‘আমার চিঠির জোরেই কাজ হচ্ছে’ | বিশ্ব | DW | 30.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া

‘আমার চিঠির জোরেই কাজ হচ্ছে’

আগামী ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম বৈঠক সম্ভব করতে দুই শিবিরেই জোরালো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে৷ উত্তর কোরিয়ার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বেইজিং হয়ে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছেন৷ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য কাটাতে আলোচনা চলছে৷

default

কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জেনারেল কিম ইয়ং চল

কোরীয় উপদ্বীপে সংকট নিরসনের আশা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে৷ প্রত্যাশিত ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে উত্তর কোরিয়ার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বুধবার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন৷ সে দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন প্রধান ও কিম জং উনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জেনারেল কিম ইয়ং চল চলতি সপ্তাহের শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও'র সঙ্গে আলোচনা করবেন৷ গত এপ্রিল ও মে মাসে কিম জং উন ও পম্পেও'র দুটি বৈঠকের সমন্বয় করেছিলেন তিনি৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এক টুইট বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন৷ তাঁর ধারণা, গত ২৪শে মে উত্তর কোরিয়ার নেতাকে লেখা তাঁর নিজের চিঠির জোরেই এই গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্ভব হচ্ছে৷

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কালো তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে তাঁর অ্যামেরিকা সফর সম্ভব করা হচ্ছে৷ গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিকের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কন্যা ও উপদেষ্টা ইভানকার পাশে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল৷ উল্লেখ্য, ২০০০ সালের পর উত্তর কোরিয়ার এত উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা অ্যামেরিকা সফর করেননি৷

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা সান্ডার্স বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, ট্রাম্প দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অত্যন্ত সন্তুষ্ট৷ তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি মূল গুরুত্ব পেলেই শীর্ষ বৈঠক সম্ভব হবে, বলেন সান্ডার্স৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, যে ট্রাম্প আগামী ৭ই জুন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে'র সঙ্গে বৈঠক করবেন৷

কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের সংজ্ঞা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হবে কিনা, তার উপর সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক ও তার সাফল্য নির্ভর করছে৷ মার্কিন প্রশাসন চায়, উত্তর কোরিয়া একতরফাভাবে তার পরমাণু অস্ত্রত্রাণ্ডার ত্যাগ করার অঙ্গীকার করুক৷ পিয়ং ইয়ং অবশ্য এমন একতরফা পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে৷ এমনকি কোনো সার্বিক চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া শেষ পর্যন্ত রাজি হলেও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন৷ গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র ধারণা উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ত্যাগ করার বিষয়ে আন্তরিক নয়৷

ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকের ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নহাপ সংবাদ সংস্থার সূত্র অনুযায়ী কিম ইয়ং চল অ্যামেরিকা যাবার আগে বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন৷ কিম জং উনের সাম্প্রতিক দুটি বেইজিং সফরেও কিম ইয়ং চল সঙ্গে ছিলেন৷

এদিকে মার্কিন কূটনীতিক ও কোরিয়া বিশেষজ্ঞ সুং কিম বুধবারও কোরিয়া সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন৷ গত রবিবার থেকে তিনি লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ সিঙ্গাপুরেও এক মার্কিন প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য বৈঠকের কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ সংবাদ সংস্থা এএফপি'র সূত্র অনুযায়ী কিম জং উনের ‘চিফ অফ স্টাফ’ বলে পরিচিত কর্মকর্তা কিম চাং সন-কেও সিঙ্গাপুরে একটি হোটেলে দেখা গেছে৷ মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প-কিম বৈঠক সম্ভব করতে দুই শিবিরেই জোরালো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন