আরবি ভাষী দেশে প্রথা ভাঙার ডাক | বিশ্ব | DW | 22.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মধ্যপ্রাচ্য

আরবি ভাষী দেশে প্রথা ভাঙার ডাক

রক্ষণশীল দেশগুলিতে প্রথাভাঙার সময় এসেছে৷ সমাজে অপরাধ বলে স্বীকৃত সমকামিতা, উভকামিতা বা পরিবর্তনকামিতা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে এলো ভিডিও৷ সেখানে আরবি-ভাষী দুনিয়ার মানুষেরা সংহতির বার্তা দিল৷ আন্দোলনের ভাষা এবার ‘নট অ্যালোন'৷

রক্ষণশীল সমাজে সমকামী, উভকামী বা পরিবর্তনকামীদের নিয়ে অনেক সমস্যা থাকে৷ তাই মরক্কো থেকে ইরাক, কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনেসমকামিতা বা লিঙ্গ রূপান্তরের ইচ্ছেকে মান্যতা দেওয়া হয় না৷ আইনগতভাবেও তা নিষিদ্ধ৷ তাই আরবিভাষী দুনিয়ায় এলজিবিটি জনতা সারা বিশ্বকে বার্তা দিল একটি ভিডিওর মাধ্যমে৷ রকস্টার থেকে সাধারণ সমকামী, উভলিঙ্গ, রূপান্তরকামী মানুষ ঘোষণা করল, তারা একা নয়৷ অনেকটা মাইকেল জ্যাকসনের গানের ভাষাতেই যেন, ‘উই আর নট অ্যালোন৷' আমরা একা নই৷

এই ঘোষণার উল্লেখযোগ্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব লেবাননের শিল্পী হামেদ সিনো৷ তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী বলে ঘোষণা করেছেন৷

দু'টি মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ভিডিও৷ তাতে রক ব্যান্ড ‘মাশরু লায়লা'-র প্রধান কণ্ঠশিল্পী হামেদ বলেছেন, ‘‘নিজেকে অদ্ভূত ধরনের মতো হতো৷ লোকে আমায় নিয়ে মস্করা করত৷ আমায় আঘাত করত৷''

আরবি ভাষী দেশগুলিতে একই লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের বিষয়টাই অপরাধ বলে গণ্য হয়৷ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা অপরাধ বলেই স্বীকৃত৷ এমন রক্ষণশীল দেশে সমকামী, উভকামী বা পরিবর্তনকামীরা সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন৷ এ প্রসঙ্গেই ভিডিও ফুটেজে বাহরিনের ইউসুফের বক্তব্য, ‘‘অধিকাংশ মানুষ জানে না সমকামী কথাটার মানে কী৷ তারা আমাদের অস্বাভাবিক বলেন৷ আমার কাজ হচ্ছে বিষয়টা তাদের যুক্তি দিয়ে বোঝানো৷''

ভিডিওতে যাঁদের মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে, তাঁরা অনেকেই আশার কথা শুনিয়েছেন৷ অনেকে বলেছেন, পরিবার কীভাবে তাদের আস্তে আস্তে মেনে নিল৷ পরিচয় গোপন রাখতে ক্যামেরার দিকে পিছন ফিরে বলেছিলেন ইরাকের ওমর৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম৷ তবে আমরা একা নই, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি৷''

নিউ ইয়র্কের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচ  আর ডব্লিউ) এবং বেইরুটের আরব ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ইকুয়ালিটি এর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ভিডিওটি৷

এলজিবিটি আন্দোলনকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ৷ এইচআরডাব্লিউ এর গবেষক নীলা ঘোষাল বলেন, ‘‘এই গোষ্ঠী যে প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে, তার মোকাবিলার জন্য এদের ক্ষমতায়ন ভিডিও তৈরির লক্ষ্য৷'' এএফই-র অধিকর্তা জর্জেস আজ্জির বক্তব্য, ‘‘মানুষ যেটা জানে না, সেটা নিয়ে ভয় পায়৷ তাই আমরা এলজিবিটি গোষ্ঠীর সদস্যদের মুখ সামনে আনছি৷''

অনলাইন ভিডিওর সঙ্গে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এইচআরডাব্লিউ, যাতে বলা হয়েছে, এলজিবিটি আন্দোলন ২০০১ সাল থেকে অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে৷ কায়রোর কুইন বোট নাইট ক্লাব থেকে ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে আরবি-ভাষী দুনিয়ায় কোনো এলজিবিটি আন্দোলন ছিল না৷ ২০১৭ সালে এ সব এলাকায় কয়েক ডজন এ ধরনের সংগঠন গড়ে উঠেছে৷ যদিও এ সব সংগঠন একেবারেই তাদের সূচনার পর্যায়ে রয়েছে৷    

পিএস/ডিজি (এএফপি, এপি)

সমকামিতা বা উভকামিতা কি সব দেশে বৈধ হওয়া উচিত? আপনাদের মন্তব্য জানান নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন