে। কাশ্মীর বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, কাশ্মীর নিয়ে নতুন করে যখন আলোচনার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

কেন আলোচনা

দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন প্রবীণ সাংবাদিক ভারত ভূষণ। তার মতে, বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পরে কাশ্মীর নিয়ে খানিকটা নরম মনোভাব গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এর অনেকগুলি কারণ আছে। আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে অ্যামেরিকা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে হাতে রাখতে চাইছে অ্যামেরিকা। পাকিস্তান জানিয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে অ্যামেরিকা সরব না হলে তাদের পক্ষে অ্যামেরিকার পাশে থাকা মুশকিল। সে কারণেই ভারত সরকারকে খানিকটা চাপ দিয়েছে অ্যামেরিকা।

ভারতের এক সাবেক বিদেশ সচিবের বক্তব্য, চীনের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের একাধিক দেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলে মনে করে অ্যামেরিকা। ফলে চীনকে ঠেকাতে পাকিস্তানকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিল। বাইডেন সেই দূরত্ব কমাতে চাইছেন। এবং সে কারণেই ভারত-পাকিস্তানের সব চেয়ে বিতর্কিত বিষয় কাশ্মীর নিয়ে তারা একটি ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে। সে কারণেই বাইডেন প্রশাসন ভারতের উপর চাপ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করল জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে। এর প্রভাব কেন্দ্রের সঙ্গে কাশ্মীরের নেতাদের আলোচনায় পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার।

এসজি/জিএইচ(পিটিআই)