আম জনতার যাবতীয় তথ্য চুরি নিয়ে উত্তাল ভারত | বিশ্ব | DW | 04.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

আম জনতার যাবতীয় তথ্য চুরি নিয়ে উত্তাল ভারত

মোবাইল ফোন সংযোগ থেকে সমস্ত সামাজিক প্রকল্পে আধার সংযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে সরকার৷ কিন্তু বারবার সেই তথ্য-‌ভাণ্ডারে হানা দিচ্ছে অদৃশ্য দস্যুরা৷ এর ফলে ভারতে ব্যক্তি নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের মুখে৷

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি সামলে ভবিষ্যতের জন্য তিল তিল করে অর্থ সঞ্চয় করেন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা৷ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার জন্য তাদের ভরসা একটাই, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘‌এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন’ ‌অথবা ইপিএফও৷ মাসিক সঞ্চয়ের অর্থের পাশাপাশি কোটি কোটি মানুষের গোপন তথ্যও জমা থাকে ইপিএফও-‌র সরকারি পোর্টালে৷ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ-এর সেই ওয়েবসাইট হ্যাক করে তথ্য চুরি করেছে কেউ বা কারা৷ এই ওয়েবসাইটে ইপিএফ সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও পেশাগত ইতিহাস সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য রাখা থাকে৷

গত চার বছর ধরে দেশকে ডিজিটাল করে গড়ে তুলতে এই পোর্টালটিকে কাগজবিহীন করার চেষ্টায় কোটি কোটি কর্মচারীর যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার৷ আসল গলদটা এখানেই৷ ইন্টারনেট ব্যবহার সুরক্ষিত না করে জবরদস্তি সাধারণ মানুষের তথ্য ডিজিটাল করার প্রয়াস বহু ক্ষেত্রেই বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে তথ্য-‌ভাণ্ডারকে৷ এর সঙ্গে ‘‌মড়ার ওপর খাড়ার ঘা’-‌এর মতো যুক্ত হয়েছে আধার সংযোজন বাধ্যতামূলক করার ফরমান৷

ক'‌দিন আগেই গোটা দেশের ২ কোটি ৭০ লক্ষ গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য অনলাইনে ফাঁস করে দিয়েছে হ্যাকাররা৷ ইপিএফও-র পোর্টাল aadhaar.epfoservices.com-‌এর দখল নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ পোর্টালটি বন্ধ করে রাখে হ্যাকাররা৷ প্রথমে মনে হয়েছিল বিষয়টি গুজব৷ হইচই শুরু হয়৷ তারপর ঘটনার কথা স্বীকার করে নেন কেন্দ্রীয় প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনার ড.‌ ভি পি জয় নিজেই৷ এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রীকে ড.‌ জয় লিখেছেন, ‘‌‘‌ইপিএফও-র আধার সংক্রান্ত পোর্টাল থেকে তথ্য চুরি করেছে হ্যাকাররা৷’’

মন্ত্রকের প্রযুক্তি-‌টিমকে কাজে লাগিয়ে ওই ইপিএফও-‌র পোর্টালটিকে স্বাভাবিক করার আর্জি জানান তিনি৷ চিঠিতে কেন্দ্রীয় প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনার লিখেছেন, ‘‌‘আধার সংযোগের কারণে পোর্টালটি থেকে তথ্য চুরি হয়েছে৷ সরকারের নিজস্ব ‘‌ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’ এই খবর ইপিইফও কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে পোর্টালটি ঠিক কতটা নিরাপদ রয়েছে, তা যেন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়৷ না হলে ভবিষ্যতে আবারও হ্যাকারদের খপ্পরে পড়তে হতে পারে কর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ-‌সুবিধা প্রদানকারী এই কেন্দ্রীয় সংস্থার পোর্টালটি৷’’

যদিও চিঠিটিকে ‘গোপনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি৷ তারপরেও সে চিঠি গোপন থাকেনি৷ চিঠি প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্র থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ মুখ পুড়েছে সরকারের৷ কিন্তু তাতে কী?‌ এতকিছুর পরেও কেন্দ্রীয় সরকার তথ্য চুরির সত্যতা স্বীকার করতে নারাজ৷ ‘‌এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন'‌ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, টুইট করে জানাচ্ছে, কোনো তথ্য চুরি হয়নি৷ সরকারের বক্তব্য, ‌‌সার্ভার বন্ধ করে দিয়ে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেছে ইপিএফও৷ তথ্য সুরক্ষিত রাখতে ‘‌কমন সার্ভিস সেন্টারে’ বা সিএসসি-‌এর মাধ্যমে আধার সংযোগ পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে৷

২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতে মোট ১১৪টি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে৷

অডিও শুনুন 01:56
এখন লাইভ
01:56 মিনিট

বিপন্ন হতে পারে সাধারণ মানুষের জীবন: সেলিম

তথ্য ফাঁস বা চুরি প্রসঙ্গে মোদী সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছে সবকটি বিরোধী দল৷ সিপিআই (‌এম)‌-‌এর লোকসভার উপনেতা মহম্মদ সেলিম জানান, ‘‌‘‌আমাদের দেশে সরকার জোর জবরদস্তি করে তথ্য সংগ্রহ করছে৷ তারপর এমন সব কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করছে তাতে তথ্য কেনাবেচার খবর আসছে৷ এতে ব্যক্তি নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা এমননি জাতীয় নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছ৷ এর ফলে বিপন্ন হতে পারে সাধারণ মানুষের জীবন৷ অথচ সংসদে, আদালতে যখনই প্রশ্ন করা হয়েছে, তখনই সরকার শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়েছে৷ মুর্খতা ছাড়া আর কি-‌ই বা বলা যেতে পারে৷’’‌

ভবিষ্যনিধির তথ্য চুরি নিয়ে দেশজুড়ে হইচই চলছেই৷ বিরোধী শিবিরে নিন্দার ঝড়৷ এমনকি সংসদের আগামী বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারকে তথ্য চুরি ইস্যুতে কোনঠাসা করার তোড়জোড় শুরু করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআই(‌এম)‌, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, এনসিপি এবং রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি-‌র মতো দলগুলি৷ বলা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি জোর গলায় আধার কার্ডের বিরোধিতা করেছেন৷ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকরাই সর্বক্ষেত্রে আধার সংযোগ বাদ্যতামূলক করেছে৷ এ বিষয়ে মামলা চলছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে৷

উল্লেখ্য, যে কোনো সংস্থা তাদের কর্মচারীদের বেতনের ১২ শতাংশ ভবিষ্যনিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসেবে প্রতি মাসে জমা দেয়৷ গত ৬ এপ্রিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল৷ তবে এ যাত্রায় ইপিএফও-‌র পোর্টাল হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ঠিক কতজন গ্রাহকের গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে কথা এখনও জানা যায়নি৷ বিষয়টি খোলসা করেনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এই সংস্থাটি৷ বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, মোট ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের চাকরি ও ব্যক্তি জীবনের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা৷ সেইসঙ্গে তাদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা আছে, সেই তথ্যও চুরি গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়