আরব বসন্তের পাঁচ সংগ্রামী পাচ্ছেন সাখারভ পুরস্কার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

আরব বসন্তের পাঁচ সংগ্রামী পাচ্ছেন সাখারভ পুরস্কার

আরব অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ সংগ্রামী পেলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাখারভ পুরস্কার৷ তাঁদেরই একজন টিউনিসিয়ার এক ফল বিক্রেতা যিনি প্রতিবাদ জানাতে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করেন৷ শুরু হয়ে যায় আরব বিপ্লব৷

President of the European Commission Jose Manuel Durao Barroso (C), delivers his first State of the Union report during the plenary session of the European Parliament (EP) in Strasbourg, France, 07 September 2010. In his address, Barroso will assess the state of the EU since the EP elections in June 2009 and the entry into force of the Lisbon Treaty and outline the political challenges ahead. EPA/CHRISTOPHE KARABA

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই পুরস্কার দিয়ে থাকে

সোভিয়েত আমলের পরমাণু বিজ্ঞানী ও বিরুদ্ধবাদী আন্দ্রেই সাখারভের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মতামতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দিয়ে আসছে সাখারভ পুরস্কার৷ এবার এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হলেন আরব জনগণের পাঁচ প্রতিনিধি যারা কিনা নিজ নিজ দেশে মুক্তি আর মানবাধিকারের পক্ষে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন৷ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন৷

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ইয়েজি বুজেক পুরস্কার প্রাপকদের কথা উল্লেখ করে জানান, ‘‘আরব দুনিয়ায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন এঁরা৷ নিজ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষায় এরা সোচ্চার ছিলেন৷ এই পুরস্কারের মধ্যে দিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের সংগ্রামকে পূর্ণ সমর্থন করছে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের সঙ্গে একত্মতা প্রকাশ করছে৷''

পুরস্কারে ভূষিত পাঁচজন হলেন টিউনিসিয়ার ফল বিক্রেতা মোহামেদ বুয়াজিজি, মিশরের ব্লগার আসমা মাহফুজ, প্রাক্তন লিবীয় কারাবন্দি আহমেদ আল জুবায়ের আহমেদ আল সানুসি এবং সিরিয়ার আইনজীবি রাজান জইতুনেহ আর কার্টুনিস্ট আলী ফারজাত৷

Sakharov Preis

সাখারভ পুরস্কারের লোগো

টিউনিসিয়ায় নিরন্তর সরকারি হয়রনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আগুনে আত্মাহুতি দেন ফল বিক্রেতা মোহামেদ বুয়াজিজি৷ গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৭ তারিখে তিনি সিদি বুযিদ শহরে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন৷ দু সপ্তাহ পর মারা যান তিনি৷ তার মৃত্যুই টিউনিসিয়ায় স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক লড়াই-এর জোয়ার নিয়ে আসে৷ মোহামেদ বুয়াজিজির ভাই সালেম বুয়াজিজি এই পুরস্কার টিউনিসিয়ার গণতন্ত্রকামী মানুষদের প্রতি উৎসর্গ করেন৷ তিনি জানান,‘‘আমি খুবই আনন্দিত৷ আমি এই পুরস্কার টিউনিসিয়ার মানুষদের উৎসর্গ করছি যারা এই সংগ্রামকে, এই আন্দোলনকে সফল করেছে৷''

বলা প্রয়োজন, আরব অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন৷ তবে তিনি একা নন৷ তার সঙ্গে রয়েছেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এ্যালেন জনসন সারলিফ এবং লেমাহ বোয়ি৷

মিশরের আসমা মাফুজ ইউটিউব, ফেসবুক এবং টুইটারের সাহায্যে ৬ই এপ্রিলের আন্দেলনকে ত্বরান্বিত করেছেন৷ তাহরির স্কোয়ারে হাজার হাজার মিশরীয়কে জড়ো করেছেন৷

৭৭ বছর বয়সি লিবিয়ার নাগরিক সানুসি ৩১ বছর কারাবন্দি ছিলেন৷ গাদ্দাফির মৃত্যুর সঙ্গে তারা কারাজীবনের সমাপ্তি ঘটে৷

টিউনিসিয়া, মিশর এবং লিবিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন সফল হয়েছে৷ স্বৈরশাসকের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে দেশগুলো৷ এখন সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সিরিয়ার আন্দোলনে সাফল্যের জন্য৷

সিরিয়ার গণতন্ত্রকামী মানুষরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে৷ বাশার-আল-আসাদের পদত্যাগের দাবিতে সিরিয়ার মানুষরা এখনো সোচ্চার৷

৩৪ বছর বয়স্ক রাজান জইতুনেহ পেশায় আইনজীবি৷ তিনি সিরিয়ার মানবাধিকার রক্ষায় একটি ব্লগ তৈরি করেছেন নাম ‘সিরিয়ান হিউম্যান রাইটস ইনফরমেশন লিঙ্ক'৷ এই লিঙ্কে বাশার-আল-আসাদের বিভিন্ন অপকর্ম তুলে ধরা হয়৷ কীভাবে মানুষদের ধরে ধরে নির্যাতন করেছে সরকার সেসব ভিডিও তুলে দিয়েছে এই লিঙ্কটি৷ রাজান যেইতুনেহ এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন৷

কার্টুনিস্ট আলী ফারজাতকে আগস্ট মাসে আটক করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী৷ তার হাতের আঙুল ভেঙে ফেলা হয় যেন তিনি আর কার্টুন আঁকতে না পারেন৷ তিনি এই পুরস্কার ‘সিরিয়ার শহীদ'দের উৎসর্গ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই পুরস্কার আমি তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি যারা এদেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়ছেন৷'' বার্তাসংস্থা এএফপিকে তিনি টেলিফোনের মাধ্যমে এই কথাগুলো বলেন৷ তিনি জানান, সিরিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এই বিষয়ে তিনি ভীষণভাবে আশাবাদী৷

ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গের ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আয়োজিত হবে পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান৷ পুরস্কার দেবেন পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ইয়েজি বুজেক নিজেই৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন