আলিঙ্গনরত যুগলকে প্রহারের ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত কলকাতা | বিশ্ব | DW | 03.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আলিঙ্গনরত যুগলকে প্রহারের ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত কলকাতা

কলকাতার মেট্রো রেলে এক যুগলের ‘‌নোংরামি'‌ দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে, তাদের গণধোলাই দিয়ে সহবত শেখালেন একদল প্রবীণ নাগরিক৷ ঠিক হলো, না ভুল?‌ শহর দ্বিধাবিভক্ত৷

ঘটনাটি সোমবার রাতের৷ সেদিন মেট্রোতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরার অপরাধে এক যুগলকে কলকাতার দমদম স্টেশনে গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে৷

বিষয়টি নিয়ে কলকাতার জনমত এখন স্পষ্টতই দু'‌ভাগে বিভক্ত৷ মেট্রো রেলের মতো এক গণপরিবহণ মাধ্যমে, প্রকাশ্যে শরীরি খেলায় মত্ত দুই যুবক-যুবতী, যারা চারপাশে বয়স্করা আছে, মহিলা এবং শিশুরা আছে দেখেও পরোয়া করেনি, তাদেরকে ধরে উত্তম মধ্যম দেওয়াটাই ঠিক কাজ হয়েছে, বলছেন একদল৷ এই দলে যে শুধু বয়স্করাই আছেন, তা নয়৷ অনেক মধ্যবয়সি, এমনকি অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের একাংশও মনে করছে, প্রকাশ্যে, জনসমক্ষে সঙ্গীর শরীর ছুঁয়ে মজা খোঁজা অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে৷ অনেকেই এই প্রসঙ্গে শহরের পার্কগুলোর কথা বলেছেন, যেখানে সন্ধ্যার পর প্রেমিক-প্রেমিকাদের অভব্যতায় নাকি যাওয়া যায় না৷ কাজেই সহবত থাকা দরকার, তেমন হলে জোর করে, মেরেধরেও সেই সহবতের শিক্ষা দিতে হবে, মনে করছে এই দল৷

অডিও শুনুন 01:12

‘যখন রাস্তা নোংরা করে, তখন কেন খারাপ লাগে না?‌’

আর অন্য দল ঠিক এর বিপরীত মেরুতে৷ তাদের মূলমন্ত্র হলো আমার জীবন, আমার শরীর৷ আমি কীভাবে বাঁচব, কাকে, কখন কোথায় ছোঁব, সেটা আমার সিদ্ধান্ত৷ মেট্রোর ঘটনাটির পর এরা পরপর দুদিন মেট্রো স্টেশনের সামনে এবং মেট্রোর কামরার ভেতরেও পোস্টার হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছে, যার মূল স্লোগান ছিল - হোক আলিঙ্গন৷ কড়া পুলিশ পাহারার সামনে পরস্পরকে আলিঙ্গন করে, গান গেয়ে, স্লোগান দিয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে এরা৷ এবং এদের একটা বড় অংশ রীতিমত বিচলিত যে কলকাতার মতো একটা মুক্ত মানসিকতার শহরে একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে এমন গণরোষের শিকার হতে হচ্ছে, যা এতদিন শোনা যেত হরিয়ানা, বিহার, কিংবা উত্তর প্রদেশে৷

ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই নানাজন পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন৷ তাদেরই একজন শ্রাবণী খাঁ, শহরের একটি এফএম রেডিও স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত৷ তিনি বলেছিলেন, এবার থেকে মেট্রোয় একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে চলাটাই যেন দস্তুর হয়৷ সবাই যেন সেটাই করে৷ এমন রাগী মন্তব্যে কি আদৌ কোনও কাজ হবে?‌ ডয়চে ভেলের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল শ্রাবণীকে৷ তাঁর যুক্তি, যাঁরা এটাকে অশ্লীলতা ভাবেন, তাঁদের এটা বোঝা দরকার যে প্রেমিক-প্রেমিকার পরস্পরকে আলিঙ্গন আসলে অত্যন্ত স্বাভাবিক সুন্দর একটা ব্যাপার৷ আর এটা বুঝতে গেলে প্রথমে লোককে এ ধরনের দৃশ্যে অভ্যস্ত হতে হবে৷ আর তা ছাড়া, লোকে যখন রাস্তা নোংরা করে, থুতু ফেলে বা প্রকাশ্যেই প্রস্রাব করে, তখন কেন এই লোকেদের খারাপ লাগে না?‌ তখন কেন কেউ কিছু বলে না?‌ প্রশ্ন শ্রাবণীর৷

অডিও শুনুন 02:26

‘এরপর অন্য বর্ণে বা ধর্মে বিয়ে করলে খুন করতে পারে’

যুগলের নিগ্রহের প্রতিবাদে চলতি বিক্ষোভ-আন্দোলনের যে স্লোগান, সেই ‘‌হোক আলিঙ্গন'‌-এর মূল উৎস হলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন, যার নাম ছিল ‘‌হোক কলরব'‌৷ বা তারপরেও ভারতের একাধিক জায়গায় নীতি পুলিশদের গা জোয়ারির প্রতিবাদে হয়েছিল ‘‌হোক চুম্বন'‌৷ দুটি আন্দোলনের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, নাট্যকর্মী এবং সাংবাদিক উদ্দালক ভট্টাচার্য কিন্তু অনেক বেশি উদ্বিগ্ন যে কলকাতা শহরের মতো জায়গায় এই ঘটনা ঘটল৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানালেন, যে তিনি ভয় পাচ্ছেন, এরপর অন্য বর্ণে, বা অন্য ধর্মে বিয়ে করলে খুন করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে পশ্চিমবঙ্গে৷ অথবা হরিয়ানা, বা উত্তর প্রদেশের কায়দায় এরপর বসবে খাপ পঞ্চায়েত, সমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে বাংলাতেও৷

উদ্দালকের প্রস্তাব, এই ভয়ংকর প্রবণতাকে রুখতে পাড়ায় পাড়ায় ক্লাব, সামাজিক সংগঠনগুলোকে সতর্ক, সক্রিয় হতে হবে৷ বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বনভোজনের মতো বছরভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রচলন ফের শুরু করতে হবে আগের মতো৷ কারণ যা হচ্ছে, যা হতে চলেছে বলে আশঙ্কা, সেটা বাঙালি সংস্কৃতি নয়৷

এ নিয়ে আপনাদের মতামত জানান৷ লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন