আরিয়ান মামলায় আদালত, ফোনের চ্যাট যথেষ্ট প্রমাণ নয় | বিশ্ব | DW | 01.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

আরিয়ান মামলায় আদালত, ফোনের চ্যাট যথেষ্ট প্রমাণ নয়

আরিয়ান খান মামলায় আবার নতুন মোড়। আদালত জানিয়ে দিল, হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট যথেষ্ট প্রমাণ হতে পারে না।

হাইকোর্টে জামিনের পর আরিয়ান খান বাড়ি ফিরেছেন।

হাইকোর্টে জামিনের পর আরিয়ান খান বাড়ি ফিরেছেন।

শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর(এনসিবি) প্রধান হাতিয়ার হলো, তার হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট। এনসিবি-র দাবি, এই চ্যাটই দেখিয়ে দিচ্ছে আরিয়ান মাদকাসক্ত। সে নিয়মিত মাদক নেয়। মাদক-ব্যবসায়ীদের সে চেনে। আরিয়ানকে মাদক সরবরাহ করেছে দাবি করে আচিত কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে এনসিবি। তাকে জামিন না দেয়ার অনুরোধও জনিয়েছিল তারা।

কিন্তু বিশেষ আদালত তাকে জামিন দিয়েছে এবং জানিয়ে দিয়েছে, হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটের ভিত্তিতে এটা বলা যায় না যে, আচিত কুমার মাদক সরবরাহ করেছে। বিচারক তার রায়ে বলেছেন, ''আচিত কুমারের বিরুদ্ধে এনসিবির অভিযোগ, সে আরিয়ানদের মাদক সরবরাহ করেছে। কিন্তু এই অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তারা দিতে পারেনি।'' বিচারক জানিয়েছেন, ''এনসিবি শুধু আরিয়ানের একটা হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট দেখিয়েছে। কিন্তু শুধু হোয়টস অ্যাপ চ্যাটের ভিত্তিতে এটা বলা যায় না যে, আচিত কুমার মাদক দিয়েছে আরিয়ান ও আরবাজকে।

মোট নয়জনকে জামিন দিয়েছেন বিশেষ আদালতের বিচারক ভি ভি পাটিল। তিনি বলেছেন, ''এর মধ্যে আচিত কুমার-সহ পাঁচজনকে মাদক সরবরাহ করার অভিযোগে ধরা হয়েছিল। সবাইকেই জামিন দিয়ে বিচারক বলেছেন, তারা যে চক্রান্তের অংশ ছিল তা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্যই দিতে পারেনি এনসিবি।'' এর আগে গত ২০ অক্টোবর বিশেষ আদালত আরিয়ান ও আরবাজদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তখন বলা হয়ছিল, আরিয়ান, আরবাজ, আচিতরা এক সুতোয় বাধা। আচিতকে জামিন দেয়ার সময় বিচারক বলেছেন, হাইকোর্ট আরিয়ান ও আরবাজকে জামিন দিয়েছে। এখন তাই আচিতেরও জামিন পাওয়া উচিত।

প্রবীণ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আশিস গুপ্ত ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, ''সরকারের বিভিন্ন দফতর এখন ফোনে নজরদারি করছে। এর ফলে মানুষের গোপনীয়তার অধিকার ভঙ্গ হচ্ছে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে তা খুবই বিপজ্জনক।'' আশিস গুপ্তের মতে,  ''পেগাসাস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় সরকার জানিয়েছিল, এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িত বলে তারা কিছুই বলবে না। এর থেকে এই সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক যে, সরকারের হাতে আড়িপাতার জন্য উচ্চপ্রযুক্তির গোপন যন্ত্র আছে।'' 

হাইকোর্টের শর্ত

শনিবারই শাহরুখ খানের বাসভবন মন্নতে ফিরেছেন আরিয়ান। হাইকোর্টের শর্ত হলো, আরিয়ানকে প্রতি শুক্রবার এনসিবি-র অফিসে বেলা ১১টা থেকে দুইটার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে। মোট ১৪টি শর্ত দিয়েছে হাইকোর্ট। আরিয়ানকে জামিনের জন্য এক লাখ টাকা জমা রাখতে হয়েছে। সেই অর্থ দিয়েছেন শাহরুখের বন্ধু ও অভিনেত্রী জুহি চাওলা।

হাইকোর্টের শর্ত হলো, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাবে কোনো যোগাযোগ করতে পারবেন না আরিয়ান। তিনি প্রমোদতরী-কাণ্ডের মতো আবার এই ধরনের কোনো কাণ্ডে জড়াতে পারবেন না। তদন্তে কোনোরকম প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। তিনি সংবাদমধ্যমের কাছে মুখ খুলতে পারবেন না। বিশেষ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না। গ্রেটার মুম্বই ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে হলে এনসিবি-কে জানিয়ে যেতে হবে।

আরিয়ানের বাড়ি ফেরা

শনিবার আর্থার রোড জেল থেকে সোজা মন্নতে ফেরেন আরিয়ান। মন্নতের সামনে শাহরুখ খান ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরা জড়ো হয়েছিলেন। আরিয়ান বাড়ি ফেরার সময় তারা তার নামে স্লোগান দিতে থাকেন। এক কোণে এক সাধু হনুমান চালিশাও পড়ছিলেন। তবে ভক্তদের হতাশ করে আরিয়ানের গাড়ি সোজা বাড়ির ভিতর ঢুকে যায়। শাহরুখের বডিগার্ডরা জনতাকে সামলান। শাহরুখ ও আরিয়ানকে দেখতে না পেয়ে ভক্তরা হতাশ হয়েছেন।

জিএইচ/এসজি (পিটিআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)