আর কত ফেলানী | বিশ্ব | DW | 24.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

আর কত ফেলানী

সাত জানুয়ারি ২০১১ সালের একটি ছবি৷  সীমান্তের কাঁটাতারে উল্টো হয়ে ঝুলছে কিশোরী ফেলানী৷ অদূরে দাড়িয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দুই সদস্য৷ 

Jugendbewegung Proteste Felani Fall Dhaka (picture alliance/Demotix)

ফাইল ফটো

তুরস্কের সৈকতে ভেসে আসা সিরিয়ার তিন বছরের শিশু আয়লান কুর্দির ছবিটি নিশ্চয়ই সবার মনে আছে৷ ফেলানীর মত আয়লানের গায়ের জামাটিও ছিল লাল রংয়ের৷ পার্থক্য আয়লানের ছবি গোটা ইউরোপের নিষ্ঠুর শরণার্থী নীতিকে বদলে দিয়েছিল৷ কিন্তু তোলপাড় হলেও ফেলানীর ছবি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্বরতার চিত্রে বদল ঘটাতে পারেনি৷ গত এক দশকে বিএসএফের বন্দুকের নিশানায় পরিণত হয়েছেন চাপাই, নওগাঁ, রাজশাহী, লালমনিরহাটের সীমান্তের কয়েকশো মানুষ৷

ফেলানী হত্যার নবম বছর র্পূতির ঠিক একদিন পরই চাপাই সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করে বিএসএফ (যুগান্তর অনলাইন সংস্করণ, ৯ জানুয়ারি)৷ সবশেষ গত দুইদিনে ঝরেছে আরো পাঁচ জনের প্রাণ৷

এরমধ্যে গতকাল (বৃহস্পতিবার) নওগাঁর দুয়ারপাল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিন বাংলাদেশি৷ ঠিক সেইদিন রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতীয় ঋণের (এলওসি) আওতায় দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটির ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ৷ সমকালের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থল বন্দর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের দুইটি প্যাকেজের চুক্তি সই হয় সেখানে৷ যেখানে ভারত ২ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা ঋণ দিবে৷ বাংলাদেশের সরকার অর্থায়ন করবে ১ হাজার ৩১২ কোটি টাকা৷ সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ‘রক্তের রাখি বন্ধনে’ আবদ্ধ বাংলাদেশ৷’’

DW-Mitarbeiter Porträt Faisal Ahmed (Masum Billah)

ফয়সাল শোভন, ডয়চে ভেলে

বাংলাদেশের জন্য এই ঋণ কতটা জরুরি, যেই সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে সেটি বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের পণ্য ট্রানজিটের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ কীনা এমন বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে৷ কিন্তু দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যে উষ্ণতার সম্পর্ক বিরাজমান তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ ২০১৯ সালে একটি দেশের সীমান্তরক্ষীর হাতে আরেকটি দেশের ৪৩ জন নাগরিকের মৃত্যু (সূত্র, আইন ও সালিশ কেন্দ্র) কিংবা এক দশকে ৪৫৫ জনকে হত্যা (সূত্র, অধিকার) সেখানে কোনো আঁচই লাগতে দেয়নি৷ প্রশ্ন ওঠে দুই দেশের রাষ্ট্রীর পর্যায়ে এ নিয়ে আদৌ কোন আলোচনা হয়? নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গটি কি কখনও তুলেছেন?   

আপাতদৃষ্টে মনে হয় বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কেমন আচরণ করবে তা বাহিনীটির হাতেই ছেড়ে দিয়েছে ভারত৷ অন্যদিকে বাংলাদেশও তা মীমাংসার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে বিজিবির উপরই৷ ফলাফল, এক একটি মৃত্যুর পর বিজিবির মৌখিক প্রতিবাদ, বিএসএফের বড়জোর দুঃখপ্রকাশ৷ 

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঋণ চুক্তি হয়, ডজন ডজন সমঝোতা স্বাক্ষর হয়, এক দেশ আরেক দেশের কতটা কাছের তা নিয়ে দুই সরকারের প্রশংসার বিনিময় চলে৷ সীমান্ত হত্যাই শুধু বন্ধ হয় না৷ দুই দেশের সরকারই এই বিষয়ে অবাক করা নিরবতা আর নিষ্ঠুর উদাসীনতার পথ বেছে নিয়েছে যেন৷ নাগরিকের জীবনকে পাশ কাটিয়ে এই উষ্ণতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা কি দিনকে দিন মেকি হয়ে যাচ্ছে না? আপাত বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্তে এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিসংখ্যান মানুষের মনে যে ক্ষতের জন্ম দিচ্ছে তা কোনো দেশের জন্যেই মঙ্গল নয়৷ দুই দেশের সরকারের এই বোধ জাগ্রত হোক ঠিক এখনই, আর একটিও প্রাণ ঝরবার আগেই৷

এক্ষেত্রে ভারতে যৌক্তিক আচরণ যেমন কাম্য, তেমনি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের সরকারেরও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন৷ কেন সীমান্তের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তার আর্থ সামাজিক কারণটিও খতিয়ে দেখা হোক৷ 


 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন