আরসার বিরুদ্ধে অভিযান | বিশ্ব | DW | 02.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

আরসার বিরুদ্ধে অভিযান

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেনশন আর্মি) সদস্যদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মহিবুল্লাহসহ আরো অনেক হত্যাকাণ্ড এবং সংঘাতের সাথে আরসা সদস্যরা জড়িত।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে গত কয়েক দিনে আরসার সদস্যসহ ১৭২ জনকে আটক করেছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর  উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ অক্টোবর রাতে বালুখালি ক্যাম্পে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয় জনকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার জন্যও আরসাকে দায়ী করা হচ্ছে।

গত ২৬ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে আরসার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ওই বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মাধ্যমে আরসা নামে জঙ্গি সংগঠন গড়ে উঠেছে। এই জঙ্গি সংগঠন মিয়ানমার থেকে মাদক ও অস্ত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছে।তারা টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তকে ব্যবহার করছে। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় চরম হুমকি তৈরি করছে।

অডিও শুনুন 02:24

‘এখানে যারাই আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে যুক্ত হবে তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে’

আরসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিপত্য বিস্তারে তৎপর। তারা হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

ওই বৈঠকেই আরসা সদস্যদের আইনের আওতায় আনার  সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই আরসার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।

অভিযানে এপর্যন্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের(এপিবিএন) সদস্যরা মোট ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাদের মধ্যে ১১৪ জন আরসা সদস্য। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র এবং মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।

এপিবিএন-১৪ এর অ্যাডিশনাল এসপি মাসুদ আনোয়ার জানান," এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখানে যারাই আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে যুক্ত হবে তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের অভিযান শুরুর পর সাধারণ রোহিঙ্গারা অনেক খুশি। তারা আমাদের এই অভিযানে সহায়তা করছেন।”

অডিও শুনুন 01:41

‘আরসা ছাড়াও ক্যাম্পে আলেকিন এবং আরএসও নামে আরো দুইটি সংগঠন সক্রিয়’

তিনি আরো জানান," ক্যাম্পগুলোতে খুবই ঘনবসতি। তাই অপরাধও বেশি। আধিপত্যের বিষয়ও আছে। তবে আমরা কোনো গ্রুপ বা কোনো গোষ্ঠীকে বিবেচনায় নিচ্ছিনা।  অপরাধী সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

অপরাধীদের ধরতে তারা নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন বলে জানান তিনি।

গোয়েন্দা সূত্র দাবি করছে আরসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিরোধী। তাদের সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যোগাযোগ আছে। তারা চায় এখানে তাদের মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে। এর এই কারণেই তারা এর আগে রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে। মহিবুল্লাহ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পক্ষে। এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য সংগঠিত করছিলেন। আরসা সেটা চায় না।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মোট ৩৪টি ক্যাম্প আছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই আরসা সদস্যরা সক্রিয় বলে জানা গেছে। তাদের সদস্য সংখা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। এখন পর্যন্ত তাদের সাতজন কমান্ডারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি। তারা হলেন: আলি জোহর, হোসেন জোহর, জয়নাল, মো. সেলিম, আয়াত উল্লাহ, বশির উল্লাহ এবং ওবাইদ উল্লাহ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৩০০ মাদ্রাসা ও ৪০০ মসজিদ আছে বলে  জানা যায়। এই সবগুলো মাদ্রাসা এবং মসজিদের  নিয়ন্ত্রণ নিতে আরসা সদস্যরা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারই অংশ হিসেবে তারা ২২ অক্টোবর রাতে বালুখালি ক্যাম্পে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে।

উখিয়ার পালংখালি ইউপি চেয়ারম্যাম মো. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান,"আরসা ছাড়াও ক্যাম্পে আলেকিন এবং আরএসও নামে আরো দুইটি সংগঠন সক্রিয়। তারা নিজেদর মধ্যে আধিপত্যের লড়াই করছে। আর তাতেই এইসব হত্যা , সহিংসতা। তারা সবাই আবার ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। ইয়াবার সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যোগ আছে। ”

তিনি দাবী করেন," এরা সবাই আসলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট। তারা ক্যাম্পে একটি খারাপ অবস্থা তৈরি করে রাখতে চায়।”

পুলিশ জানায়, গত চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় এই সময়ে মামলা হয়েছে এক হাজার ৩০০। এতে আসামি করা হয়েছে দুই হাজার ৭৫ জন রোহিঙ্গাকে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়